অদেখা মেঘের নীল খাম
অদেখা মেঘের নীল খাম
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়। তখন চারদিকে একটা নতুন ট্রেন্ড চলছিল—"বেস্ট ফ্রেন্ড ফরএভার" বা ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব। হাই স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে তখন মেসেঞ্জারে গভীর রাত পর্যন্ত চ্যাট করা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধু বানানোটা ছিল এক দারুণ রোমাঞ্চ।
মেঘলা তখন চট্টগ্রামের একটা স্কুলে ক্লাস এইটে পড়ে। বয়সটা ছোট, মনটা আবেগে ভরপুর আর স্বভাবটা চাটগাঁর সাগরের মতোই চঞ্চল ও ভীষণ অভিমানী। একদিন পড়ার টেবিল থেকে উঠে সে টিকটকে স্ক্রোল করতে করতে একটা মন ভালো করা ট্রেন্ডিং গানের ভিডিওর নিচে একটা সাধারণ কমেন্ট করে বসল।
তার সেই কমেন্টের ঠিক দুই মিনিট পর একটা রিপ্লাই এলো। আইডিটার নাম ছিল 'অনিমেষ'। অনিমেষ থাকত ৫৬৩ কিলোমিটার দূরে, পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহীতে। সে তখন ক্লাস নাইনের ছাত্র। শান্ত, মার্জিত আর কথা বলায় ভীষণ পটু। প্রথম কমেন্টের রিপ্লাইতেই অনিমেষ তাকে খুব মিষ্টি করে একটা সম্বোধন করল—"আসসালামুয়ালাই"।
চাটগাঁয়ের মানুষ নাকি অনেক রাগী হয়? আপনার কমেন্ট দেখে তো মনে হচ্ছে আপনি মেঘের মতোই নরম।"
মেঘলা মুচকি হেসে আবার রিপ্লাই দিলস্কুলপড়ুয়া একটা মেয়ের মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালোলাগার সৃষ্টি করল। মেঘলা মুচকি হেসে আবার রিপ্লাই দিল। সেখান থেকে ইনবক্স। প্রথম প্রথম তারা ভাবত, এটা তো স্রেফ একটা ট্রেন্ড—ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব। কিন্তু অনিমেষের আচরণ ছিল এত চমৎকার, এত কেয়ারিং যে মেঘলা প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরেই ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকত। অনিমেষ কখন নক দিয়ে বলবে, "ম্যাডাম জি, স্কুল কেমন কাটল আজ?"

