STORYMIRROR

Kakoli Banerjee

Romance Fantasy

4  

Kakoli Banerjee

Romance Fantasy

অপ্সরা

অপ্সরা

10 mins
19

স্বর্গলোকের সমস্ত অপ্সরাদের মধ্যে তিলোত্তমা সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী, তাকে দেখে বাকি অপ্সরারা ঈর্ষা করতো। তার রূপ ছিল মনভোলানোর মতো, তাকে একবার দেখলে চোখ ফেরানো যেতো না এমনি ছিল তাঁর সৌন্দর্য, তিলোত্তমা ছিল চাঁদের অলোর মতো স্নিগ্ধ, গোলাপের পাপড়ির মতো ছিল তাঁর ঠোঁট দুটি, সাদা দুধের মতো ছিল তাঁর গায়ের রং, অমাবস্যার রাতের মতো ছিল তাঁর কালো লম্বা চুল, গাভীর নয়নের মতো তার চোখ দুটি। তাকে যে একবার দেখবে সে মোহিত হয়ে যাবে, এই কারণে বাকি অপ্সরারা তাকে পছন্দ করতো না। সে যেমন ছিল সুন্দর তাঁর মন ছিল তেমনি সুন্দর। একদিন সব অপ্সরারা মিলে ঠিক করে তারা পৃথিবিলোকে যাবে। সেখানে তারা নর্মদা নদীতে জলক্রীড়া করবে, তাই সব অপ্সরারা মিলে তিলোত্তমাকে বলে সে যেন দেবরাজ ইন্দ্রকে রাজি করায়। তারপর সবাই মিলে ইন্দ্রের কাছে যায় দেবরাজ তিলোত্তমার কথায় রাজি হয়ে যায়, তবে তাদের শর্তদেন তারা যেন এক প্রহরের পরেই ফিরে আসে। সকলে দেবরাজের শর্তে রাজি হলে দেবরাজ সকলকে একটি করে হার দেন এই হার পরেই তারা পৃথিবীলোকে যেতে পারবে আর এটা পরেই তারা স্বর্গে ফিরে আসতে পারবে নচেৎ নই। তারপর সকলে মিলে পৃথিবীলোকের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, সেখানে পৌঁছে তারা নর্মদা নদীতে ক্রীড়া করতে শুরু করে দেয়। আর তাদের গলার হার গুলি নর্মদার তীরে রেখে দেয় যাতে ক্রীড়া করতে গিয়ে নর্মদার জলে সেটি হারিয়ে না যায়। তিলোত্তমা সৃষ্টির আগে স্বর্গলোকে সবচেয়ে সুন্দরী অপ্সরা ছিল বাসন্তিকা। তিলোত্তমা তার চেয়ে বেশি সুন্দর হওয়ায় তার তিলোত্তমার উপর খুব রাগ। বাসন্তিকা তার দৈবশক্তি দিয়ে একটি ইঁদুর প্রস্তুত করে সেই ইঁদুরটি তিলোত্তমার গলার হারটি নিয়ে একটি গর্তে প্রবেশ করে, যথারীতি এক প্রহর শেষ হতে আসছিল সকল অপ্সরা তাদের গলার হারটি পরে নেয় কিন্তু তিলোত্তমা তার হারটি কোথাও খুঁজে পাচ্ছিল না। মালবিকা সুলোচনা মিত্রা সকলে মিলে তিলোত্তমার হার খুঁজতে থাকে কিন্তু তিলোত্তমার হার কোথাও পাওয়া যায় না। এক প্রহর শেষ হতেই সকল অপ্সরারা আপনা আপনি স্বর্গের দিকে যেতে থাকে। মালবিকা তিলোত্তমাকে বলে তার হাত ধরে সেও স্বর্গলোকে চলে যাবে, কিন্তু তা হয় না কিছু উপরে উঠতেই মালবিকার হাত ছাড়িয়ে তিলোত্তমা নিচে পড়ে যায়। তিলোত্তমা জোরে জোরে কাঁদতে থাকে এই দিকে তিলোত্তমাকে ছেড়ে তাঁর সখীদেরও যাওয়ার মন নেই। মিত্রা চিৎকার করে বলে চিন্তা করোনা সখী দেবরাজ তোমাকে ঠিক ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

তিলোত্তমা ওখানে বসে বসে কাঁদতে থাকে আর একবার করে চারিদিকে তার হারটি খুঁজতে থাকে। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে আসছিল সূর্য তখনও অস্ত যায়নি, হঠাৎ তিলোত্তমা কারু পায়ের শব্দ শুনতে পায় ভয় পেয়ে সে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। সেই পথ দিয়ে একটা রাখাল ছেলে আসছিল, ছেলেটা লক্ষ করে কেউ যেন দৌড়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। সে সাহস করে গাছের সামনে গেল দেখলো একটা মেয়ে। ছেলেটি জিজ্ঞাসা করে সে কে? কারণ তার পোশাক পৃথিবীলোকের মতো ছিল না। অপ্সরা তাকে সব কথা জানায়, ছেলেটার তার প্রতি মায়া হয় সে বলে আমার নাম শ্যাম আমি এই পাশের গ্রামেয় থাকি আমরা মার সাথে। তুমি যদি চাও তো আজ রাতটা আমাদের ঘরে থাকতে পারো কাল সকালে হার খুঁজে পেলে ফিরে যেও নিজের লোকে।

তিলোত্তমা শ্যামের কোথায় ভরসা পায় এবং তার সাথে যেতে রাজি হয়ে যায়। শ্যামের মা তিলোত্তমাকে দেখে অবাক হয়ে যায় কারণ এর  আগে এতোরূপ সে দেখেনি। শ্যাম তার মাকে সব জানায় শ্যামের মা খুব ভালো মানুষ, তাই সে তিলোত্তমাকে থাকতে দিতে রাজি হয়। রাতে শ্যামের মা তিলোত্তমাকে খেতে দিলে সে হা করে খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে, সে এই সব খাবার কোন দিন চোখে দেখেনি। শ্যাম বলে আমরা খুব গরীব চাষ করে যা রোজগার হয় তাই আমাদের মা ছেলের চলে যায়, তাই এই সামান্য খিঁচুড়ি আর আচার ছাড়া কিছুই তোমাকে দিতে পারলাম না। তিলোত্তমা বলে আমি এই সব খাবার কোন দিন খাইনি আজ প্রথম চোখে দেখলাম। শ্যামের মা কৌতূহলে জিজ্ঞাসা করে তোমরা স্বর্গলোকে কি খাও তাহলে? তিলোত্তমা বলে আমরা স্বর্গলোকে ফল খায় দেবরাজ ইন্দ্রের বাগান নন্দনকানন থেকে আমাদের জন্য ফল আসে আমরা তাই খায়। তার পর সে খিঁচুড়ি খেয়ে ভীষণ খুশি হয়ে যায় তিলোত্তমা জানায় সে এর আগে এত সুন্দর ভোজন কখন খাইনি এ যেনো অমৃত। শ্যাম আর শ্যামের মা খুশি হয়ে যায়, শ্যাম বলে পরের দিন যখন মাঠ থেকে আসবো তোমার জন্য অনেক রকমের সবজি নিয়ে আসবো খেয়ে দেখো কত স্বাদ। তারপর সকলে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন সকালে উঠে তিলোত্তমা দেখে ঘরে কেউ নেই পুরো ঘর খুঁজে দেখে ঘর ফাঁকা, সে ভয় পেয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে কাঁদতে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই শ্যামের মা ঘরে আসে এসে দেখে তিলোত্তমা বসে বসে কাঁদছে। শ্যামের মা জিজ্ঞাসা করে সে কাঁদছে কেনো, তিলোত্তমা বলে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম কাউকে দেখতে না পেয়ে। শ্যামের মা বলে আমি তো পুকুরে গিয়েছিলাম কাল রাতের বাসন ধুতে, আর শ্যামতো ভোর ভোর এই বেরিয়ে যায় মাঠে চাষের কাজে। তিলোত্তমা বলে সেও মাঠে যাবে শ্যামের মা বলে তুমি একা একা যেতে পারবে, তিলোত্তমা বলে পারব। তখন শ্যামের মা তাকে তার একটা কাপড় দেয় পরার জন্য কারণ ও যে সব পোশাক পরে আছে তা দেখলে গ্রামের লোক অনেক রকম কথা বলবে।

তিলোত্তমার হাতে কিছু খাবার দিয়ে দেয় শ্যামের মা যদিও সেই রোজ মাঠে গিয়ে দুপুরের খাবার দিয়ে আসে, আজ যখন তিলোত্তমা যাচ্ছেই তখন ওর হাতেই খাবার দিয়ে দেয়। তিলোত্তমা তার দৈবিশক্তি কাজে লাগিয়ে রাস্তা খুঁজে মাঠে চলে যায়। তিলোত্তমা শ্যামকে দেখতে পেয়ে বলে এই দেখ আমি তোমার খাবার নিয়ে এসেছি। মাঠে আরও অনেক লোক ছিল তারা তিলোত্তমাকে দেখে অবাক হয়ে যায় কারণ তার পোশাক সাধারণ হলেও রূপ স্বর্গীয় ছিল। সকলে শ্যামকে জিজ্ঞাসা করে কে এই মেয়ে? শ্যাম কিছু না ভেবেই বলে দেয় ও আমার স্ত্রী, সবাই অবাক হয়ে যায় কুড়ে ঘরে চাঁদের আলো। সকলের মধ্যে একজন প্রবীণ ব্যাক্তি ছিলেন তিনি তিলোত্তমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলো তোমার কি নাম মা। তিলোত্তমা তাকে বলে আমার নাম তিলোত্তমা। বৃদ্ধ বলে শুনেছিলাম স্বর্গে এক অপ্সরা আছে তিলোত্তমা, যার রূপ মনভোলানো আজ যেন নিজের চোখে দেখলাম, সত্যিই তোমার নাম সার্থক। বৃদ্ধটি অনেকক্ষণ তিলোত্তমার দিকে তাকিয়ে ছিল তারপর শ্যামকে জিজ্ঞাসা করে বৌমা হিন্দুতো। শ্যাম বলে হ্যাঁ হ্যাঁ দাদু কেনো এমন প্রশ্ন করছো? বৃদ্ধ বলে না বৌমা সিঁদুর পরেনিতো তাই অবাক হলাম, নতুন বউ সিঁদুর পরবে নতুন কাপড় পরবে তবে তো মনে হবে। শ্যাম বলে না না দাদু কালই তো বিয়ে হয়েছে নতুন নতুন তাই ভুলে গেছে। বৃদ্ধটি শ্যামের উত্তর শুনে অবক হয়ে যায়। শ্যাম ভাবে আরও যদি কেউ কোনো প্রশ্ন করে তাই সে তিলোত্তমাকে নিয়ে জঙ্গলের দিকে চলে যায়।

জঙ্গলে তিলোত্তমা জিজ্ঞাসা করে সে কি বলছিল তাদের আর বউ কি? শ্যাম বলে একটা ছেলে আর মেয়ের সব নিয়ম মেনে বিয়ে হলে ওই মেয়েটা ছেলেটির বউ হয়ে যায় আর ছেলেটি বর। তিলোত্তমা বলে তুমি মিথ্যা কেনো বললে সবাইকে, শ্যাম বলে আমি যদি মিথ্যা না বলতাম, তাহলে সবাই তোমাকে জোর করে তুলে নিয়ে রাজার কাছে নিয়ে যেত তখন তো আর তোমাকে কখন দেখতে পেতাম না। তিলোত্তমা মনে মনে খুশি হয় সেও শ্যামকে ভালোবেসে ফেলেছিল। শ্যাম বুঝতে পারে সে ভুল বলে ফেলেছে সে তখন বলে আমি আসলে বলতে চাইছিলাম, রাজা কাছে যদি তোমাকে নিয়ে যায় আর রাজা যদি জানতে পারে তুমি অপ্সরা তাহলে রাজা তোমাকে কখন স্বর্গে ফিরতে দেবে না। আর তোমাকে বিয়ে করে রাজপ্রাসাদে আটকে রাখবে, তখন তুমি আর তোমার আপনজনদের কাছে ফিরতে পারবে না। তিলোত্তমা কিছু উত্তর দেয় না শুধু মনে মনে হাসতে থাকে।

সন্ধ্যা হওয়ার আগে তারা ঘরে ফিরে আসে এসে দেখে তাদের ঘরে পুরো গ্রাম এসে উপস্থিত, সকলে শ্যামের মাকে বলে ছেলের বিয়ে দিয়ে দিলে গ্রামের লোক ডাকলে না। কোন প্রমাণ তো নেই এই বিয়ের আবার তুমি ছেলের বিয়ে দাও, আর সকলকে নিমন্ত্রণ করে ভোজ খাওয়াও, তবেই এই বিয়ে গ্রামের লোক মানবে। শ্যামের মা তো কিছুই বুঝতে পারছিল না তারপর শ্যাম ঘরে ফিরলে সে তার মাকে চুপি চুপি সব বলে মাঠে যা হয়েছে। শ্যামের মা বলে এবার কি হবে, আমরা যদি রাজি না হইতো এরা তো আমাদের গ্রাম ছাড়া করবে, আর এত সাধারণ মেয়ে না। তিলোত্তমা বলে সে বিয়ে করবে আর সে শ্যামের পরিবারের সাথেই থাকবে কখন ফিরে যাবে না। তিলোত্তমার কথা শুনে শ্যামের মা রাজি হয়ে যায় আর গ্রামের লোকদের বলে সে ছেলের আবার বিয়ে দেবে। শ্যামের সাথে তিলোত্তমার কিছুদিন পর বিয়ে হয়ে যায় গ্রামের লোকদেরও ভোজ খাওয়ানো হয়। দেখতে দেখতে ভালোই কাটছিল সব, তিলোত্তমাও তার সংসারে খুশি সেও আর ফিরে যেতে চায় না স্বর্গে। এদিকে দেবরাজ যখন জানতে পারেন তিলোত্তমা স্বর্গে ফিরে আসেনি তিনি খুব রেগে যান। অপ্সরাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা যা দেখেছিল সেটাই বলে। কিন্তু দেবরাজের তাদের কথা বিশ্বাস হয় না তিনি ভালো করেই জানতেন তিলোত্তমাকে সবাই হিংসা করে। দেবরাজ দৈবিবলে সব দেখতে পান তারপর রেগে গিয়ে তিনি বাসন্তিকাকে কুৎসিত করে দেন। এরপর তিনি তিলোত্তমাকে ফিরিয়ে আনতে যান। ইন্দ্র সেখানে গিয়ে দেখেন তিলোত্তমা সেখানে সাধারণ মানুষদের মতো সংসার করছে, তিনি তিলোত্তমার সামনে গিয়ে তাকে জানায় তিনি তাকে স্বর্গে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছেন। তিলোত্তমা ইন্দ্রের কথা শুনে কাঁদতে থাকে সে বলে সে আর স্বর্গে যেতে চাই না। সে পৃথিবীলোকে বিয়ে করে সংসার করছে আর সে তার স্বামীর সাথেই থাকতে চাই। প্রথম দিকে ইন্দ্র তাকে অনেক ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, পৃথিবীলোকে অনেক কষ্ট এখানে বেঁচে থাকা অনেক কঠিন সে স্বর্গের অপ্সরা তাকে এখানে মানাই না, স্বর্গ তার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু তিলোত্তমা কিছুতেই রাজি হয় না। রাজি না হলে ইন্দ্র রেগে গিয়ে তাকে দৈবিবলে স্বর্গে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

শ্যাম মাঠে গিয়েছিল আর শ্যামের মা পুকুর পাড়ে শ্যামের মা ফিরে এসে দেখে তিলোত্তমা ঘরে নেই, সে ভাবে বাইরে কোথাও গেছে কিন্তু তিলোত্তমা অনেকক্ষণ ঘরে না ফিরলে তখন শ্যামের মা পুরো গ্রাম খুঁজে দেখে। কিন্তু তিলোত্তমাকে খুঁজে পায়না। সন্ধ্যার আগে যখন শ্যাম মাঠ থেকে ফিরে আসে তখন শ্যামের মা তাকে সব জানায়। শ্যাম সব শুনে ওখানেই লাঙল ফেলে দিয়ে তিলোত্তমাকে খুঁজতে থাকে। দেখতে দেখতে ছয় মাস হয়ে গেল কিন্তু তিলোত্তমার কোন খোঁজ নেই। এই দিকে গ্রামের লোক জানতে পেরে গিয়েছিল সে অপ্সরা ছিল। সকলে মিলে শ্যামকে বোঝায় তাকে ভুলে যেতে সে অপ্সরা আবার স্বর্গে ফিরে গেছে। কিন্তু শ্যামের মন মানে না সে মাঠের কাজ ফেলে এই গ্রাম ওই গ্রাম তিলোত্তমাকে খুঁজে বেড়ায়, কিন্তু আর কোথাও তাকে পাওয়া যায় না।

এই দিকে তিলোত্তমা আর আগের মতো সাজসজ্জা করে না, গান করে না, নাচ করে না শুধু এক জায়গায় বসে কাঁদতে থাকে। দিন দিন তার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছিল এই কথা দেবরাজের কানে পৌঁছাতেই, তিনি প্রথমদিকে তিলোত্তমাকে অনেক শাস্তিও দিয়েছেন কিন্তু সে কিছুতেই শ্যামকে ভুলতে পারে না। অবশেষে দেবরাজ তাকে পৃথিবীলোকে যাওয়ার অনুমতি দেন। তিলোত্তমা খুব খুশি হয়ে যায় দেবরাজ তাকে সেই হারটি দেয় কারণ সে যদি আবার আসতে চাই তো এই হারটির মাধ্যমে আসতে পারবে। তিলোত্তমা সেই নর্মদার তীরে উপস্থিত হয়, সে সেখানে গিয়ে দেখে সবকিছু পাল্টে গেছে আগের মতো আর কিছু নেই। তারপর সে শ্যামের ঘরের দিকে যায় গিয়ে দেখে উঠোনে চারটি বাচ্চা খেলছে, একজন বৃদ্ধা মহিলা সবজি কাটছে দুইজন বউ রান্না করছে। সে কিছুই বুঝতে পারে না কে এরা কেনো তাদের ঘরে আছে আর শ্যাম তার মা কোথায়, তারা কি তাকে না পেয়ে কোথাও চলে গেছে। হঠাৎ পেছন দিক থেকে একটা চেনা কণ্ঠস্বর এলো, এতদিন পর কেনো এসেছো এখানে। তিলোত্তমা পেছন ঘুরে দেখে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক তিলোত্তমা তাকে জিজ্ঞাসা করে শ্যাম আর তার মা এর সম্পর্কে। ভদ্রলোক মৃদু হেসে বলেন আজ নিজের ভালোবাসার মানুষকেই চিনতে পারছো না, কি করেই বা চিনবে এখন আমি বৃদ্ধ আর তুমি আগের মতোই সুন্দরী।

তিলোত্তমা অবাক হয়ে যায় তার ভালোবাসার মানুষকে সে আর চিনতে পারছে না, কারণ তার শরীর থেকে যৌবন আজ ছুটি নিয়েছে এসেছে বার্ধক্য। তিলোত্তমা বুঝতে পারে স্বর্গলোকের আর পৃথিবীলোকের সময় আলাদা তাই তার আসতে যেটুকু সময় লেগেছে, তাতেই এখানে অনেক এখানে অনেক বছর কেটে গেছে। তিলোত্তমা শ্যামকে সব জানায় তাকে কীভাবে স্বর্গে ফিরতে হয়েছিল। আর সে শ্যামকে এও বলে সে যেন তার সাথে স্বর্গলোকে ফিরে যায়, তাকে সে আবার দৈবিবলে যৌবন ফিরিয়ে দেবে। সেখানেই তারা সুখে সংসার করবে। কিন্তু শ্যাম রাজি হয় না শ্যাম বলে সে তার অপেক্ষা করতে করতে পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল, তারপর অনেক কবিরাজ দেখিয়ে যখন সে সুস্থ হয় তখন তার মা তাকে কাবেরী নামের একটি মেয়ে সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। উঠোনে যে সবজি কাটছে সেই তার স্ত্রী কাবেরী, তাদের দুটি পুত্র সন্তান হয়েছে এখন তারা বড়ো হয়ে গেছে তাদের বিয়ে হয়ে সন্তানও হয়ে গেছে। যে দুটি বউ ওখানে রান্না করছে তারা তার পুত্রবধূ, আর এই বাচ্চা গুলো তার নাতি। তার এখন ভরা সংসার তাই সে তার সাথে যেতে চাই না। তাছাড়া তার এখন বয়েস হয়েছে আর খুব জোর কয়েক মাস বাঁচবে তাই সে যেন একাই ফিরে যায় স্বর্গে। তিলোত্তমা মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে স্বর্গে ফিরে আসে তারপর আবার সে আগের জীবন কাটাতে থাকে।

একদিন দেবরাজ ইন্দ্র তিলোত্তমাকে ডেকে পাঠান তিলোত্তমা সেখানে গেলে দেবরাজ তাকে একজনের সঙ্গে পরিচয় করান। তিলোত্তমা তাকে দেখে অবাক হয়ে যায় এ যে সেই রূপ সেই চেহারা, শুধু যেন স্বর্গীয় ছোঁয়া তার মধ্যে। দেবরাজ বলেন তোমার ভালোবাসা অমর হয়েছে তাই শ্যাম পৃথিবীলোকে শরীর ত্যাগ করে স্বর্গলোকে জন্ম পেয়েছে, সে এখন স্বর্গের বাদ্যকার তারা আবার আগের মতো এক সাথে থাকতে পারবে। তিলোত্তমা বলে কিন্তু সে তো আমার সাথে আর থাকতে চাই না। বাদ্যকার বলে তুমি যখন আমাকে স্বর্গে আসতে বলছিলে তখন আমার সময় হয়নি। পৃথিবীতে আমার স্ত্রী, পুত্র সংসার ছিল আমি তাদের ওই ভাবে ত্যাগ করে আসতে পারি না আমার তাদের প্রতি দায় রয়েছিল, এখন আমি এক


নতুন জীবন এখন আর কোন পুরোনো আমার মধ্যে নেই। আমি সেই পুরোনো শরীরের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু ত্যাগ করে নতুনের পথে চলতে শুরু করেছি। এখন আমি স্বর্গের বাদ্যকার সূরসেন তুমি যদি চাও তো আমাকে এইরূপে তোমার স্বামী হিসাবে গ্রহণ করতে পারো। তিলোত্তমা তার হারানো ভালোবাসা ফিরে পেয়ে ভীষণ খুশি। তারপর স্বর্গীয় রীতি মেনে তাদের বিবাহ হয় আর তারা স্বর্গে তাদের সংসার নতুন করে করতে থাকে।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance