STORYMIRROR

মোঃ সবুর মিয়া

Drama

4  

মোঃ সবুর মিয়া

Drama

অবশেষে

অবশেষে

5 mins
6

 ছোট গল্প 

অবশেষে 

মোঃ সবুর মিয়া


প্রভাতে কোকিলের কণ্ঠ স্বরে মোর কর্ণে লাগে বীণা। সুন্দর স্বপ্ন ভেঙে থাকিয়া দেখি,,,,, সূর্য কিরন দিয়েছে আর আমার ভাঙ্গা ঘরের ওই ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে উকি দিয়েছে হিরক। চক্ষোর সম্মুখে ঝলমলে সোনালি রশ্মি।



একটু উকি দিয়ে থাকিয়ে দেখি জলধির জল গুলো ঝলমল করছে। যেনো হিরক এসে ঝলমল করছে। নদীর পাড়ে বসিয়া থাকিয়ে আছি ঐ-পাড়ের সবুজ,শ্যামল দৃশ্য গুলোর দিকে। সাদা সারি বেদে বকের ঝাক উড়ে বেড়াচ্ছে জলধির বুকে। 


এদিকে জননী ডাকিয়া হয়ে যাচ্ছে ব্যাকুল। মোর হৃদয় বসিয়া র‍য়েছে ওই সবুজ,শ্যামলের দিকে এবং বকের সারির দিকে।  

বাহ,,,!!! কী রমণীয় সেই দৃশ্য যেনো মোর অক্ষি ধাঁদিয়ে গেলো। আর বসিতে পারলাম না, কি অসহ্য,,,!! জননী অস্থির, তাই ঘরে চলে এসেছি। 


ঘরে এসে দেখি রানি পুষ্প হস্তে দাঁড়িয়ে আছে মোর জন্য। আহ,,,!!! এ কী প্রসুন নিয়ে এসেছে মোর গৃহে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কিরে পাগলী কার জন্য এই পুষ্প কানন। ও বলে তোমার অপেক্ষাই দাঁড়িয়ে ছিলাম কার জন্য হবে বুঝো না,,,,,,??

আচ্ছা রে পাগলী।


মোর গৃহে অন্ন খেয়ে যা। জননীর হস্তের স্বাদ একবার বুঝিলে নাহি মিঠবে মনের তৃষ্ণা। রানি এক দৌড় দিয়া ওর গৃহে চলে গেলো।  


সারাদিবা রানিকে নিয়েই খেটে যাই। নদীর পাড়ে, এদিকে - ওদিকে, মাঠে-ঘাটে, গাছ তলায় আড্ডাবাজি গল্প- গুজব করে পার হয়। দুষ্টুমি, পাগলামী, দৌড়াদৌড়ি সারাক্ষণ লেগেই থাকে মোদের।  

রানি মোরে ভালোবাসে, আমিও। 

কিন্তু দু'জনে কাউকে বলি নি। এমনি ভাবে দিবারাত্রি পেরিয়ে যাচ্ছে মোদের।  


গোধূলি লগ্নে দু'জন নদীর পাড়ে বসিয়া সূর্যাস্ত দেখি প্রতিদিন। সূর্যের ওই অনল রঙ্গে যেনো জলধির জলকে লাল করে ফেলছে। সকল পাল তোলা নৌকাগুলো সারি বেদে নিজ নিজ গৃহে অবস্তান নিচ্ছে।  


নিশীথে দাদার সাথে দু'জন বাড়ির উঠোনে বসিয়া গল্প-গুজব করি। গগনে চন্দ্রের আলোয় আলোকিত আঁধার রজনী। কিছু কিছু তারা মিট-মিট করে জলছে, যেনো আসমানের বুকে রঙ্গিন বাল্ব গুলো জ্বলছে আর নিভছে।

এদিকে রানির বয়স যেনো লাফিয়ে লাফিয়ে রানিকে বড় করে তোলছে। রানির পরিবারের সাধ জন্মালো রানিকে বিয়া দিতে হবে। রানির বাবা মোর ছোট চাচা, মোর গৃহে বাবার সাথে কথোপকথন রানির বিয়ার ব্যপারে।  

ওদের এই কথোপকথন দেখিয়া মোর চক্ষু দিয়ে অনল পড়ল মৃত্তিকায় । মোর মস্তকে কোনো সমাধানের পথ খুজে পাচ্ছি না।  

রানির বিয়া ঠিক শহুরের প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে। মোর সাধ জাগেনি বিয়ার দিন নিজ গৃহে থাকি। তাই জলধির পাড়ে বসিয়া থাকিয়ে আছি ঝলসানো সলিলের দিকে। তটিনীর তরঙ্গে ভাসমান ভেলায় ভেসে আনন্দ করছে ছোট্ট ছেলেমেয়েরা।

একটু পিছনে ফিরিয়া দেখি কে যেনো মোর দিকে দৌড়াইয়া আসছে। কোনো কূলবধূ হবে নিশ্চিত। এত দূর থেকে ঠিক চেনা যাচ্ছে না, চোখ ঝাপসা দেখাচ্ছে, ওই কূলবধূ কে হতে পারে। ক্রমে ক্রমে মোর নিকটবর্তী, পরে দেখি রানি দৌড়ে মোর দিকে আসছে। মোর হৃদয়ে যেনো সূর্য হাসি দিয়েছে এবং রানির ওই নয়নের দিকে থাকিয়ে ভাবছি রানি কেনো এমন করে দৌড়ে আসছে।

রানি অতি দ্রুত চলে এসেছে মোর কাছে। এসেই মোর পাশে নদীর পাড়ে পা ঝুলিয়ে বসছে এবং ওর হার্ডবিট যেন কেম্পন করছে। বললাম, কিরে এভাবে হাফাচ্ছিস কেনো আর বিয়ার আসর থেকে কেনোই বা চলে আসলি। ও বলে এসব বিয়া এখন করতে পারবো না। তোমার সঙ্গে সারা দিবারাত্রি গল্প-গুজব করবো। জলধির এই রমণীয় দৃশ্য, আড্ডাবাজি, দুষ্টুমি কার সাথে করবো তাহলে,,,,,,,,,। এত দৌলত আমার দরকার নাই, শুধু আনন্দ মুখর একটু সঙ্গ চাই আমি।  


এদিকে গৃহে বর পক্ষের সাথে নানা কথোপকথন যে অতি শিঘ্রই কনে এসে পড়বে। কিন্তু বর পক্ষ এক মুহুর্ত ও আর অপেক্ষা করলো নাই, বরের হস্তে মোর চাচা টান দিয়ে বলে বাবাজি এমন সর্বনাশ করিও না মোদের, মুখ দেখানো যাবে না সমাজে, কিন্তু এসব মায়াবি কথা বর পক্ষের এক কর্ণে ঢুকে অন্য কর্ণ দিয়ে বাহির হইয়া গেছে। সকলেই ত্যাগ করলো মনোরম পরিবেশের বিয়া বাড়ি থেকে। রানির বাবা অতি কষ্টে গুমড়া মুখ হয়ে উঠোনের ঐ বড় বৃক্ষের ছায়াবিটি তলে হেলান দিয়া কপালের মধ্যে হস্ত রাখিয়া অক্ষি দু'টি লাল বর্ণের হয়ে বসিয়া আছে।  


আমি বললাম কিরে রানি গূধোলি লগ্ন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে তো। গৃহে কি ফিরে যাবি না,,,,,,,??

হ্যাঁ যাবো তো, আর কানিকটা সময় কাটুক না,,,,,,,!! এই যে দেখো শীতল সমীরে জলধির গভীর থেকে ছোট ছোট ঢেউ আসছে, যেনো টলমল করছে জলধির সলিল।  


চারদিকে আঁধার ঘনিয়ে আসছে। রাস্তার দু'পাশের ঝুপের মধ্যে জোনাকিপোকা মিটমিট করে জ্বলছে, যেনো তিমীরের মধ্যে এক বিন্দু আলোক রেখা।  


রানিকে নিয়ে গৃহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আর মনে মনে ভাবছি কিভাবে ওদের মনের ভূল শুধরাইতে পারবো। গৃহে এসে দেখি বাবা আর মোর চাচা বিষণ্য মনে, বিষাদ মানসিকতায় উঠোনের ঐ বড় বৃক্ষের নিছে বসিয়া রয়েছে নিরুপায় হয়ে।


আগেই রানিকে বলেছিলাম গৃহে অবস্থানের পর পর ই তুই হাউ মাউ করে কান্না করতে লাগবে আর তোর পিতার লোচন মুছিয়া দিবে তর শাড়ির আঁচল দিয়ে। রানি তাই করলো আর এসব দেখে ওরা বললো মোদের এভাবে লজ্জা দিতে পারলি,,,,,,,,?? আমি বলেছি তোমাদের কোনো কান্ড জ্ঞান আছে,,,,,? রানির কি বিয়ার বয়স হয়েছে,,,,,,? সবে মাত্র ১৩ পেরিয়ে গেছে, বাল্য-বিবাহ দিলে তো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই রানি চাই নি এই অপরাধে জড়িত হয়ে তোমাদের লজ্জার পরিমানটা আরও বেড়ে যাক।

ওরা মেনে নিলো আর নিজেদের ভূল বুঝতে পারলো। আহ,,,,!! রানির উজ্জ্বল মুখ দেখে তো মোর অন্তরের ভিতর মুচকি হাসি দিয়ে উঠলো। রানির নয়নের দিকে থাকিয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বললাম ঘরে চলে যা। 

পরদিন প্রভাতে মোদের জন্য নতুন করিয়া সূর্য হাসি দিলো। রানি মোর গৃহের দোয়ারে দাঁড়িয়ে ডাকছে, উকি দিয়া দেখি পূর্ণিমার চাঁদের সবটুকু হাসি রানির ওই মুখে। ও মোর হস্তে টান দিয়ে বাহিরে নিয়ে আসলো। আবার ও মোদের পূর্বের মতোই দিবারাত্রি যাচ্ছে। বাবা আর চাচা মোদের দৃষ্টিগোচরে রাখছে। মোর মনের কপাট থেকে ধ্বনিত হচ্ছে, ওরা মোদের এই মেলামেশা দেখিয়া মোদের অগোচরে কি যানি ফিসফিস করে।  

একদিন নিশীথ রজরনীতে উঠোনে বসিয়া দাদার মুখনিঃসৃত গল্প দু'জনে শ্রবণ করিতেছি তখনই বাবা আর চাচা দাদার সম্মুখে এসে বসিয়া বলে তরা একটু ঘরে যা। মোর সূক্ষ্ম জ্ঞান ধারা থেকে যা বুঝলাম ওরা মোদের ব্যাপারেই ফিসফিস করছে। মোর ভাঙ্গা ভেড়ার ছিদ্র দিয়া দেখি ওরা মোদের ইঙ্গিত করেই কিছু একটা বলছে। দাদা হস্ত নেড়ে বাবা, চাচাকে বুঝচ্ছে মোদের এই মেলামেশার কথা আর ওরা ও মস্তক নাড়িয়ে সমর্তন দিচ্ছে। 

মোর মনের কপাটে আনন্দের আলোক রেখা জেগে উঠেছে। নিশীথ রজনীতে জ্যোৎস্নাময় আলোয় বসিয়া মনের আনন্দে গান ভানছি। অতঃপর ঘরে চলে এসে ঘুমিয়ে গেলাম। প্রভাত হতে না হতেই বাবা, চাচা, দাদা মোর দোয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে ডাকছে। দোয়ার খোলে বাহিরে আসিলাম, দাদা বললো মোদের সবার সাধ জন্মালো তর আর রানির শাদি দিতে, তুই কি বলস,,,,,,,?????

অবশেষে মোদের অন্তরের ভালোবাসাটা ওরা মেনে নিলো এবং মোদের বিয়ার ব্যবস্তা করলো।

-------------০--------------



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Drama