Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Sudeshna Mondal

Children Stories Drama Classics


4.0  

Sudeshna Mondal

Children Stories Drama Classics


রাজুর নববর্ষ

রাজুর নববর্ষ

4 mins 345 4 mins 345

রাজুর আজ সকাল থেকেই মন খারাপ৷ প্রতিবছর ভাবে এই দিনটা ও ওর বাবার সাথে কোথাও ঘুরতে গিয়ে খুব মজা করবে ঠিক যেমন ওর বন্ধু রবি আগের বছর এই দিনটায় চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে কত মজা করেছিল ওর বাবা-মার সাথে৷ সেই গল্প তো পুরো একমাস ধরে শুনতে হয়েছিল৷ ওর তো মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল পুরোটাই৷ কিন্তু প্রতিবারের মতো এইবারও ওর বাবার এই দিনটায় বেশী কাজ পড়েছে৷ তাই ওর আর মজা করা হবে না৷ আজ আসুক বাবা বাড়িতে আমি একটাও কথা বলব না-- মনে মনে বলে রাজু৷ আসলে সেই কোন ছোটবেলায় ওর মা মারা গেছে৷ মায়ের মুখটাও ভালো করে মনে পড়ে না ওর৷ বাবা ছাড়া ওর নিজের বলতে আর কেউ নেই৷ তাই যত আবদার ওর বাবার কাছেই করে৷ এমনিতে কোনো আহামরি বায়না ও করে না ওর বাবার কাছে৷ কারণ ও বোঝে ওর বাবার অতো সামর্থ্য নেই৷


ওর একটাই আবদার আজকের দিনটা ওর বাবা যেন ওর সাথে থাকে৷ ওর স্কুলের বন্ধুদের দেখেছে ওরা ওদের বাবা-মাদের সাথে আজকের দিনে ঘুরতে যায়৷ অন্যদিন হলে ও রবির সাথে ক্রিকেট খেলত কিন্তু আজকে সেটাও হচ্ছে না৷ কারণ রবি ওর বাবা-মার সাথে মামার বাড়ি ঘুরতে গেছে৷ মামাতো দাদা-দিদির সাথে সারাদিন ঘুরবে তারপর পরশুদিন বাড়ি আসবে৷ ও ঘুরে এসে আমাকে সব গল্প করবে বলেছে৷ কিন্তু আজ যেন দিনটা তাড়াতাড়ি শেষও হচ্ছে না৷ সন্ধ্যাবেলা বাবা ওর জন্য গ্রিটিংস্‌ কার্ড আনবে বলেছে৷ ও কালকে স্কুলে গিয়ে ওর বন্ধুদের দেবে৷ এখন ও জানলার ধারে বসে বাইরে তাকিয়ে দেখছে কত সুন্দর করে চারিদিক সাজানো হচ্ছে বেলুন দিয়ে আর রঙিন কাগজ দিয়ে৷ সকালবেলা রবি ওকে উইশ করে গেছে আর বলেছে ওকে গ্রিটিংস্‌ কার্ড দেবে বাড়ি এসে৷ রাজু ভাবছে ও যখন রবিকে কার্ড দেবে রবিও কত খুশি হবে যেমন ও হয়৷ সুকান্তও আজ সকাল থেকে ব্যস্ত৷ কারণ আজ হোটেলে অন্যদিনের থেকে কাস্টমারও বেশী৷ হবে নাইবা কেন৷ আজকালকার দিনে মানুষ খুব আরামপ্রিয় হয়ে গেছে৷ ছুটি-ছাটার দিন বাইরে খেতেই পছন্দ করে৷ হোটেলের মালিক বলেছে আজ বছরের প্রথমদিন উপলক্ষ্যে হোটেলের সব কর্মচারীদের এক প্যাকেট করে বিরিয়ানি দেবে৷ সুকান্ত ওটা বাড়ি নিয়ে গিয়ে ছেলেকে দেবে৷ ছেলেটার জন্য তো কোনোদিন কিছু খাওয়ার নিয়ে যেতে পারে না৷ রোজই ওর বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যায় আর তখন দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যায়৷ আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে বলাতে আর ওর জন্য গ্রিটিংস্‌ কার্ডও নিয়ে যাবে বলাতে ছেলেটা তখন খুব খুশি হয়েছিল৷ কিন্তু মনে হচ্ছে আজকেও তাড়াতাড়ি ফেরা হবে না৷ এদিকে ছেলেটাও বাড়িতে একা রয়েছে৷ দেরিতে বাড়ি গেলে খাবারটাও ঠান্ডা হয়ে যাবে৷ আজকে এত কাস্টমার আসছে যে দোকান তাড়াতাড়ি বন্ধও হবে না৷ দোকান যতক্ষণ বন্ধ না হবে বিরিয়ানিও পাবে না৷ থালা ধুতে ধুতে এসবই ভাবছিল সুকান্ত৷ হঠাৎ মালিকের ডাকে হুশ ফেরে৷


-নে নে তাড়াতাড়ি হাত চালা সুকান্ত৷ দোকান এবার বন্ধ করব অনেক রাত হয়েছে৷ মালিকের কথা শুনে হাতের কাজগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করে নেয়৷ তারপর বিরিয়ানির প্যাকেটটা নিয়ে বাড়ীর দিকে পা বাড়ায়৷ বাবা রে, আজ তো রাস্তাঘাট চেনাই যাচ্ছে না৷ চারিদিক আলোয় ঝলমল করছে৷ অন্যদিন হলে তো এই রাস্তা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে থাকে৷ কলকাতার রাস্তাঘাট বলে বোঝাই যায় না৷ বাড়ি পৌছে দেখে রাজু ঘুমিয়ে পড়েছে৷ ওকে ডেকে তুলে দিয়ে ও হাতমুখ ধুতে যায়৷ তারপর প্যাকেট থেকে খাবারটা বের করে রাজুকে খেতে বলে৷

--এটা কী বাবা? আগে তো কখনও আনো নি৷

--এটা বিরিয়ানি৷ তুই খা৷ আজ তো বছরের প্রথমদিন তাই তোর জন্য আনলাম৷ এটা তোর নববর্ষের উপহার ভেবে নে৷

--বাবা তাহলে তুমি আমাকে খাইয়ে দাও৷

ঠিক আছে আমি খাইয়ে দিচ্ছি৷ রাজু আবার জিজ্ঞেস করে-- বাবা, তুমি খাবে না? সব তো আমাকেই খাইয়ে যাচ্ছ৷


--তুই আগে খা তো ভাল করে৷ আমি খেয়ে এসেছি৷ আমার পেট ভরতি৷


--বাবা, তুমি না খুব বোকা৷ মিথ্যে কথাও ঠিক করে বলতে পারো না৷ তুমি তো আমাকে ছাড়া কোনোদিন খাও নি৷ আজ তুমি খেয়ে নিয়েছ এটা বললে আমি বিশ্বাসই করব না৷ তুমি হা করো আমিও তোমাকে খাইয়ে দি৷ আনন্দে চোখে জল চলে আসে সুকান্তর৷ মনে মনে ভাবতে থাকে তার ছোট্ট ছেলেটা কত বড়ো হয়ে গেছে৷ রাতে শুয়ে শুয়ে রাজু জিজ্ঞেস করে-- বাবা, তুমি আমার জন্য গ্রিটিংস্‌ কার্ড আনো নি?

--হ্যাঁ, এনেছি রে৷ তোকে দিতে ভুলে গেছি৷ তারপর জামার পকেট থেকে গ্রিটিংস্‌ কার্ডগুলো বের করে ওকে দেয়৷ ওগুলো পেয়ে রাজু ভীষণ খুশি৷ ভাগ্যিস তখন সুবলকে দিয়ে আনিয়ে রেখেছিল৷ ফেরার পথে নেবে ভাবলে আনা হত না৷ এরপর বাপ-ছেলে মিলে গল্প করতে থাকে আর সুকান্ত রাজুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে৷ রাজু বলতে থাকে কোনটা রবিকে দেবে আর কোনটা বাকী বন্ধুদের দেবে৷ এসব বকবক করতে করতে রাজু ঘুমিয়ে পড়েছে৷ আসতে করে রাজুর গায়ে চাদরটা টেনে দেয় সুকান্ত৷ রাজু পাশ ফিরে সুকান্তকে জড়িয়ে ধরে ঘুমের মধ্যে বলে ওঠে-- "হ্যাপি নিউ ইয়ার বাবা"৷



Rate this content
Log in