ভূতে নেই ভয়
ভূতে নেই ভয়
‘জানিস পদাই, নদীর ধারে মাঠের মাঝে,
বটগাছেতে, সকাল সাঁঝে,
ভূতের বাপের নিত্য আনাগোনা;
পা দুলিয়ে গাছের ডালে,
সাঁঝের পরে আঁধার তলে,
করতে থাকে ভৌতিক যত গানের সাধনা।
শাঁকচুন্নী মা'য়ে বসে,
ভূতের বাপের গা'টি ঘেঁষে,
পায়ের হাড়ে বাজনা বাজায় তালে;
পেত্নী তখন নাচতে থাকে,
গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে,
কালো পেঁচা পাখনা দিলো মেলে’।
অবাক চোখে পদাই শুধায়,
‘তোর যে কত সাহস গদাই,
ভূতের গল্প রাতের বেলায় করিস,
আমি আবার ভীষণ ভীতু,
ভূতে কি দেয় কাতুকুতু,
সন্ধ্যাবেলা যখন ঘরে ফিরিস’।
‘প্রতিদিনই সন্ধ্যা হলে,
সারাদিনই লাঙ্গল ঠেলে,
বাবা যখন ফেরে নিজের বাড়ি;
ভূতেরা সব ঘিরে ধরে,
বাবার সাথে গল্প জোড়ে,
পকেটেতে হাত ঢুকিয়ে নেবেই দু'টি বিড়ি।
বিড়ি পেলেই খুশি সবে,
বাবাকে বলে, দেখা হবে
কালকে যখন যাবি এ পথ দিয়ে;
অনেক অনেক কথা আছে,
আনবি দু'টো ইলিশ মাছে,
রেখে দিবি বটের গোড়ায় গিয়ে’।
‘তোর বাবার তো সাহস অনেক’,
শুনে গদাই থামলো ক্ষণেক,
বলে, ‘বাবার মতো সাহসী কয় জনে ?
সবার বাবার সাহস কোথায়,
ভূতের নামেই পালিয়ে যায়,
নদীর দিকে যায় না সন্ধ্যাবেলা;
ভূতের ভয়টা সবার মাঝে,
ভীষণ ভাবে ছড়িয়ে গেছে,
দিবি কি পদাই বটের ঝুড়িতে দোলা’ ?
‘একা আমি পারি না গদাই,
ভূতের ভয়ে কাঁপছি সদাই,
যেতে পারি তুই যদি যাস পথে’,
‘আমার আবার সময় কোথা,
ঘরের কাজেই ব্যস্ত সদা,
যাই রে বাড়ি, এই, একটু চল না আমার সাথে’।
