Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Susmita Sau

Others


1  

Susmita Sau

Others


চুপকথার রূপকথারা

চুপকথার রূপকথারা

2 mins 597 2 mins 597

আজ একটু অন্যরকম লেখা দিলাম| এর কতটা সত্যি আর কতটা গল্প তা ঠিক আমারও জানা নেই| এ গল্প প্রায় প্রত্যেকেই কম বেশি শুনেছেন| আমিও শুনেছি আর সেই তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম| এর সত্যতা বিচার করার দায় আমার নয়| আশা করি বন্ধুরা গল্পের ছলেই নেবেন|

প্রায় বারোশ আটত্রিশ সাল | ততকালীন উড়িষ্যার রাজা নরসিংহ দেব একটি মন্দির তৈরীর নির্দেশ দিলেন| প্রায় 1200 শ্রমিক নিযুক্ত করেছিলেন|

ঘটনাটা এর 12 বছর পরের| পুরী জেলার কাছেই একটি ছোট্ট গ্রামে ধর্মদাস নামে 12 বছরের একটি ছোট্ট ছেলে তার মায়ের সাথে থাকতো| সে ছোট থেকেই তার বাবা কে দেখেনি | জন্ম থেকে শুনেছিল বাবা অন্যত্র থাকে| একদিন জেদ করে মাকে ধরলে বাবার কথা বলতেই হবে|

ছেলের জেদের কাছে হার মেনে মা শুরু করলেন বাবার কথা| ছেলে শুনলে সে গল্প রাজা নরসিংহ দেবের হুকুমে 1200 শ্রমিক 12 বছরের মধ্যে তৈরি করছে সূর্যদেবের মন্দির| যা নাকি 12 বছরের বেশি একটা দিন ও দেওয়া যাবেনা আর 1200 র বেশি এক জন শ্রমিক ও নেওয়া যাবে না| তাই তার বাবা অন্তঃস্বত্তা স্ত্রীকে রেখে চলে গেছে| ছেলে জেদ ধরল বাবার কাছে যাওয়ার|

অবশেষে মা অনুমতি দিলেন যাওয়ার| ছেলেটা মা র দেওয়া পরিচয় পত্র প্রমাণ স্বরূপ নিয়ে উপস্থিত হল বাবার কাছে|

নিজের সন্তান কে দেখে বাবা আনন্দে আত্মহারা| এদিকে তখন আর মাস দুই বাকি মন্দিরের কাজটা সমাপ্ত করতে হবে| ছেলে দেখছিল বাবা শত চেষ্টা তেও মন্দিরের মঙ্গল ঘট প্রতিস্থাপন করতে পারছেননা| ছেলে উতলা হয়ে হাত লাগালো| আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সুস্থ ভাবে হয়ে গেলো|

এদিকে রাজার কানে কথাটা.উঠলো একজন শ্রমিক বেশি| রাজা তো রাগে অন্ধ হয়ে উঠলেন| শাস্তি ঘোষণা করার আগেই ধর্মদাস সবাই কে বাঁচিয়ে দিয়েছিল| সে 857 ফুট উঁচু মন্দিরের মাথা থেকে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছিল|

সেই থেকে মন্দির অপবিত্র ঘোষিত হল| রাজার শখের মন্দির আর পূজো হলনা| কোনারকের মন্দির তাই পূজা ছাড়া রয়ে গেল|

সমগ্র মন্দিরটি ব্যাসাল্ট শিলা দিয়ে তৈরী| পাথরের মধ্যে লোহা ঢুকিয়ে তৈরী হয়েছিল| একটি খুব শক্তিশালী চুম্বক দ্বারা সমগ্র মন্দিরটি দাঁড় করানো ছিল|

পরবর্তীকালে ইংরেজরা চুম্বকটি র কারণে দিক নির্ণয়ের অসুবিধা হওয়ার দরুণ সেটি হস্তগত করেন| যার ফলে মন্দিরটি ভাঙতে শুরু করে| এর পরবর্তীকালে লর্ড কার্জনের আমলে সম্ভবত 1904 সালে মন্দিরটি র পুনরায় রক্ষনাবেক্ষন শুরু হয়| তখন তা প্রায় 200 ফুট হয়ে গিয়েছিল|

মন্দিরটি সমুদ্র থেকে উঠে আসা সূর্য দেবের রথের আদলে তৈরী| রথের সামনে সাতটি ঘোড়া সপ্তাহের সাতটি দিন| 12 জোড়া বিশাল চাকা 24 টি পক্ষ| সেই একই ভাবে আজও বিরাজমান| শুধু মুছে গেছে ধর্মদাসের কাহিনী টুকু। সেটা হয়তোবা রয়ে যাবে সাধারণ মানুষের মনে।


Rate this content
Log in