নবজন্ম
নবজন্ম
নবজন্ম
রজত বাবু বিছানায় এলেন , রাত্রি এগারোটা মাত্র। এতো তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তেও ঠিক মন চায় না । সারা দিনের কাগজটা এখনো শেষ হয়নি । তা ছাড়া রবিবারের পাতা গুলো অনেকটাই রয়ে গেছে বাকী। এ টাই শান্ত সময় । সবাই ঘুমিয়ে পড়ে । আর উনিনিশ্চিন্তে চোখ বুলিয়ে যান । কোনোদিন কবিতার লাইন গুলো পরের পর মনের মতো করে সাজিয়ে কবিতাটা সম্পূর্ণ করেন । শুধু সম্পূর্ণ নয় একেবারে ফেসবুকে পোস্টিংও করে দেন । এখন এটাই ওনার নেশা । একটা বিশুদ্ধ নেশা । এই বিশুদ্ধ নেশাটাই ওনাকে অক্সিজেন জুগিয়ে চলেছে আজও । আর চলবে এখনো বহুদিন । বহু ব্ছর । চললেই মঙ্গল । হঠাৎ উনি শরীরে একটা অসুবিধা বোধ করলেন । একটা অব্যক্ত কষ্ট । শোবার চেষ্টা করলেন । পারলেন না । পাশ ঘুরবার চেষ্টা করলেন । পারলেন না । দেখলেন - উনি বসতেও পারছেন না সবাই
তখন ঘুমিয়ে পড়েছে । ভাবলেন - আবার ডাকব .?
কিন্তু না । অপেক্ষা করা গেলো না । ছেলে পাশের ঘরে এই মাত্র শুয়েছে । উনি একজন ডাক্তার । নিরুপায় হয়ে ডাকলেন - শরৎ । ডাক্তার বাবু বুঝতে পেরেছেন । তড়িত গতিতে ছুটে এলেন । .........কিছু অসুবিধা হচ্ছে ? তখন ওনার কথা বলার সামর্থ নেই । ইশারা করে বোঝালেন । ......দম নিতে পারছি না । ......শুতে
পারছিনা । দেরী না করে নিচ থেকেও সবাইকে ডাকলেন । সাংহাতিক অবস্থা ! ওষুধ শুরু করলেন ডাক্তার বাবু । শরীরের কষ্টও বাড়তে থাকেলো।
ডাক্তার বাবু ওষুধ পাল্টাতে থাকেন । কিছুতেই শরীর স্বাভাবিক হয় না রজতবাবুর ।
শুরু হয়ে গেলো কাশি । সর্দির সাথে উঠতে লাগলো
রক্ত । অবাক ব্যাপার । আধ ঘন্টার মধ্যে শরীরটার
মধ্যে কি যেন হয়ে গেলো । তখন পুরোপুরি ভুবন অন্ধকার দেখছেন উনি । শরীর ,মন, মাথা কিছুই
যেন কাজ করছে না ।
তখন গোলমালের আওয়াজ পেয়ে বাইরের লোকও
এসে গেছে । যাই হোক পাঁচ , দশ মিনিট অন্তর ওষুধ খেতে খেতে যখন রাত্রি দুটো তখন একটু
হালকা বোধ করলেন ।শেষে একটু ঘুমিয়ে পড়লেন
সবাই যে যার বিশ্রামে চলে গেছে । ঘর ফাকা ।
সকাল হতেই একজন ডাক্তার বাবুকে ডেকে আনলন শরত বাবু ।
ডাক্তার বাবু পরীক্ষা করে দেখলেন । বললেন , সবই তো নর্মাল দেখছি । যাই হোক একটু হার্ট টা
দেখিয়ে নেবেন । লাং এ একটু ইনফেকশন আছে ।
রজতবাবুর শরীর বেশ খারাপ । সকলেই চিন্তিত ।
ডাক্তার বাবু নিজে চিন্তা ভাবনা প্রয়োগ করে দু একটা দিন পার করলেন । কিন্তু এ ভাবে রোগ মুক্তি
ঘটবে না । ঠিক হলো হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে ।
এবং বেল ভিউ ক্লিনিকে উনি ভর্তি হয়ে গেলেন ।
শুরু হলো এক কষ্টের অধ্যায় । পরিষ্কার পরিছন্ন
ওয়ার্ড , সুব্যবস্থা , আশ্রিত রোগীকে সুনজরে সুপরিচালনার সুবিন্যস্ত পরিকাঠামোয় রেখে সুচিকিৎসা প্রদানই যেখানে মূল উদ্দেশ্য সেইখানে
230 নং বেডে স্থান নিলেন রজতবাবু ।
ডাক্তার বাবুদের কড়া নজর । ঘড়ি ধরে ওষুধ । ঘড়ি
ধরে পরীক্ষা নিরীক্ষা সব চলতে লাগলো । কোনো
পরীক্ষা বাকী রইলো না । বিছানায় খাওয়া । বিছানায় শোয়া । এমন কি বিছানায় টয়লেট এবং
পায়খানা । দশ হাত দূরে ল্যাটরীন । অথচ যাওয়ার
অনুমতি নেই । এক বিচিত্র অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ
হয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ্য শরীরে বাড়ি ফিরলেন রজতবাবু ।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মানুষকে মরতে দেয় না।
রজতবাবু ভাবলেন এ যেন ওনার নবজন্ম ।
.....................................................................
