Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!
Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!

Sudeshna Mondal

Children Stories Drama Classics


4.0  

Sudeshna Mondal

Children Stories Drama Classics


রাজুর নববর্ষ

রাজুর নববর্ষ

4 mins 334 4 mins 334

রাজুর আজ সকাল থেকেই মন খারাপ৷ প্রতিবছর ভাবে এই দিনটা ও ওর বাবার সাথে কোথাও ঘুরতে গিয়ে খুব মজা করবে ঠিক যেমন ওর বন্ধু রবি আগের বছর এই দিনটায় চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে কত মজা করেছিল ওর বাবা-মার সাথে৷ সেই গল্প তো পুরো একমাস ধরে শুনতে হয়েছিল৷ ওর তো মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল পুরোটাই৷ কিন্তু প্রতিবারের মতো এইবারও ওর বাবার এই দিনটায় বেশী কাজ পড়েছে৷ তাই ওর আর মজা করা হবে না৷ আজ আসুক বাবা বাড়িতে আমি একটাও কথা বলব না-- মনে মনে বলে রাজু৷ আসলে সেই কোন ছোটবেলায় ওর মা মারা গেছে৷ মায়ের মুখটাও ভালো করে মনে পড়ে না ওর৷ বাবা ছাড়া ওর নিজের বলতে আর কেউ নেই৷ তাই যত আবদার ওর বাবার কাছেই করে৷ এমনিতে কোনো আহামরি বায়না ও করে না ওর বাবার কাছে৷ কারণ ও বোঝে ওর বাবার অতো সামর্থ্য নেই৷


ওর একটাই আবদার আজকের দিনটা ওর বাবা যেন ওর সাথে থাকে৷ ওর স্কুলের বন্ধুদের দেখেছে ওরা ওদের বাবা-মাদের সাথে আজকের দিনে ঘুরতে যায়৷ অন্যদিন হলে ও রবির সাথে ক্রিকেট খেলত কিন্তু আজকে সেটাও হচ্ছে না৷ কারণ রবি ওর বাবা-মার সাথে মামার বাড়ি ঘুরতে গেছে৷ মামাতো দাদা-দিদির সাথে সারাদিন ঘুরবে তারপর পরশুদিন বাড়ি আসবে৷ ও ঘুরে এসে আমাকে সব গল্প করবে বলেছে৷ কিন্তু আজ যেন দিনটা তাড়াতাড়ি শেষও হচ্ছে না৷ সন্ধ্যাবেলা বাবা ওর জন্য গ্রিটিংস্‌ কার্ড আনবে বলেছে৷ ও কালকে স্কুলে গিয়ে ওর বন্ধুদের দেবে৷ এখন ও জানলার ধারে বসে বাইরে তাকিয়ে দেখছে কত সুন্দর করে চারিদিক সাজানো হচ্ছে বেলুন দিয়ে আর রঙিন কাগজ দিয়ে৷ সকালবেলা রবি ওকে উইশ করে গেছে আর বলেছে ওকে গ্রিটিংস্‌ কার্ড দেবে বাড়ি এসে৷ রাজু ভাবছে ও যখন রবিকে কার্ড দেবে রবিও কত খুশি হবে যেমন ও হয়৷ সুকান্তও আজ সকাল থেকে ব্যস্ত৷ কারণ আজ হোটেলে অন্যদিনের থেকে কাস্টমারও বেশী৷ হবে নাইবা কেন৷ আজকালকার দিনে মানুষ খুব আরামপ্রিয় হয়ে গেছে৷ ছুটি-ছাটার দিন বাইরে খেতেই পছন্দ করে৷ হোটেলের মালিক বলেছে আজ বছরের প্রথমদিন উপলক্ষ্যে হোটেলের সব কর্মচারীদের এক প্যাকেট করে বিরিয়ানি দেবে৷ সুকান্ত ওটা বাড়ি নিয়ে গিয়ে ছেলেকে দেবে৷ ছেলেটার জন্য তো কোনোদিন কিছু খাওয়ার নিয়ে যেতে পারে না৷ রোজই ওর বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যায় আর তখন দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যায়৷ আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে বলাতে আর ওর জন্য গ্রিটিংস্‌ কার্ডও নিয়ে যাবে বলাতে ছেলেটা তখন খুব খুশি হয়েছিল৷ কিন্তু মনে হচ্ছে আজকেও তাড়াতাড়ি ফেরা হবে না৷ এদিকে ছেলেটাও বাড়িতে একা রয়েছে৷ দেরিতে বাড়ি গেলে খাবারটাও ঠান্ডা হয়ে যাবে৷ আজকে এত কাস্টমার আসছে যে দোকান তাড়াতাড়ি বন্ধও হবে না৷ দোকান যতক্ষণ বন্ধ না হবে বিরিয়ানিও পাবে না৷ থালা ধুতে ধুতে এসবই ভাবছিল সুকান্ত৷ হঠাৎ মালিকের ডাকে হুশ ফেরে৷


-নে নে তাড়াতাড়ি হাত চালা সুকান্ত৷ দোকান এবার বন্ধ করব অনেক রাত হয়েছে৷ মালিকের কথা শুনে হাতের কাজগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করে নেয়৷ তারপর বিরিয়ানির প্যাকেটটা নিয়ে বাড়ীর দিকে পা বাড়ায়৷ বাবা রে, আজ তো রাস্তাঘাট চেনাই যাচ্ছে না৷ চারিদিক আলোয় ঝলমল করছে৷ অন্যদিন হলে তো এই রাস্তা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে থাকে৷ কলকাতার রাস্তাঘাট বলে বোঝাই যায় না৷ বাড়ি পৌছে দেখে রাজু ঘুমিয়ে পড়েছে৷ ওকে ডেকে তুলে দিয়ে ও হাতমুখ ধুতে যায়৷ তারপর প্যাকেট থেকে খাবারটা বের করে রাজুকে খেতে বলে৷

--এটা কী বাবা? আগে তো কখনও আনো নি৷

--এটা বিরিয়ানি৷ তুই খা৷ আজ তো বছরের প্রথমদিন তাই তোর জন্য আনলাম৷ এটা তোর নববর্ষের উপহার ভেবে নে৷

--বাবা তাহলে তুমি আমাকে খাইয়ে দাও৷

ঠিক আছে আমি খাইয়ে দিচ্ছি৷ রাজু আবার জিজ্ঞেস করে-- বাবা, তুমি খাবে না? সব তো আমাকেই খাইয়ে যাচ্ছ৷


--তুই আগে খা তো ভাল করে৷ আমি খেয়ে এসেছি৷ আমার পেট ভরতি৷


--বাবা, তুমি না খুব বোকা৷ মিথ্যে কথাও ঠিক করে বলতে পারো না৷ তুমি তো আমাকে ছাড়া কোনোদিন খাও নি৷ আজ তুমি খেয়ে নিয়েছ এটা বললে আমি বিশ্বাসই করব না৷ তুমি হা করো আমিও তোমাকে খাইয়ে দি৷ আনন্দে চোখে জল চলে আসে সুকান্তর৷ মনে মনে ভাবতে থাকে তার ছোট্ট ছেলেটা কত বড়ো হয়ে গেছে৷ রাতে শুয়ে শুয়ে রাজু জিজ্ঞেস করে-- বাবা, তুমি আমার জন্য গ্রিটিংস্‌ কার্ড আনো নি?

--হ্যাঁ, এনেছি রে৷ তোকে দিতে ভুলে গেছি৷ তারপর জামার পকেট থেকে গ্রিটিংস্‌ কার্ডগুলো বের করে ওকে দেয়৷ ওগুলো পেয়ে রাজু ভীষণ খুশি৷ ভাগ্যিস তখন সুবলকে দিয়ে আনিয়ে রেখেছিল৷ ফেরার পথে নেবে ভাবলে আনা হত না৷ এরপর বাপ-ছেলে মিলে গল্প করতে থাকে আর সুকান্ত রাজুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে৷ রাজু বলতে থাকে কোনটা রবিকে দেবে আর কোনটা বাকী বন্ধুদের দেবে৷ এসব বকবক করতে করতে রাজু ঘুমিয়ে পড়েছে৷ আসতে করে রাজুর গায়ে চাদরটা টেনে দেয় সুকান্ত৷ রাজু পাশ ফিরে সুকান্তকে জড়িয়ে ধরে ঘুমের মধ্যে বলে ওঠে-- "হ্যাপি নিউ ইয়ার বাবা"৷



Rate this content
Log in