Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Maheshwar Maji

Others


0  

Maheshwar Maji

Others


লক্ষ্যভেদ

লক্ষ্যভেদ

4 mins 1.4K 4 mins 1.4K

আমি একজন শিক্ষিত।বিবেক আছে। তাই বুকের ভিতর যন্ত্রণা অনুভব করি। গ্রামে বড় হয়েছি।মাধ্যমিকের পর অনেক কষ্টে পড়াশুনো করেছি।টিউশানি পড়িয়ে কখনো বা দিন মজুরের কাজ করতে হয়েছে। তবু পড়াশুনোটা চালিয়ে গেছি। খুব ভাল রেজাল্ট করতে পারিনি।

কলেজ শেষ করে চাকরির চেষ্টা করলাম।অনেক পরীক্ষা দিলাম।কয়েকবার পাশ করে ইন্টারভিউ দিলাম।তবু কিছু হল না।

তারপর শহরে এলাম।প্রাইভেট কম্পানিতে কাজ করার উদ্দেশ্যে।


এখানেও এসে দেখলাম,চারিদিকে রক্তচোষা বাদুড়ের দল।কাজের মানে পারিশ্রমিক নেয়। প্রতিবাদ করলে ঘাড়ধাক্কা জোটে।চারিদিকে ঠগ,জোচ্চোর আর রাহাজানিতে শহরের প্রতিটা কোণা ভরে উঠেছে।


অনেক আগে কবিতা,টবিতা লিখতাম।এখানে আসার পর খালি পেটে সেইসব পুরনো শব্দরা কলমের ডগায় বেরোনোর তরে ভুড়ভুড় করে আওয়াজ করতে লাগল। তাই একটা ঘুপচি মেসের স্যাঁতসেঁতে মেঝেয় চাটাই পেতে বসে পড়লাম। বুকে রাশি-রাশি যন্ত্রণা অন্যদিকে মশাদের শারীরিক পীড়া!

তবু আমি দাঁতে দাঁত চেপে উপন্যাসখানা শেষ করলাম।


"রাতের সূর্য"

এখানে সূর্য মানে আকাশের উজ্বল বস্তুটি নয়। সূর্য এখানে নায়কের নাম।আমার মতই একজন সাধারণ শিক্ষিত যুবক।মানুষের মত সাধারণভাবে বাঁচার জন্য শহরে এসেছিল। প্রতিদিনের পাওয়া লাঞ্ছনা আর তিরস্কার থেকে সে একদিন বীতস্পৃহ হয়ে, অন্ধকার জগতের সাথে হাত মিলিয়ে নিল। রাতারাতি অনেক প্রতিপত্তির মালিক হয়ে উঠল। জীবনটাকে দু'হাত ভরে উপভোগ করতে গিয়ে তার পা দুটো আটকে গেল পাপের চোরা বালিতে। সে যত বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে লাগল,তত পাপের মধ্যে ক্রমশ তলিয়ে গেল। তখন তার মন ছটফট করতে লাগল।প্রকৃতির মুক্ত আলো,বাতাসের জন্য ।পর পর তিনটে মন্ত্রীর একসাথে ভবপারের টিকিট কেটে চিরদিনের মত আন্ডারগ্রাউন্ড হতে হল।অন্ধকারে থাকতে,থাকতে এক সময় নায়ক হাঁপিয়ে উঠল। নারীর শরীরেও মন তৃপ্তি পায় না।সুরার পাত্রেও দুঃখ ভরে আসে না।নরম বিছানায় মনের জ্বালা উপশম হয় না।

তখন একদিন সে চুপিসারে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আত্মসমর্পণ করল। কৃতকর্মের সমস্ত দোষ আলাদতের সামনে স্বীকার করে নিল।

তার আত্মপমর্পণ এবং প্রায়শ্চিত্ত মনোভাবের জন্য সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হল।

সেও কোন একসময় সাহিত্যানুরাগী ছাত্র ছিল।জেলের আলো-আঁধারীতে মনের সেই মৃত শব্দরা সঞ্জীবনী-বলে হঠাৎ একদিন জেগে উঠল।ভাষা পাওয়ার তরে ছটফট করতে লাগল। সেও তখন ধরল কলম।রাতের অন্ধকারে মোমবাতির ক্ষিণ আলোয় লিখতে শুরু করল জীবনের কথা।

সেই উপন্যাসখানা একদিন প্রকাশিত হল।

পৃথিবীর সাহিত্যানুরাগী প্রতিটি মানুষের হাতে বিভিন্ন ভাষায় উপন্যাসটি ছড়িয়ে পড়ল। একদিন সে আমন্ত্রণ পেল নোবেল সম্মানের জন্য।

নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা বলয়ের মাঝে সে পৌঁছাল তার জীবনের সেরা উপহারটি গ্রহণ করার জন্য।


আমি রোজ এক একজন প্রকাশকের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করলাম।বিনা অর্থে কেউ উপন্যাসটি প্রকাশ করতে রাজি হচ্ছেন না।

আমার চ্যাটচেটে পলিথিনের ময়লায় ক্রমশ সূর্যের তেজ, ম্লান হতে লাগল। বাড়ির লোকেরা কেউ আমার খোঁজ করেন না।

আমার বয়স এখন ছত্রিশ বছর।কোনদিন প্রেম করিনি।নারীর সোহাগ কী জিনিস উপলব্ধি করার সুযোগ পাইনি। তবু পাতার পর পাতা সেই অলীক সুখের বর্ণনা লিখে গেছি।

আজ অনেকদিন পর গঙ্গার তীরে হওয়া খেতে বসলাম। সামনেই শ্মশান ঘাঁট।নাম জানি না। শুধু একটা জ্বলন্ত চিতার শিখা দেখতে পাচ্ছি। মানুষের শেষ ঠিকানা। আমি আস্তে,আস্তে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলাম।জলস্তর ফুলছে।জোয়ারের সময়।আমি হাতের সূর্যকে বিসর্জন করে দিলাম।মায়ের মন্দিরে কেউ ঠিক সময়ে ঘন্টাটা বাজিয়ে দিলেন।পায়ে হেঁটেই পৌঁছে গেলাম বউ বাজারের একটা দুর্গন্ধময় গলির ভিতর।

বছর পঁচিশের একজন ছিপছিপে গড়নের নারী।নাম তার কল্পনা।মুক্ত গদ্যের মত কথা বলতে জানে।একদিন হঠাৎ করে পার্কের বেঞ্চে পরিচয় হয়ে গেছিল।একজন বেশ্যার মনেও কাব্য লুকিয়ে থাকতে পারে,প্রথম জেনেছিলাম।ঠিকানা দিয়ে শরীরের আমন্ত্রণ করে গেছিল।অনেক দিন আগে।ভেবেছিলাম কিছু একটা উপহার নিয়ে কোনদিন যাব।আজ খালি হাতেই এলাম।

এক দেখায় আমায় চিনে ফেলল।ঘরের ভিতর বসতে দিল।অতিথির মত মিষ্টি খেতে দিল। তারপর একাই দাঁড় টেনে সেই অলীক সুখের সাথে পরিচয় ঘটাল।

রাতের খাবার জন্য তিরিশ টাকা পকেটে রাখা ছিল। দিতে গেলাম,নিল না।উল্টে আমাকেই একটা একশো টাকা ধরিয়ে বলে উঠল,এক প্লেট মাংস কিনে নেবে।অনেক কষ্ট দিলাম।

আমি যাতায়াতের জন্য এই শহরে ট্রামটাকেই বেছে নিই। অনেক সময় টিকিট কাটার প্রয়োজন হয় না। কন্ডাক্টর কী ভেবে কোনদিন টিকিটও চান না। সময় যতই লাগুক।ঘুম আসে না। শহরের ব্যস্ততাকে দেখি।আর চরিত্রের সৃষ্টি করি।আজ আর করলাম না।

আমার সূর্যের বিসর্জণ হয়ে গেছে। আর নতুন করে কাউকে বিসর্জণ করার সাধ নেই।ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভা।লোকে লোকারণ্য। আমার সেদিকে যাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই। তাই জনস্রোতের উল্টোমুখে যাওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম। ধাক্কাধাক্কি,গুঁতোগুঁতি।শেষে দেখি আমার একটা চপ্পল খুঁজে পাচ্ছি না। জানি আর পাব না। যদিও অনেক পুরাতণ।গোড়ালির দিকটা ক্ষয় হয়ে অল্প ফুটো হয়ে গেছে। কতদিন আগে কিনেছিলাম। মনে নেই। পিওর চামড়ার বলেই অনেকবার রিপেয়ার করে পরতে পেরেছি। বড্ড মায়া জন্মে গেছে।চপ্পল জোড়াটার উপর।সব সময় আমার সাথে ঘুরত।আমার সমস্ত পথের একমাত্র সাথী।একপায়ে গলিয়ে কী চলা যায়? পাগল তো এখনো পুরো হইনি।তবে সাজতে ক্ষতি নেই। তাই অন্য চপ্পলটা হাতে ধরেই চললাম।সবার সাথে।স্রোতের অনুকূলে।বিশাল জনসভার মাঝে।


বিশাল মঞ্চ! সাদা পোশাকের ভদ্র মানুষগুলো সারি-সারি ঠান্ডা হওয়ার তলে একে-একে বক্তৃতা দিচ্ছেন। পাশ থেকে কয়েকজন ফিসফিস করে বলতে লাগল,

"ওই লোকটা তিনটা খুন আর দুটো রেপ করার পরও এ বছর ইলেকশনে দাড়াচ্ছে।এই মানুষটা, কী জনসেবা করবে?"


প্রশ্ন এমনভাবে করল।যেন বাতাসটিও টের না পায়।তবু আমার কানে জানি না কী করে চলে এল।অনেকের মনেই প্রশ্ন।অনেকের মনেই আগুন।কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। শুধু নীরবে ফিসফাস করেই ক্ষোভের আগুনটা শেষ করে দেয়। আমি কী করব?

এই সমাজ আমাকে তো দুমুঠো খাবারও দেয়নি।আমিই বা কেন এসব নিয়ে চিন্তা করছি?তবু মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলাম।কী মনে করে পুলিশগুলো আমাকে বাধা দিলেন না।বড্ড বেমানান লাগছে চপ্পলটা।অনেকদিনের মায়া!! তবু মনের জোরে দিলাম ছুঁড়ে।একেবারে ভাষ্যকারের মুখে গিয়েই লাগল।


এতদিনে আমি প্রথম একটা লক্ষ্যভেদ করলাম।কী যে আনন্দ পেলাম মনের মধ্যে... বলে বোঝাতে পারব না।তার পরেই একটা আঘাত পিছনদিক থেকেই সম্ভবত এল।ঠিক মত মনে নেই। আজও আর কিছু মনে করতে পারি না।

      -----সমাপ্ত-----


Rate this content
Log in