প্রাপ্য পর্ব-২
প্রাপ্য পর্ব-২
২.
হঠাৎ ধবধবে সাদা পোশাক পরা এক লোক মহিন চৌধুরীর কাঁধে হাত রেখে বলল, স্যার কোন সমস্যা, আমি কি কোন ভাবে আপনাদের সাহায্য করতে পারি ??
মহিন চৌধুরী ঘুরে দেখতেই বুকের মধ্যে ধুপ করে উঠল। ধবধবে সাদা একটা জুব্বা পরা, ২৪/২৫ বছর বয়সের ইয়াং একটা ছেলে, ছেলেটার গায়ের রং উজ্জ্বল ফর্সা,মুখ ভর্তি চাপা দাড়ি। হঠাৎ করে এমন পরিবেশে কেউ একজন হাজির হবে, তিনি মোটেও আশা করেনি। মানুষের চিন্তা বাইরে কিছু ঘটলে মানুষ চমকে যায় বা আশ্চর্য হয়। তিনিও চমকে গেছেন। তিনি একটু বিরক্ত হয়ে বলল, ধুর মশাই কথা নেই বার্তা নেই আচমকা এসে কাঁধে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করেন কোন সমস্যা না কি??ভয়ে আমার কলিজা কেঁপে উঠেছে।
- আমার মনে হলো আপনারা বিপদে পড়েছেন, তাই মানবিকতার কারণে এসে জিজ্ঞেস করছি। হাজার হলেও তো মানুষ। কারও বিপদে দেখে চলে যেতে পারি না। তারপর আবার গ্রামে মানুষ, ইট-পাথরের শহরের কংক্রিটের মানুষ না, কেউ বিপদে পড়েছে দেখেও, আমরা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারি না। তাই চলে যাবার পথে আবার ফিরে এলাম।
- তাই বলে এমন করে ভুতের মত আসতে হবে, কোন কথা নেই বার্তা নেই পেছন থেকে ভুতের মত হাজির?
- আমার অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিক দুঃখিত। আমি বুঝতে পারিনি আপনি চমকে যাবেন।
ড্রাইভার আবজাল বলল, সত্যিই কি আপনি মানুষ?? আপনাকেই তো কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় দেখছিলাম, হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গেলেন??
ছেলেটা হাসতে হাসতে বলল, ও এই ব্যাপার, ভুতের কি ছায়া থাকে?? গাড়ি হেড লাইটের আলোয় ছেলেটার যে ছায়া পড়েছে সেটা দেখিয়ে বলল, এই যে আমার ছায়া। আমি সত্যিই মানুষ, আমার নাম আরিয়ান, আমার বাড়ি পাশের গ্রাম জগন্নাথপুরে।
ছেলেটার কথা বার্তায় মনে হচ্ছে ছেলেটা ভদ্র ঘরের শিক্ষিত ছেলে। কথা বার্তায় বিনয়ী ভাব স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
- আবজাল বলল তাহলে হঠাৎ করে কোথায় উধাও হয়ে গেলেন??
- সে কথা পরে বলছি, আপনারা এত রাতে কোথায় যাবেন??
- মহিন চৌধুরী বলল আমরাও জগন্নাথপুর যাবো।
- জগন্নাথপুরের কোথায় যাবেন??
- রিটায়ার্ড এসপি হারুনের বাড়ি যাবো, তিনি সম্পর্কে আমার দুলাভাই হয়।
- ও মা তাই বুঝি, আপনারা হারুন আঙ্কেলের বাসায় যাবেন, তাহলে এই পথে কেন এসেছেন, পেছনে যে চার রাস্তার মোড় রেখে এসেছেন ঐ চার রাস্তার মোড় থেকে ডানে রাস্তা ধরে গেলে সহজে পৌঁছে যেতেন। আপনাদের গাড়ির চাকা যে ভাবে কাঁদায় আটকে গেছে মনে হয় না এভাবে উঠবে। আপনারা চাইলে আমার সাথেও যেতে পারবেন। আমার বাড়ি আঙ্কেলদের বাসার পাশেই।
রাইসা বলল তার কোন দরকার নেই, আপনাকে আমরা চিনি না, জানি না, আপনি এসে বললেই কেন আপনার সাথে যাবো??
- সে আপনারা না যেতেই পারেন, আকাশকে নিশ্চয়ই চেনেন, হারুন আঙ্কেলের একমাত্র ছেলে। আকাশ আমার খুব ভালো বন্ধু, এই বিশ্বাস নিয়ে নিশ্চয়ই আমার সাথে যেতে পারেন। আমি আপনাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিবো?? আপনারাতো আমাকে আকাশের কথা বলেননি।
- একজন রিটায়ার্ড এসপির ছেলের নাম যে কেউ বলতে পারবে,একজন সম্ভ্রান্ত লোকের ছেলের নাম জানাটা কঠিন কোন বিষয় নয়।
আকাশ ভাইয়ের নাম বললে এমন কোন বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন হয় না ,যে আমরা ধরে নিবো সে আপনার বন্ধু, এটা কোন যুক্তি আছে বলে আমার মনে হয় না ??
- মনে হচ্ছে আপনি অনেক বেশি যুক্তিবাদী মানুষ, যুক্তি দিয়ে সব সময় জীবনের সব সূত্র মেলানো যায় না। আর মেলানোও ঠিক না, এখন যুক্তিতর্কের বেড়া জালে নিজেকে আটকালে সারারাত এখানেই থাকতে হবে।
- যুক্তি ছাড়াও জীবনের সূত্র মেলাতে গেলে তার পরিণতি খারাপ হতে পারে।
এটা অবশ্য খারাপ বলেননি, আমি আপনার সব কনফিউশন ক্লিয়ার করে দিচ্ছি। আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। একটু দাঁড়ান আমি বরং আকাশকে কল করছি।
আরিয়ান পকেট থেকে ফোন বেরিয়ে আকাশকে কল করল। আকাশ ফোন রিসিভ করল না, সে পুনরায় আবার কল করতেই আকাশ ফোন রিসিভ করল, হ্যা আরিয়ান বল।
আজ শহর থেকে তোদের কোন আত্মীয় আসার কথা ছিল??
আকাশ একটু উত্তেজিত হয়ে বলল, হ্যা হ্যা, আসার কথা ছিল কিন্তু এখনো এসে পৌছায়নি। এদিকে আম্মা খুব টেনশনে করছে। কিন্তু হঠাৎ তুই ফোন করে একথা জিজ্ঞেস করছিস কেন??
- কাকিমাকে বল টেনশন করার দরকার নেই, তাদের সাথে আমার দেখা হয়েছে, উনারা ভুল করে রাসুলপুরের রাস্তায় ঢুকে পড়েছিল। উনাদের গাড়ি চাকা কাঁদা ফেঁসে গেছে।
- মামা কোথায়? মামার কাছে ফোনটা দে তো।
আরিয়ান ফোনটা মহিন চৌধুরীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল ধরুন কথা বলুন।
মহিন চৌধুরী বাধ্য ছেলের মত ফোনটা নিয়ে কানে ধরে বলল হ্যালো।
- মামা তোমাদের কখন থেকে কল করার চেষ্টা করছি, তোমার আর রাইসার ফোনে কল ঢুকছেই না আর মামির ফোনে কল ঢুকলেও রিসিভ করছে না, বিষয়টা কি বলোতো ?? আম্মা কত টেনশন করছে, তোমার বোনের প্রেসার হায় হয়ে যাবার উপক্রম। বারবার বলছে মহিনের কোন বিপদ আপদ হলো কি না, ওর আর রাইসার ফোন একসাথে বন্ধ থাকবে কেন? তোর মামিও ফোনটা ধরেছে না।
- টেনশন করার কিছু নেই, আমাদের দুজনের ফোনে কোন নেটওয়ার্ক সিগন্যাল নেই, কোন এলাকায় ঢুকে পড়েছি এয়ারটেলের কোন সিগন্যালই পাচ্ছে না। তোর মামির ফোন তাড়াহুড়ো করে বের হবার কারণে বাসায় রেখে চলে আসছে। আমরাও অনেকক্ষণ তোদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কিন্তু পারছিলাম না।
- ঐ গ্রামে এয়ারটেলে নেট খুব কম পায়, যাই হোক আরিয়ানের সাথে দেখা হয়ে ভালো হয়েছে, যেখানে আছো ওখানে গাড়ি রেখে তোমরা আরিয়ানের সাথে চলে আসো, সকালে লোক পাঠিয়ে গাড়ি আনিয়ে নিবো। আমি আম্মাকে বলছি তোমাদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। আমিও এগিয়ে আসছি।
মহিন চৌধুরী ফোনটা আরিয়ানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল ধন্যবাদ ইয়াং ম্যান।
আরিয়ান একটু মুচকি হাসল।
আবজালে মনে এখনো সংশয় কাজ করছে, সত্যিই কি আরিয়ান মানুষ?? মানুষ হয়ে থাকলে হঠাৎ চোখের পলকে কোথায় উধাও হয়ে কোথায় গেলো, আবার কোথা থেকে উৎপত্তি হলো।
আবজালের মনে এখনো সংশয় কাজ করছে, সত্যিই কি আরিয়ান মানুষ?? মানুষ হয়ে থাকলে হঠাৎ চোখের পলকে কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছিল, আবার কোথা থেকে বা উদয় হলো।
আবজাল, আরিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলল ভাইজান আপনি তো বললেন না, হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেলেন আবার কোথা থেকেই বা আসলেন ।
-তোমার পেছনে একটা ঘন জঙ্গল আছে, জঙ্গলে ঐপাশে জগন্নাথপুর। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ছোট একটা রাস্তা আছে , ওটা হচ্ছে জগন্নাথপুর যাওয়ার শর্টকাট রাস্তা। আমি মেইন রাস্তা থেকে ওই জঙ্গলের রাস্তায় নেমে গিয়েছিলাম, কেন জানি মনে হলো তোমাদের গাড়ি রাস্তায় কাঁদায় আটকে গেছে, তোমরা বিপদে পড়েছে মনে করে আবার এদিকে এসেছি।
রাইসা বলল জঙ্গলের মধ্যের রাস্তা ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই??
- আছে, সেই রাস্তা ধরে গেলে অনেক ঘুরে যেতে হবে। যদি ঘুরে যেতে চান তাহলে এই রাস্তা ধরে আবার পিছনে দিকে চার রাস্তার মোড় পর্যন্ত যেতে হবে, সেখান থেকে ডানে রাস্তা ধরে আরও পাঁচ/ ছয় কিলো যেতে হবে।
মহিন চৌধুরী বলল, জঙ্গলের মধ্য দিয়ে গেলে??
- সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার। আর এই কারণে আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ এদিক থেকে গ্রামে যাবার সময় এই জঙ্গলের পথ ধরে যায়।
-তাহলে এখানে দাড়িয়ে থেকে লাভ নেই, রাত অনেক হয়েছে, এবার এগোনো যাক।
রাইসা বলল আব্বু তুমি এই জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যাবে??
- কোন উপায় নেই মামনি, আকাশের সাথে কথা হয়েছে, আকাশ বলল আমাদের নিতে এগিয়ে আসবে ।
ঘুটঘুটে অন্ধকারে ফোনের টর্চের আলোয় চারপাশ তেমন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। সরু রাস্তা, দুপাশে ছোট ছোট লতা-পাতা গাছে বৃষ্টির পানি জমে আছে। মনে হচ্ছে সেই জমা পানি ওরা ইচ্ছে করে পায়ে ছিটিয়ে দিচ্ছে। সামনে আরিয়ান, তার পেছনে রাইসা ও তার আম্মু, পেছনে আবজাল আর মহিন চৌধুরী, মিলিটারিদের মত লাইন ধরে সবাই এগিয়ে চলছে। ঝিঁঝি পোকা ডাকে যেন কান ধরে যাচ্ছে। রাইসা আরিয়ানকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করল, এটা কিসের ডাক?
আরিয়ান বলল এটা ঝিঁঝি পোকার ডাক। বৃষ্টি হলে ওরা বেশি ডাকে।
-আমাদের বাসায় পৌছাতে কত সময় লাগতে পারে??
-সেটা নির্ভর করবে আমাদের হাটার গতির ওপর, এভাবে হেটে গেলে ২০ থেকে ২৫ মিনিট, সর্বোচ্চ ত্রিশ মিনিট লাগতে পারে ।
মহিন চৌধুরী জিজ্ঞেস করল, তুমি এত রাতে কোথায় থেকে ফিরছ??
আজ বিকালে আমার এক বন্ধুর দাদি মারা গিয়েছে, সেখানেই গিয়েছিলাম। ঘন্টাখানেক আগে মাটি হলো।
- তা তোমার পরিবারের কে কে আছে??
- মা, আর ছোট ভাই।
- তোমার বাবা??
-বাবা বছর দুই হল মারা গেছে, ব্লাড ক্যান্সার হয়েছিল।
-তুমি কি করো??
-আমাদের চাষের জমি আছে, বাবা বেঁচে থাকতে তিনি ওগুলো চাষাবাদ করতেন। বাবার মৃত্যুর পরে সেগুলো আমি চাষাবাদ করি। বলতে পারেন কৃষি কাজ করি ,আর একটা ডেইরি ফার্ম আছে !
- লেখা পড়া কত দূর করেছ??
- কোন রকম হিসাব নিকাশ করতে পারি।
রাইসা কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, কি এসএসসি পাশ, না কি সেটাও হয়নি??
আরিয়ান কোন কথার উত্তর দিল না, শুধু একটু মৃদু হাসল। সেটা কেউ দেখতে না পেলেও বোঝা গেল, তার মুখে একটা হাসির রেখা ফুটেছিল।
মহিন চৌধুরী রাইসাকে উদ্দেশ্য করে বলল এভাবে কথা বলতে হয় না মামনি! ছেলেটা খুবই ভালো, আমরা বিপদে পড়েছি দেখে আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে। ও না আসলে আমাদের কি যে হতো??
রাইসা ফিসফিস করে বলল, আব্বু তুমি এখনো ব্যাক ডেটের রয়ে গেলে, সহজে মানুষকে ভালোর সার্টিফিকেট দিয়ে দাও। একটা মানুষ ভালো কি মন্দ, সেটা কি এত সহজেই চেনা যায়?
মহিন চৌধুরীও ফিসফিস করে মেয়ের কথার উত্তর দিল,চেনা যায় কি যায় না সেটা পরের বিষয়, এখন তো সে আমাদের উপকার করছে, তার কাছে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
- এমন উপকার আমরা সচারাচর একে অন্যকে করে থাকি, এমন কোন মহান কাজ সে করেনি যার জন্য তোমার তার কাছে কৃতজ্ঞতার ঝুড়ি নিয়ে বসে থাকতে হবে।
আরিয়ান স্বভাব সূলভ হেসে বলল, কিছু মনে করবেন না স্যার, আপনাদের কথার মধ্যে কথা বলছি, উনি কিন্তু ঠিক কথাই বলছে, কাওকে এত সহজে ভালোর সার্টিফিকেট দেওয়া ঠিক না, পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল ও কঠিন কাজ মানুষ চেনা। আর সত্যিই তো আমি কি এমন করলাম, যার জন্য কৃতজ্ঞ থাকার কথা উঠছে।
মহিন চৌধুরী লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, তুমি ওর কথায় কিছু মনে করো না বাবা ,আমার মেয়ের মনটা খুবই ভালো, আমার মেয়ে বলে বলছি না, ওর মত মনের মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। কিন্তু কিছুদিন হলো একটা সমস্যার কারণে ও সবার সঙ্গেই এমন করে কথা বলেছে।
আরিয়ান হেসে উত্তর দিল, না না কিছু মনে করব কেন?? উনি মনে করার মত কিছু বলেননি, তাছাড়া আপনারা আমাদের অতিথি , আপনাদের সম্মান করা, আপনাদের ভালো মন্দের খেয়াল রাখাই আমাদের কর্তব্য বরং আমি কিছু ভুল বলে থাকলে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
হঠাৎ করে পাশের ঝোপ থেকে একটা শিয়াল সামনে দিয়ে দৌড় দিল, আরিয়ান দাঁড়িয়ে গেলো, সবাই কিছুটা ভয় পেয়েছে , রাইসা ভয় পেয়ে আরিয়ানের হাত ধরে বসলো।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
প্রিয় পাঠক/পাঠিকা,
আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার মত ক্ষুদ্র মানুষের লেখাটা পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনার অনুপ্রেরণা আমার লেখার শক্তি, আমার বিনীত অনুরোধ আমাকে অনুসরণ করে আমার পাশে থাকবেন এবং আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আপনার সাথে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দিবেন। এই লেখাটা আপনার কাছে কেমন লাগলো, আপনার মূল্যবান মতামত পেশ করবেন জানাবার অনুরোধ রইল ।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

