STORYMIRROR

Sahanaj Begum

Romance

4  

Sahanaj Begum

Romance

তোমার আশেপাশে থাকলে প্রেম প্রেম গন্ধ আসে

তোমার আশেপাশে থাকলে প্রেম প্রেম গন্ধ আসে

18 mins
3

এখন সকাল সাড়ে আটটা। আইভি লতার চাচা মফিজুর রহমানের বিয়ে। তেমন বড় করে বিয়ে না ‌ কারণ তিনার আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল দুই মাস হলো ডিভোর্স হয়েছে। ছেলের প্রথম স্ত্রী চলে যাওয়ায় একেবারে মন থেকে ছেলেকে ভেঙে পড়তে দেখে খুব দ্রুতই বিয়ে ঠিক করলেন আইভি লতার দাদাজান মির্জা মোশতাক । আর এই বিয়েটা ঠিক করতে সাহায্য করেছেন আহমেদ পরিবার মির্জা মোশতাক এর বড় ছেলের বিশ্বস্ত বন্ধু  এবং দূর সম্পর্কের ফুফাতো ভাই ইফতেখার আহমেদ ।বিয়েটা সেরকম বড়সড়োভাবে হচ্ছে না তবুও যথাসম্ভব আয়োজন করেছেন এই মির্জা পরিবার। মির্জা পরিবার সম্ভ্রান্ত পরিবার হওয়া সত্বেও তেমন দাস দাসী  দেখা যায় না। এই বাড়ির কর্তা  মির্জা মোশতাক  জানিয়েছেন বাড়ির বাইরের পরপুরুষ তেমন একটা রাখার দরকার নেই শুধুমাত্র গোয়াল ঘরের গরু দেখাশোনা করার জন্য অথবা এরকম আরো ছোটখাটো কাজের জন্য কয়েকজন থাকবে। তবে তারা সময়ের জন্য আসবে সময় পার হয়ে গেলে অর্থাৎ তাদের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পরে তারা  নিজ নিজ বাড়ি চলে যাবে । তাদের আর কোন কাজ নেই। কাজ বলতে এগুলোই - গরুর খড় কাঁটা গরুকে খেতে দেওয়া ,আবার বাড়িঘর পরিষ্কার করা বাগান বাড়ি পরিষ্কার করা এইরকম ।আর এখন সমাজ আধুনিক হওয়ার কারণে তেমন একটা আগের রূপ ধরে রাখেনি এই মির্জা পরিবার আধুনিকতায় চলে এসেছে তাই  অতীতের ঐতিহ্যবাহী জিনিস কে তারা বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে। তবে বাড়ির কর্তা কর্তী শুধুমাত্র তাদের প্রিয় কিছু জিনিস রেখে দিয়েছে এই বাড়িতে। বাড়ির লোক সংখ্যা মোট সাতজন। বাড়ির কর্তা, মির্জা মোশতাক তিনার স্ত্রী বেগম রাশেদা খাতুন তাদের দুই ছেলে বড় ছেলে আনিসুর রহমান  স্ত্রী লুৎফুন নাহার এবং তাদের এক মেয়ে আইভি লতা বয়স ২০  বছর এক ছেলে লুৎফর রহমান বয়স ১৭ বছর । আর ওদের চাচা মফিজুর রহমান। সকলে গাম্ভীর্যপূর্ণ লোক হলেও বাড়ির ছোট দুইজন একেবারেই উল্টো। কেউ দরজা বন্ধ করতে বললে দরজা খুলে চলে যাবে, উঠতে বললে বসবে। এইরকম তারা দুজনে, আর ভাই বোন তাদের মিল তো দূরের কথা কোন সময় ঠিক ভাবে কথাও হয় না। আর কথা হলে এক সেকেন্ডও পার হবে না লেগে যাবে চুল ছিড়া ছিড়ি লাথি মারামারি । এক কথায় দুজন দুজনের সাত জন্ম আগেকার শত্রু।  আজকের  বিয়েটা ছোট হলেও বাড়ির সকলকে ঠিকমতো পোশাক আশাক পড়তে হবে যতই হোক বাড়িটাতে মেহমানরা আসবে হয়তো অনেক জন নয় তারপরেও তো আসবে । সবাই ঠিকমতো তৈরি থাকলেও এই ভাই বোন ।ভাইয়ের তো পাত্তাই নাই মনে হয় গুজরাট চলে গেছে, সকাল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না  আর মেয়ে ,তাকে এখন তার আম্মু চিৎকার করছে। তারপর ও তার কোন হেলদোল নেই এখনো নিজের ঘরেই আছে নিচে একবারও নামেনি ।লুৎফুন নাহার আর থেমে থাকলে না সোজা একটা ঝাড়ু হাতে নিয়ে চলল মেয়ের রুমের দিকে বাড়িটা দুই তলা বিরাট বড় বাড়ি না তবুও অনেকটাই বড়, তবে আগে বাড়িটা অনেক বড় ছিল যখন নতুন করে বাড়িটা করা হয় তখন বাড়ির কর্তারা জানিয়েছেন ফালতু বেশি বড় বাড়ি করে কোন কাজ নেই। বরং সেই জায়গাটা  আমাদের অন্য কাজে লাগানো যাবে । বাড়ির নিচে তলায় বাড়ির কর্তা কর্তী থাকেন এবং উপরের তলায়  বাড়ির আরো অন্যান্য যতজন আছে সবাই থাকে । উপরের তলায় দশ বারোটা রুম আছে তার মধ্যে ৫-৬টা রুম ফাঁকা পড়ে আছে তবে আজ আত্মীয় স্বজনদের জন্য একটু ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে রুমগুলো। অনেকজন আসবে না তারপরও ১৫ থেকে ২০ জন আসবে।  প্রধান অতিথি হিসেবে  আসবে দুটো পরিবার( ১) বউ এর সঙ্গে তার আত্মীয় স্বজনরা আসবে অনেক জন নয় ৩ থেকে ৪ জন আসবে।  (২)আর যারা বিয়েটা ঠিক করেছে অর্থাৎ ঘটক তালি করেছে সেই সুবাদে নববধূর দূর সম্পর্কের আত্মীয় আর মির্জা বাড়ির বিশ্বস্ত হওয়ায় সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবার আহমেদ বংশের লোকজন উপস্থিত থাকবেন। ‌ ফোন করে জানা গিয়েছে যে প্রায় এগারো অথবা বারোটাতে তারা   তারাপুরে হাজির হবে। তারাপুরের নামকরা একটা সম্ভ্রান্ত মোড়ল বাড়ি হচ্ছে এই মির্জা পরিবার ।লুৎফুন নাহার মেয়ের ঘরে প্রবেশ করেই ধমকের স্বরে চিৎকার করে উঠলেন ,
" তোর কি জীবনেও বোধ বুদ্ধি হবে না বেহায়া মেয়ে জানিস আমার পায়ে ব্যথা আছে সহজে আমি দোতলায় উঠি না তোর জন্য উঠতে হল আজকের দিনটাকেও কি তোর আর পাঁচটা দিনের মতো ভাবতে হবে ,আজ বাড়িতে মেহমান আসবে, তো তুই গোসল করবি না একটু ভালোভাবে জামা পড়ে চুল আঁচড়িয়ে পরিপাটি হবি না আহমেদ বাড়ির লোক আসবে, তোর দিকেও তো নজর দিবে তখন কি বলবে? আমরা কি তোকে জামা কাপড় দিইনি নাকি, আলমারিতে মনে হয় হাজার হাজার জামা কাপড় আছে ,আবার তোকে চাচার বিয়ের জন্য নতুন করেও কিনে দেওয়া হল সেগুলো কি তুই নিজে নিজে দেখার জন্য কিনেছিস ফালতু মেয়ে ,দু ঘন্টা পরে মেহমান আসবে তখন কি আমি আর আসতে পারবো মেহমানদের খাতির করতে হবে না , তোকেও তো একটু যাওয়া উচিত তাদেরকে একটু  শরবত দিবি । তুই তো জানিস সব পরিচিত মানুষ আসবে ।সব সময় শুধু পাগলের মত থাকে, বলে কিনা পাগলের মতো থাকলে নাকি কেউ পছন্দ করবে না , আর বিয়ে করতেও হবে না ,আরে তোর কি বিয়ে করতে হবে না কুড়িটা বছর হয়ে গেছে ১৮ বছরে মেয়ের বিয়ে দিতে হয় বুঝলি তোর দাদি তো তোকে দেখতেই পারে না সে তো বলে মেয়ে মানুষের নাকি ১২-১৩ বছরের বিয়ে হয়ে যায় আর সেখানে বুড়ি হচ্ছে দিন দিন শোন তোর চাচার বিয়ে হয়ে গেলে খুব জলদি তোকেও বিদায় করব ।"
বাস আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে লতা চিৎকার করে উঠলো ,
"আম্মু একদম সকাল সকাল বিরক্ত করবে না এমনিতেই রাগে মাথা আমার আগুন হয়ে টগবগ করে ফুটছে বাড়িতে লোকজন আসা আমার একদম পছন্দ না , শুধুমাত্র পরিচিতরা আসবে তাই চিন্তা মুক্ত হয়ে  আছি, সারাদিনে তোমাদের কাজ হচ্ছে আমার ঘরে শুধুমাত্র টাইম মতো খাবার  পৌঁছে দেওয়া ব্যাস্ আমি ঘর থেকে বার হব না। কেউ জানতেই পারবে না যে আমি বাড়িতে আছি । আর বিয়ে তাও আবার আমি তোমার মাথার সমস্যা হয়েছে। আমাকে কি বাড়ির জিনিস পেয়েছো যে বার করে দিব বললে আর  চলে পেলাম । এই বাড়িতেই থাকবো আমি। দেখি কে সরাও আমাকে" 
উত্তরে লতার মা রেগে বললেন,
"শোন  তোর এত ফালতু বকবক শোনার আমার কোন ইচ্ছা নেই আজ তোকে নীচে যেতে হবে তোর আব্বু নয়তো অনেক রেগে যাবে আর আমার হাতের ঝাড়ুর বাড়ি খাওয়ার আগে চুপচাপ তৈরি হয়েনে  এবং নিচে একদম শান্ত সৃষ্ট ভদ্র মেয়ের মত থাকবি। যাতে তোর জন্য আমাদের মান সম্মান চলে যায় এইরকম কাজ একদম করবি না। উল্টাপাল্টা ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল আর আমার মনে হয় আমাকে নিচে ডাকছে আমি গেলাম , আর একদম ঘরে থাকার কথা বলবি না নয়তো এই ঘরে আমি তালা লাগিয়ে দেবো"

"আম্মুওওওওও "

লতা করুণ স্বরে বলল,

"তুই যদি এক্ষুনি না উঠিস ঝাড়ুর বাড়ি পড়বে কিন্তু লতা বলে দিলাম । মেয়ে মানুষ সহজে গায়ে হাত তুলবো না কিন্তু এইবার যদি তুই না উঠিস এমন মার মারবো তোকে ঘরেই থাকতে হবে। কিন্তু এই ঘরে না , ডাক্তারের চেম্বারে।"

বেচারা লতার কিছু করার নেই  আইভি লতা মুখটাকে বাংলার পাঁচ  করে উঠে গেল গোসল করতে  । কারণ বেশি বাড়াবাড়ি করলে আম্মুর সঙ্গে পারবে ঠিকই কিন্তু আব্বুর সাথে একদমই না সে আব্বুকে  ভয় পায়। কিন্তু রেগে থাকলে কে শোনে কার কথা। তবু একটু ভয়ে ভয়ে থাকে । তাছাড়া সে অতটাও আব্বুকে ভয় পায় না যার জন্য সে ঝগড়া করা বন্ধ করবে তারপরও একটু মাথায় কল্পনা করে ভাবে আব্বুর সাথে ঝগড়া করলে বেয়াদবি হয়ে যাবে তাই চুপ করে থাকে । লতার মা চলে গেল তার অনেক কাজ আছে। আর ছেলেটাকে তো খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না কোথায়  গিয়েছে। কোন বন্ধুর বাড়িতে এখন আছে আর ওকে আনতে গেলে খুঁজে নিয়ে আসা ছাড়া  কিছু করার নেই। তবুও সে ছেলে মানুষ তাকে অতটা কেউ কিছু বলবে না কিন্তু মেয়েকে একটু চোখে রাখা দরকার এই ভেবে লতার মা  সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগলো। আইভি গোসল করে আসলো প্রায় এক ঘণ্টা পর কারণ চুল ধুলে তার এতটা সময় লাগে আর চুল না ধুলে পাঁচ মিনিট ব্যাস তার এই কর্মকান্ডে সকলে চমকে উঠে বাড়ির ।আইভি লতা সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী পড়ালেখায় ও খুব মেধাবী, তবে এই যে স্বভাব খিটখিটে কোন ছেলের থেকে কোনদিন তাকাবে না কারো সঙ্গে দরকার ছাড়া কথা বলবে না।  তার বক্তব্য " বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কথা বলে ফালতু সময় নষ্ট করার চেয়ে নিজেকে নিয়ে  চিন্তাভাবনা করলে অনেক শান্তি পাওয়া যায়। "আর প্রেম ভালোবাসা এইগুলো তার বিশ্বাসের বাইরে কত মেয়েকে ছাক্যা খেতে দেখল তারপরে ভেবে নিয়েছে জীবনেও বিয়ে করবে না । দেখতে লতা বীরভূমের আর দশটা মেয়ের মতোই, তবে সাধারণ মানুষের চোখে সে মারাত্মক রকমের সুন্দর তবে তার রূপ দেখার সাধ্যে কারোর নাই কারণ সব সময় বোরখার আড়ালে তার সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে বাড়ির বাইরে । ছেলেদের কে আকৃষ্ট করার জন্য তার চোখ দুটোই যথেষ্ট ওই কাজল কালো আঁখিতে কত যে মায়া । কোন ছেলে যদি ওই চোখের দিকে  কুড়ি সেকেন্ড বা তার চেয়ে কিছুটা কম সময়ও তাকিয়ে থাকে তাহলে তার লতার প্রতি মায়া জন্মাতে আর এক সেকেন্ড ও লাগবে না । তার পুরোরুপ না দেখে কত ছেলে প্রপোজ করেছে যে প্রপোজ করেছে তাকে সে বলেছে " আরে ভাই আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে আমার পিছু লেগো না" যত সুন্দর হোক এই কথার পরে কি কেউ তার পিছে লাগবে তবুও যদি কেউ একটু পাটানোর চেষ্টা করে লতার কোন হেলদোল নেই। সে মনে মনে বলে"কুকুররা যদি তাকায় তবে তাদের দিকে তাকাতে হবে কে বলল  যতক্ষণ না তারা দেখা বাদ দিয়ে বেয়াদবি করার চেষ্টা করবে তার আগে কিচ্ছু বলার দরকার নেই কারণ আল্লাহ তাদের চোখ দিয়েছে, তারা সেই চোখ দিয়ে খারাপ কর্ম করছে ,তার শাস্তি আল্লাহ তাদেরকে দিবে,  তার জন্য কি আমারও চোখ দিয়ে তাকে দেখতে হবে ? দেখে কি আমি আমার চোখ নষ্ট করবো ? কখনোই না।" 

ঠিকই তো আমরা কেন ছেলেদের কে দেখে শুধু শুধু আমাদের চোখ নষ্ট করবো। এটা করার কোন প্রয়োজন নেই। 

লতার উচ্চতা ৫ফুট ৩ ইঞ্চি  গায়ের রং ফর্সা, দেখতে সুন্দর, যতটা সুন্দর বীরভূমের আর পাঁচটা মেয়ের হয় তার থেকে একটু বেশিই । বীরভূমের মাটি তত্ত্ব সূর্যের নিচে অবস্থান করছে। তাই চাইনিজদের মতো অতটা ফর্সা আশা করা যায় না আমাদের জেলায়। আর অতটা সাদা হলেও আমাদের জেলায় তা মানায় না নিজের রাজ্য বা জেলায় থাকতে হলে রূপচর্চা বাদ দিতে হবে আল্লাহ যেমন রূপ দিয়েছে সেটাই যথেষ্ট সুন্দর । নিজের দেশকেই ভালবাসতে হবে অন্য দেশের মতো হওয়া বা তা হওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে না করলেই বিপদ। এটা যারা করে তারা বেকুব ছাড়া কিছুই না। অন্য দেশের মাটি আর এই দেশের মাটি এক নই। হয়তো তুমি যেই দেশে থাকো অন্য দেশের মানুষেরা  তোমার দেশকে পছন্দ করে সেটাই ভাবতে হবে তোমাকে।
(এখানে কোন দেশকে ছোট করে কথা বলা হয়নি শুধু মাত্র নিজের মাতৃভূমির শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে তাই আপনি যদি অন্য দেশের হয়ে থাকেন তবে আপনার কাছে আপনার দেশটাই সেরা )
মনে সংশয় থাকলে নিজেকে প্রশ্ন করো , যে দেশ কে নিয়ে নিজের দেশকে ছোট করছো সেই দেশে কি তোমার  জায়গা হয়েছে ? উত্তর যদি "না" হয় তাহলে সমস্ত সংশয় দূর হয়ে যাবে । তুমি তখন বলবে আমার দেশই শ্রেষ্ঠ আমার জন্মভূমই শ্রেষ্ঠ ।
আল্লাহ পরম মমতায়  নারী জাতিকে তৈরি করেছে তারা কিভাবে অসুন্দর হতে পারে ।কখনোই হতে পারে না। বিশ্বাস করা যায় না, তারা হয় অপরূপা,  ,বিহারিনী । আইভির চুল কোমর ছাড়িয়ে গেছে তার চুলের রংটা কালোর মধ্যে একটু বাদামি দেখে মনে হয় আমেরিকান মেয়েদের মত চুল রং করেছে কিন্তু না তা আল্লাহর অপরূপ দান যা কোন মানুষের হাতে তৈরি রংএর ধারে কাছেও না এ চিরস্থায়ী ঔকোনদিনও চিরস্থায়ী রং হারাবে না। বুড়ো হলে সেটা আলাদা ব্যাপার তখন স্বাভাবিকভাবেই চুল সাদা হয়ে যাবে । আইভির শরীর মোটাও না পাতলা না মাঝারি, কমল, স্নিগ্ধ লোকের মুখে শোনা যায়, মানুষ পুরোপুরি  নিখুঁত হয় না কিছু খুঁত থেকে যায় । তাহলে চাঁদের গায়ে কলঙ্ক কেন? পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর একটা বস্তু চাঁদ  তাহলে তার গায়ে কালো কালো দাগ কেন ?অনেক ফুলে ফোটা ফোটা অন্য রং ফুলের পাতায় দেখা যায় সেটা কি ফুলের সৌন্দর্য কমিয়ে দিয়েছে? কখনোই না। সেই রং সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ।সেই ফুলটাই আবার হয়ে যায় বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুল । তেমনি আইভিরো খুত আছে সবাই সেটাকে খুত ধরলেও অনেকে আবার ধরবে না ,যারা ধরবে না তারা বুদ্ধিমান মানুষ। আইভির ঘাড়ে এক খন্ড যরুল আছে । বাইরের লোক তা দেখতে পায় না বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন যারা তাকে দেখেছে কেউ সেটাকে খুত হিসাবে ধরেছে কেউ আবার চাঁদের কলঙ্ক ভেবেছে। আইভি রেডি হতে হতে গাড়ির শব্দ পেল । মনে হয় হবু আত্মীয়রা হাজির আইভি খানিকটা বিরক্ত হল। আম্মুর  কথা ভেবে তাড়াতাড়ি রেডি হল একটা থ্রি পিস পড়েছে আর মুখে হালকা পাতলা মেকআপ সাথে হিজাব করে নিয়েছে কারণ সে জানে বাড়িতে অপরিচিত লোক আসবে না হিজাব পড়াটাই ঠিক বোরকা পরার প্রয়োজন বোধ করল না । নিজেদের লোক তাদের  সামনে হিজাব পড়লে ভুল হবে না । তার মাকে একটু প্রশান্ত করার জন্য নিচে  নামলো লতা
নিচে নেমে ভাবলো , "না বেশ ভালই আয়োজন করা হয়েছে বাড়িতে । "
তার আম্মা তাকে দেখে একটু খুশি হলেন  মেয়ে তার অন্ততপক্ষে কথাটা শুনেছে।  রাশেদা খাতুন তাকে দেখামাত্র চটে গেল বলল,
"এই  ছুরি এক্ষুনি এস্যার সময় হলো আর আমুন হুই সেজ্যাছে  মুনে  লাগছে বিহ্যার বাড়ি লয় মরার বাড়ি এলছে" 
এই তার ভাষা এক আধটু ভালো ভাষায় কথা বলে তাও মাঝে মাঝে ঢুকিয়ে দেয় তার নিজের ভাষার সাথে। কেউ বলে পারেনা  তার স্বামী একই যুগের মানুষ হয়েও যথেষ্ট ভালোভাবে কথা বলে কিন্তু এই মহিলাকে না পারা গেছে শুধরাতে । লতার আম্মু আর যাই হোক নিজের পেটের সন্তানের এইভাবে খোটা দেওয়া পছন্দ করলো না ।নিজে যা বলবে ঠিক আছে নিজের মেয়েকে সে শাশাতে পারে তাই বলে সবাই তার পেটের সন্তান কে খোটা দিয়ে কথা বলবে কোনভাবেই না। বলল,
" আম্মাজান আপনি শান্ত হোন ও ছোট মানুষ বোঝে না । "
চেঁচিয়ে উঠলো দাদি,
" হু উ তো ছোট মানুষ অর বয়েসে হামার দুটা ধামরা ছেল্যা আছিল"
লতার আম্মু আর কিছু বলল না কাজে মন দিল বিয়ে বাড়ীতে ঝগড়া মানাবে না । আর লতাকে বলল ,
"নতুন মেহমান তুই পছন্দ না করলেও শরবতটা অন্তত তাদেরকে দে আর বসতে বল তাহলে আমাদের সম্মানটা আরো বাড়বে যে মেয়েকে ভালো শিক্ষা দিতে পেরেছি, একটু ভালোভাবে থাক। তোর আব্বুর মান সম্মান রাখ "
লতা জানে, তার আম্মু যতই তাকে বকা দিক তিনি তাঁকে খুব ভালোবাসে ,তাই সে রাজি হল কোনদিন তেমন একটা সে মেহমান খাতির করেনা কিন্তু আজ গেল মায়ের কথা শুনে । লতা জানে যে পরিচিত লোকগুলোই আসবে তাই আরো বেশি আগ্রহ নিয়ে গেল ।লতা দেখল বাড়ির ডাইনিং এ সবাই বসেছে,  শরবত নিয়ে গেল ।লতার দাদু পরিচয় করিয়ে দিল ,
"লতাভাই তোমার চাচির পাশে যে লোক গুলো আছে তারা তোমার চাচীর আত্মীয় আর এদিকে যারা আছে তারা আহমেদ পরিবারের লোকজন  নতুন চাচির কাছে দেখল একটা মেয়ে সে জানে এটা চাচির বোন হয় আর তার নানি সঙ্গে আছে । আহমেদ পরিবারের ও সবাইকে সে চিনে সে  জানে যে এরা তাদের চাচার বিয়ে ঠিক করেছে আব্বুর দূরসম্পর্কের ফুফাতো ভাই হয় ইফতেখার আহমেদ
সম্পর্কের খাতিরে বিয়েটা ঠিক করেছে এটা ভাবা যাবে না কারণ তার আব্বুর সে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু ও বটে  আর তার স্ত্রী ইনশিয়াহ চৌধুরী তাদের মেয়ে ইশিতা আহমেদ তার স্বামী ইলহাম চৌধুরী মেয়ে আফরিন আহমেদ  ছেলে ইমতিয়াজ আহমেদ এদেরকে সে আগেও দেখেছে। কিন্তু ইশিতার পাশে ও কে ?সে জানতো পরিচিতরাই আসবে বাড়তি কোনো পর পুরুষ আসবে না । ইশিতা আর ইমতিয়াজ লতা কে দেখে ছুটে গেল । ঈশিতা বলল,
" জানো খালা  তোমাকে খুব মিস করছিলাম"
আসলে যখন তারা প্রথমে এ বাড়িতে এসেছিল বাবার সাথে তখন লতার সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেছে খুব ভালো। লতা  বাইরের অপরিচিত কারো সঙ্গে মিশতে  পছন্দ করে না  কিন্তু যাদের সে আত্মীয় বা আপন মনে করে তাদের সঙ্গে মিশে। সে তাদের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করল কিন্তু মন থেকে হাসলো না । তার আব্বু তো বলেছিল বাইরের কোন লোক আসবে না তার জন্য তো আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও সে তো খুশি হয়েই এসেছে কিন্তু ইশিতার পাশে ও কে ? পরপুরুষ?  লতা এটা একেবারেই আশা করেনি। অন্ততপক্ষে তার  আম্মু তো তাকে বলে রাখতে পারত সে পর্দা করে আসতো । নাকি এই ভেবে আম্মু বলেনি যে লতা নিচে আসবে না ।কি করবে বুঝতে পারল না লতা । চলে গেলে এখন বেয়াদবি হয়ে যাবে চুপচাপ একে একে শরবত দিতে লাগলো। তার মুখ দেখে দাদু জেনে গেল কেন তার মনের এই অবস্থা সে বলল ,
"লতাভাই ও তোমার চাচা হয় কোন পরপুরুষ না"
এমন কথা বলায় সবাই তার দিকে একবার তাকালো । কেউ কিছু বলল না  কারণ তারা যতজন আছে বেশিরভাগ জন লতাকে চেনে। দাদু আর ও বলল ,
"ও তোমার চাচার ছেলে, তবে এখন সম্পর্ক অন্যরকম হয়ে গেছে, তোমার চাচি ফাহমিদা সুলতানা ঈশিতা আহমেদের স্বামীর  মামাতো বোন সেই সুবাদে ও তোমার চাচা হচ্ছে ।ওর নাম ইশতিয়াক আহমেদ"
এইবার লতা বুঝলো ,যাই হোক অন্ততপক্ষে চাচা চুপচাপ শরবত এগিয়ে দিল বলল ,
"ছোট চাচা আপনার শরবত "
ইশতি বলল ,
"দাও ভাতিজি"  সারাদিনের মধ্যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেল । সন্ধ্যা বেলা যখন সবাই ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে । খাওয়ার সাথে একটু আড্ডাও দেওয়া হবে তখন লতার আম্মু জিজ্ঞেস করল ইনশিয়াহ চৌধুরীকে ,
"আচ্ছা আপা ইশতিয়াকের  কত বছর বয়স হয়েছে আমি যত সম্ভব জানি তার বিয়ে হয়নি  ,  ভুল ও জানতে পারি , ভুল হয়ে থাকলে কিছু মনে করবেন না।"
ইনশিয়াহ চৌধুরী উত্তরে বললেন ,
"আরে না না বোন কিছু মনে করিনি সত্যি জেনেছো তুমি আসলে আমার ছেলের বিয়ে করা হবে না সত্যি বলছি তোমরা নিজের লোক তাই । ওর ছোটতে একটা ছোটখাটো এক্সিডেন্ট হয়েছিল তারপর থেকে ও বাবা হতে পারবেনা আর কোন মেয়ের কাছে যেতে পারবে না তারপরও আমি চাই যে যদি কেউ শুধুমাত্র তার সঙ্গী হয়ে থাকে কিন্তু বাস্তবে তা কি সম্ভব কোন মেয়ে কি শুধুমাত্র সম্পত্তি দেখে বিয়ে করবে কারো বাবা মা দিবে না তার মেয়েকে এমন ছেলের কাছে যে তার মেয়েকে মা করতে পারবে না । "
সবাই  ইশতির দিকে তাকালো। দাদি বলল ,
"চিন্তা করিস ন্যা ভালো হবে তোর"
কিন্তু  ইশতির কোন হেলদোল নেই চুপচাপ খেতে ব্যস্ত আর ফোন দেখতে । লতা চুপচাপ খাচ্ছিল হঠাৎ করে  ইনশিয়াহ চৌধুরীকে বলল ,
"শাশুড়ি আম্মা, চিন্তা করবেন না আমি তো আছি আপনি সম্মতি দিলে এক্ষুনি বিয়ে করে ফেলব।"
এমন কথা শুনে সবাই তার দিকে তাকালো প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পারেনি কেউ। তারপরে যখন বুঝতে পারল সবাই লজ্জা পেল। লতার আম্মু কিছু বলতে যাবে তার আগে দাদি বলল ,
"তোর তো খুবি লজ্জা কুনোদিন বিহ্যা করবি ন্যা বুলিস কুনো ছুড়াকে দেখতে পারিস ন্যা আজ এমনি কথা বুলছি কুন দুঃখে তাও আবার সবার সামনে লজ্জা করছে না তোর" 
আফরিন বলল ,
"সত্যি তুমি আমাদের মামি হবে "
তার ভাইও খুশিতে হাসলো। এতক্ষন  ইশতি ফোনের দিকে নজর দিয়েছিল আর খাওয়ায়। একবার লতার দিকে তাকালো কটমট দৃষ্টিতে যদিও বা কিছু বলতো তার আগেই লতা বলল ,
"হবু স্বামী আপনি চিন্তা করিয়েন না আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি আর একটা কথা খাওয়ার সময় ফোন দেখতে হয় না আপনি ফোন  দেখিয়েন না "
লতার আব্বু অত লোকের সামনে মেয়েকে কিছু বলতে পারলেন না তবে রাখি দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো । ইশতির আম্মা অনেক খুশি হলেন ইশতির আব্বু, বোন খুব চমকে গেছে  তারা জানে আইভিলতা বুদ্ধিমতী মেয়ে  ইশতির আম্মা বলল,
" সত্যি তুমি  ইশতিকে বিয়ে করবে? কেন মা কেন করবে। "
লতা বলল,
" সবার সামনে কি সব কথা বলা যায় আমি আপনার ছেলের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি বুঝতে পারছেন না ।"
ইশতির আম্মা কিছুটা লজ্জা পেলেন তারপরেও বলল,
" তুমি তো বড় মেয়ে তুমি বুঝতে পারছ তুমি কি বলছো আমি তো আগেই আমার ছেলে সম্বন্ধে বলেছি। "
লতা বলল ,
"শাশুড়ি আম্মা সব জেনেই তো বিয়ে করছি। আপনি এক্ষুনি আমাদের বিয়ে দিয়ে দেন ।"
লতার পরিবারের লোকদের দেখার মত অবস্থা। ওরা কিছু বলতেও পারছে না নতুন আত্মীয় দের সামনে। লতা বলল,
" শাশুড়ি আম্মা আপনি কাজী ডাকেন আমি আমার হবু বরের সাথে কয়েকটা কথা বলে নেই তারপরে বিয়ে হবে ঠিক আছে"
কেউ কিছু বলার আগে লতা ইশতিকে ডাকল "চলুন "
ইশতি রাসভারি কণ্ঠে বললো
"কোথায়"
" আরে কয়েকটা কথা বলব সবার সামনে কি কথা বলব নাকি"
" এই মেয়ে তুমি কি পাগল হয়ে গেছো "
"আরে আসুন না "
ইশতির মা বলল ,
"আরে যা না কি বলছে শোন"
ইশতির কিছু করার থাকলো না চুপচাপ চললো তবে রাগে তার মাথা শরীর এক হয়ে গেছে কারো সামনে কিছু বলতে পারল না  লতা, তাকে ছাদে নিয়ে গেল সরাসরি বলল ,
"শুনুন আমার বিয়ে করার কোন রকম ইচ্ছা নেই আমার কথাগুলো প্রথমে বলতে দিন আমি চাই বিয়ে নামক শব্দটা থেকে বাঁচতে আপনিও তো বউ ছাড়া থাকতে পারবেন তাহলে এত ভালো সুযোগ আমি তো হাতছাড়া করবো না চলুন আমরা বিয়ে করে ফেলি তারপর আমরা আলাদা ঘরে ঘুমাবো আলাদাভাবে থাকবো আপনাকে একটুও ডিস্টার্ব করবো না আর আপনিও আমার সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলবেন না আমি আমার মত চলবো আপনি আপনার মত শুধুমাত্র নামে আমাদের বিয়ে হবে ঠিক আছে ।"
ইশতি বলল,
" আমি কেন তোমাকে বিয়ে করবো তোমাকে কি আমি ভালোভাবে চিনি"
লতা বলল ,
"আপনার আম্মা তো আমাকে চিনে সে জানে আমি কেমন তিনি জেনেই আমাকে ঘরে তুলতে চাইছে।  আমি খারাপ হব না। আর আমি তো আপনাকে সত্যিই ডিস্টার্ব করবো না আমরা কালকে একটা চুক্তির কাগজ করে ফেলব। আর এখনই বিয়ে করতে চাইছি কারণ আমার পরিবারের মুখের অবস্থা দেখে জানা যাচ্ছে তারা কেউ রাজি হবে না ,কোনদিন না ,কিন্তু এখন বিয়ে করলে বলার সুযোগই পাবে না আর আমি বিয়ে করেই ঘরে যাব। আর আপনি অন্য ঘরে থাকবেন আপনার ব্যক্তিগত জীবনে আমি ঢুকবো না আর আপনিও আসবেন না আমার ব্যক্তিগত জীবনে আসলে চাচার বিয়ের পরে একপ্রকার জোর করে আমাকে বিয়ে দিয়ে দিবে তো তার জন্য আমি এত ভালো সুযোগ কখনোই ছাড়বো না আমি আপনাকে সত্যি বলছি কোন সময় ছোট করবো না আমাদের মধ্যে কথা হবে  একেবারে ভাই বোনের মত। আর আপনি তো আমার সম্পর্কে চাচাও হন ।"
অবাক করে দিয়ে ইশতি  বলল,
" আচ্ছা চলো এখন আমরা বিয়ে করবো ঠিক আছে ।"
লতা খুব খুশি হলো । তারা দুজনে নিচে নামলো লতার আব্বু বলল,
" তোমরা সম্পর্কে চাচা ভাতিজি হও তাই তোমাদের বিয়ে করা যাবেনা"
আসলে তার কথা বলার কারনটা ছিল সে এই বিয়ে দিতে চায় না। লতা মুখের উপর জবাব দিল,
" ও তো  সম্পর্কে আমার ভাইও হয় সেই সম্পর্কে না হয় বিয়ে করবো "
লতার বাবা এবার খুব রেগে গেলেন বলল ,
"এই বিয়ে আমি দেবো না তুই বুঝতে পারছিস না
কেন"
লতা বলল ,
"এখনই বিয়ে করবো" 
লতার আব্বু মারতে গেলে ইশতির আব্বু এবার বলল ,
" তোর কি আমার ছেলেকে পছন্দ নয়  ডাক্তারতো দেখাচ্ছে ইশতি। আমার ছেলে দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। আল্লাহর রহমতে "এই একটা কথাই আটকে গেল লতার আব্বু তার প্রাণপ্রিয় বন্ধুর কাছে সে এভাবে ছোট হতে পারে না, তার প্রাণপ্রিয় বন্ধু তাকে অনেক বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে এইযে ভাই এর বিয়েটাও দিয়ে দিলো।লতার আব্বু বলল ,
" না সেরকম বলতে চাইছিলাম না আসলে আজকেই কেন বিয়ে কয়েকদিন অপেক্ষা করা যেত না "
ইশতির আব্বু বলল,
" আমি তোর মেয়েকে খুব ভালো রাখবো কথা দিচ্ছি  নিজের মেয়ের মতো করে  রাখবো এমনিতেও লোকজনে খুব আমাদের কটু কথা বলে তুই যদি এমন ভাবে আমাকে বাঁচাস আমি কথা দিচ্ছি জান থাকা অব্দি আমি তোদের পরিবারের কারো ক্ষতি হতে দিব না"
লতার আব্বু কিছু বললেন না আঘাত পেলেও সয়ে নিল কারণ সে বুঝতে পারছে তার বন্ধুর কষ্ট তাই সেও রাজি হল  কাজী এনে বিয়ে দিয়ে দিল তাদের। অনেক লোকে খারাপ মন্তব্য করল 
,"যে আজকেই কেন বিয়ে দিলো নিশ্চয়ই কোন অঘটন ঘটিয়েছে এই ছেলেমেয়ে দুটি"
তখন লতার আব্বু তাদের বললেন ,
"আমরা আগে থেকে বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলাম শুধুমাত্র কাউকে জানাইনি কারণ জানানোর প্রয়োজন মনে করিনি "
ইশতি  আর লতার বিয়ে হল  শুধুমাত্র চুক্তির বিয়ে এই বিয়েতে দুজনের কেউই দুজনের প্রতি মায়া দেখালো না। যেন তারা দুজনে সমাজে বিয়ে নামক শব্দটা থেকে বাঁচলো কেউ তাদের বলতে পারবেনা তারা বিয়ে করেনি । দুজনকে রাত্রিবেলা একই ঘরে থাকতে দিলে লতা আপত্তি জানালো  দাদি খারাপ মন্তব্য করলে সে জবাবে বলল ,
"আমার স্বামী অসুস্থ এখন তার কাছে  থাকা আমার ঠিক হবে না "
ইশতি ঘুমাতে চাইলো কিন্তু লতা মানা করলো বলল,
" লোকের খাতিরে আপনাকে কষ্ট করতে হবে না।"
ইশতির কিছু বলার আগে লতা নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল।  ইশতিকে একটা রুমে থাকতে দেওয়া হলো ইমতিয়াজ কেউ তার সঙ্গে থাকতে দেওয়া হলো। ইমতিয়াজ এর বয়স ১২ বছর কথা লুকিয়ে রাখতে সে ঠিকই পারবে । যে কথাটি তার গোপন মনে হবে সে কাউকে বলবে না । ইশতি ইমতিয়াজ কে বলল ,
"আচ্ছা তোর কি মামাতো ভাই বা মামাতো বোন লাগবে মামি চলে এলো এবার ভাই বা বোন ও পেয়ে যাবি "
ইমতিয়াজ অবাক হল তার যে বয়স হয়েছে তাতে সে জানে তার মামা আব্বু হতে পারবে না সে প্রশ্ন করলো ,
"মামু তুমি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছো? তুমি জানো আমার যথেষ্ট বয়স হয়েছে আমি জানি তোমার সম্পর্কে যথেষ্ট"
ইশতি হাসতে হাসতে বলল ,
"বলবো তার আগে তোকে কথা দিতে হবে কাউকে বলবি না তুই"
ইমতিয়াজ ও কথা দিল ইশতি বলল ,
"মামু শুন  আমি পুরো সুস্থ আর চাঙ্গা ছেলে মেয়ে জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে আমার যারা ছেলে মেয়ে হবে তারা অপুষ্ট নয়, একেবারেই পুষ্ট হবে আমি ভাবছি আমার ভার তোর মামি নিতে পারবে কি ওর তো সেই পাতলা শরীর "
ইমতিয়াজ জিজ্ঞাসা করল ,
"আচ্ছা মামু তুমি মিথ্যা কথা কেন বলো সবার সামনে "
ইশতি বলল ,
"আমি যেটুকু বলবো তুই শুধুমাত্র সেইটুকু গোপনে রাখবি বাড়তি প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না ,"
ইমতিয়াজ ভয়ে ভয়ে বলল,
"শুধু এটা বলো আচ্ছা তুমি কি মামিকে  সত্যি কথাটা বলে দিবে"
ইশতি হেসে বলল,
" আমরা দুজনে একই রাস্তার পথিক তবে তোর মামিকে আমি নাকে  দড়ি দিয়ে ঘুরাবো  তোর মামি নিজে থেকে আমার কাছে এসেছে  আমি সহজে ধরা দিচ্ছিনা আর তোর মামি যখন আমার হয়ে গেছে শত চেষ্টা করেও সে  আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না মৃত্যুর আগ অবধি  আমি যেতে দিব না আমার মরার আগ অব্দি আমি গেলে তাকে ছুঁয়ে যাবো  আর একটাও প্রশ্ন করবি না চুপচাপ ঘুমা"

ইমতিয়াজ  অবাক হয়ে রইল । শুধুমাত্র দেখল ইশতির মুখের সেই  রহস্যময় হাসি ।



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Romance