জীবনে কিছু সুখ দুঃখের মুহূর্ত
জীবনে কিছু সুখ দুঃখের মুহূর্ত
১৯৪০ সালের ঘটনা গোবর্ধন পুর নামে একটি গ্রামে তে ১৩ বছরের রাধা নামে একটি মেয়ে ও তার দুটি ছোট বোন আর তার বাবা-মা থাকতো তাদের পরিবারটা ছিল একটু অচল প্রকৃতির | তার বাবা ও মা দুজনকেই কাজ করে সংসার চালাতে হতো তার বাবা মা অন্যের জমিতে চাষবাস করেই সংসার চালাতো সকাল হলে তার বাবা মা হাতে একটি ব্যাগ তার মধ্যে থাকতো কিছু খাবার দুপুরে খাবার জন্য এবং তারা বেরিয়ে পড়তো চাষবাস করতে | রাধার বাড়িতে একটি গরু ছিল। রাধা সেই গরুর দুধ বিক্রি করত। আর তার বাড়ির দুই ছোট বোনকে দেখাশোনা করত। একদিন রাধা ও তার বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর সে একটি পার্কে গিয়ে বসে। তারপর সেখানে 35 বছরের একটি মহিলা এসে তার পাশে বসে। মহিলা খুব চিন্তিত ছিল। রাধা মহিলাটিকে জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে আপনার? আপনাকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে। মহিলাটি বলে, আমার স্বামী চাকরিজীবী মানুষ। আর আমার শারীরিক অবস্থাও খুব খারাপ থাকে।আর আমার বাড়িতে ঠাকুরের সেবা করার মত কেউ নেই। ও আমার বাড়িটাও খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগে। নিজে একা সারাদিন থাকি তো ভালো লাগে না আমার। রাধা তখন মহিলাটিকে বলে ওঠে, আমি আপনার ঘরের ঠাকুরের সেবা করে দেব। মহিলাটি বলে, সত্যি তুমি আমার বাড়িতে ঠাকুরের সেবাগুলো করে দেবে? তখন রাধা বলে, হ্যাঁ, আমি আপনার বাড়ির ঠাকুরের সেবা করে দেব। তখন মহিলাটি বলে তুমি তাহলে কাল থেকেই আমার বাড়িতে এসো। তারপর দিন থেকেই রাধা তার বাড়িতে যায় এবং তার বাড়ির ঠাকুরের সেবাযত্ন করে ও সেই মহিলার সেবাও করতে লাগলো | এভাবেই কয়েকদিন চলতে চলতে রাধা সেই মহিলাটির একজন প্রিয় মেয়ের মতন হয়ে যায়। সেই মহিলাটি রাধাকে সবসময় তার বাড়িতে বসতে বলতো, তাকে ভালো ভালো পোশাক কিনে দিত, ভালো জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যেত | আসাতে আসতে সেই মহিলাটির সাথে রাধার যেন একটি মা মেয়ের সম্পর্কের মতন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। রাধাও খুব খুশিতে থাকতো। তারপর একদিন হঠাৎ রাধার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। সে সেই কথাটা মহিলাটিকে বলতে পারেনি। কারণ বাবা-মা তাকে বলতে বারণ করে। মহিলাটি ছিল একটি বড়লোক আর রাধা ছিল খুব অচল ও গরিব পরিবারের মেয়ে। রাধার বিয়ে ঠিক হয় একটি মধ্যবিত্ত বাড়ির একটি ছেলের সঙ্গে। ছেলেটি একটু কানে কম শুনতো এবং কথায় একটু অদল-বদল হয়ে যেত। ছেলেটির বাড়ি ছিল নিশ্চিন্তপুর নামে একটি গ্রামেতে। রাধার হঠাৎ বিয়ে ঠিক হওয়ায় রাধা সেটা মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু মা-বাবার কথা তো তাকে মেনে চলতেই হবে। তাই সে সেই ছেলেটির সঙ্গে বিয়ে করে ফেলে | রাধা বিষয়টা ঠিক মন থেকে মেনে নিতে পারেনি কারণ সেই মহিলাটি তাকে বলেছিল যখন তোর বিয়ে হবে তুই আমাকে ডাকতে ভুলিস না | কিন্তু তার বাবা-মা সেই মহিলাটিকে বলেনি তারা একটি ছোট্ট আয়োজন এর মাধ্যমে বিয়েটি সম্পূর্ণ করে দেয় |
