Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!
Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!

Sandip Ghosh

Children Stories Action Classics


4  

Sandip Ghosh

Children Stories Action Classics


পাঁচু দাদুর বাগান

পাঁচু দাদুর বাগান

23 mins 405 23 mins 405


সূর্যদেবের উদয় হতে এখনো কিছুটা সময় বাকী | মায়ের ডাকে টুকাই চোখ কচলাতে কচলাতে বিছানা ছেড়ে উঠে আসে | মা সকালের কাজ সারতে সারতে আবার ডাকেন ; "কইরে টুকু উঠেছিস ? আয় দেখবি আয় |" হাই তুলতে তুলতে টুকাই ঘরের ভেতর থেকে বাইরে আসে| -----"কি হয়েছে মা, আজ ভোর ভোর ডাকছ ?" ------"এসেছিস ?" উঠোনের মাঝে নামানো ঝুড়িটা দেখিয়ে মা বলেন ; "ঐ দ্যাখ্ !" ঝুড়ির দিকে তাকিয়ে টুকাইয়ের চোখ খুশিতে চকচক করে ওঠে ! "আম !!!!!" ----"কে দিল মা ?" রাত্রের রেখে দেওয়া কয়েকটা বাসন ধুতে ধুতে শকুন্তলা বলেন ; ------"পাঁচুদাদুর বাগানের আম | তার দু'জন বাগান পাহারাদার এসে দিয়ে গেল |" টুকাইয়ের যেন ঠিক বিশ্বাস হোল না , ------"কি বললে মা, পাঁচুদাদুর বাগানের আম !! আবার বাড়ি বয়ে দিয়ে গেছে !" শকুন্তলা বলেন ; --------"তবে আর বলছি কি ! আমরাও অবাক হচ্ছি পাঁচুদাদুর হঠাত্ পরিবর্তনে | তবে তোর বাবা বলছিল পাঁচুদাদুর কে এক আত্মীয় নাকি কিছুদিন আগে এসেছে |" টুকাইয়ের বাবা অতনুবাবু চায়ের খোজ করতে রান্না ঘরের দিকে আসেন | বলেন ; "হ্যাঁ---- ভদ্ৰলোক পাঁচুদাদুর ভাগ্না , তবে নিজের নয় | আমার সাথে আলাপ হয়েছে | খুব মিশুকে টাইপের মানুষ | পাঁচুদাদুর বয়স হয়েছে , তাই ভাগ্নাকে বাগানের দায়িত্ব দিয়েছেন |" কিছুক্ষণ থেমে অতনুবাবু আরো বলেন; ------"দিনে দিনে যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে করে আমাদের এখানেও ভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে | টুকাই আমের কাছে যাবিনা | আমের ঝুড়ি যেখানে আছে থাকবে | আর শকুন্তলা , ঘন্টা তিনেক পর বা বেলায় যখন স্নান করবে তার আগে আমগুলো রানিং ওয়াটারে ভালো করে ধুয়ে নিও |" যাইহোক টুকাই আর কি করে--- আমের খুশি ত্যাগ করে ব্রাশ নিয়ে দাঁত মাজতে চলে যায় |


 পাঁচকড়ি দাস ছিলেন আগেকার দিনের নামজাদা ধনী লোক | বড় ব্যবসায়ী ছিলেন |তার প্রতিপত্তি, খ্যাতি ছিল জেলাজুড়ে | মানুষের উপকার করবার জন্য মন সর্বদা চঞ্চল হয়ে উঠত | কার কি সুবিধা-অসুবিধা, তিনি খোঁজ রাখতেন | তাই মানুষও তাকে শ্রদ্ধা- ভক্তি করতেন | এই পাঁচকড়ি দাসেরই একমাত্ৰ বংশপ্রদীপ পাঁচুগোপাল দাস | বর্তমানে ছোটবড় সকলেই তাকে পাঁচুদাদু নামেই চেনে | এই 'পাঁচুদাদুর বাগান' তার বাবা পাঁচকড়ি দাসেরই হাতে গড়া | বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা বাগানটা পুরোটাই ঢাউস্ পাঁচিল দিয়ে ঘেরা | আগে এই বাগান প্রকৃতির মধ্যেই মিশেছিল | আলাদা করেন পাঁচুদাদু দায়িত্ব নেওয়ার পর | বাগানে পাঁচিল তুলে দেন | কি নেই বাগানে ! বিভিন্ন-সব্জি, ফল থেকে শুরু করে মাছের চাষও করা হয় | বাগানে ফলের গাছ ছাড়াও রয়েছে প্রচুর নাম না জানা রকমারি বৃক্ষ | ভেতরে ঢুকলে মনে হবে কোনো জঙ্গলে এসে পড়েছি ।হাল আমলের এই পাঁচুদাদু মানুষটা আসলে খুব হাড়কিপ্টে |


গ্রামের লোকের অনেকে কিপ্টেগুরু বলে ডাকে | ছেলেপিলেতে প্রচন্ড এলার্জি | বাগানের ফল বা অন্য কিছু দেওয়া তো পরের কথা, বাগানের ধারেকাছেই আসতে দেয় না | মালী সমেত প্রায় দশ-বারোজন বিশ্বস্ত পাহারাদার আছে | এই পাহারাদারগুলোও হয়েছে তেমনি | পাঁচিল বা সদর গেটের আশেপাশে কোনো ছেলেকে দেখলেই তেড়ে আসে | সদর গেট পেরিয়ে কিছুটা গেলেই বাঁদিকে পেল্লাই পুরোন মডেলের দোতলা বাড়ি | বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে বেশ সাজানো-গোছানো | তবে বাড়িটা বেশ পুরোন | একতলাটা বানিয়েছিলেন পাঁচকড়ি দাস | পাঁচুদাদু দোতলার কাজটা শেষ করেছেন | ডানদিকে রয়েছে পাঁচুদাদুর ব্যবসায়িক অফিসঘর | এটি অবশ্য কংক্রিটের নয় | খড়ের ছাউনি, মাটির দেওয়াল | শীত- গরমে বেশ আরামদায়ক | পাঁচুদাদু দিনের বেশির ভাগ সময় এখানেই কাটান | আর একজন বসেন, সে এই অফিসের ম্যানেজার কিশোর দত্ত | যাকে সবাই 'ম্যানজারবাবু' বলেই ডাকে | স্বল্পভাষী, তবে পাঁচুবাবুর বেশ আজ্ঞাবহ | এখানে তার চাকরির বয়স প্রায় পনেরো বছর | বর্তমানে ম্যানেজার বাবু কিছুদিনের ছুটিতে আছেন | এদিকে পাঁচুদাদুর শরীর কিছুদিন হল খুব একটা ভালো নেই | অফিসে বেশীক্ষণ সময় দিতে পারেন না | একা মানুষ | কাজের মাসী আছে একজন | রান্নাবান্না সহ বাড়ীর যাবতীয় কাজ করে দেয়


      পাঁচুদাদু কিছুদিনের জন্য ভাগ্না অখিলেশ মহন্তকে ফোন করে ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আসতে বলেছিলেন | কাঠের ব্যবসায়ী অখিলেশ গাড়ী হাঁকিয়ে সেইদিনেই এসে পাঁচুদাদুর পায়ের ধুলো নেন | টুকাইদের গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষদের সঙ্গে মাত্ৰ কয়েকদিনেই বেশ সখ্যতা তৈরি করে ফেলেছেন | 'অখিলবাবু' নামে বেশ পরিচিতি হয়েছে তার | বিনা পয়সায় পাঁচুদাদুর বাগানের ফল, সব্জি ,মাছ পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে নিয়মিত | টুকাইদের বাড়িও বাদ নেই | অখিলেশবাবু আসার পর টুকাই এন্ড কোং- বাগানে বারকয়েক ঘুরেও এসেছে | টুকাই এন্ড কোং- মানে তার বন্ধুরা----- মণি, সোনাই, প্রীতম, নিলয়, সাজু | টুকাইয়ের বাবা ভুমি সংস্কার অফিসের বড়বাবু | জমিজমা সংক্রান্ত সরকারী নিয়ম জানা-বোঝা বা পরামর্শ নেওয়ার জন্য পাঁচুদাদু অতনুবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন | সেই কারণে পাঁচুদাদুর সঙ্গে টুকাইয়ের বাবা অতনু বাবুর একটা সুসম্পর্ক আছে | আর এই সুবাদে পাঁচুদাদুর বাগানে টুকাইয়ের অবাধ যাতায়াত না থাকলেও সদর বড় গেটে প্রহরী থাকা সত্বেও কোনদিন টুকাই এন্ড কোং- এর প্রবেশে কোন বাধা আসেনি | অখিলেশ মহন্ত'র সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে | চোখের ভাষায় গোপনীয়তার চিহ্ন লক্ষ্য করে টুকাই | ভালো লাগেনি তার | বুদ্ধিমান সাহসী ছেলে সে | মেধাবী ছাত্র | ক্লাস এইট চলছে | পড়াশুনাটা সে তার নিজের সময়মতো করে নেয় | সময়জ্ঞানের ব্যাপারে সচেতন | তাই ছেলের উপরে শাসনের চিন্তা নেই শকুন্তলা-অতনুবাবুর | অখিলেশবাবু বাগানের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায়শই পাঁচুদাদুর বাগান থেকে কিছু না কিছু আসছে | বেশ কিছুদিন ধরে এই ব্যবস্থাটা চলছে | আজকেও টুকাইদের বাড়ীতে লিচু আর সব্জি দিয়ে গেছে পাঁচুদাদুর মাইনে করা সব্জিচাষের কর্মচারী | টুকাই সকালে দাঁত ব্রাশ করতে যাওয়ার আগে বাগান থেকে কি কি পাঠিয়েছে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় | তারপর দাঁত ব্রাশ করতে করতে একনাগাড়ে ভাবে-----'কি এমন ঘটল যে পাঁচুদাদু হঠাত্ আমূল বদলে গেল ? নাকি অখিলেশবাবুর একার সিদ্ধান্তে চলছে এসব ? শুনেছি পাঁচুদাদুর শরীর খারাপ | সেই সুযোগে অখিলেশ বাবু………না- না পাঁচুদাদু জানবে না তাই কি করে হয় ?' ঠিক সেইসময় অতনুবাবুর ফোনটা বেজে ওঠে | তারপর তিনি যা শুনলেন তাতে তার চোখ কপালে ওঠার মতো | খুব ভয় পেয়েছেন | ভয় পাওয়ারই কথা | পাঁচুদাদু বাড়িতে নেই, রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে | অখিলেশবাবু দায়িত্ব নেওয়ার দিনদুয়েক পর থেকে স্থানীয় কোভিড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন | এইসময় বাগানের লোক টুকাইদের বাড়িতে ঢুকেছে মানে খুব চিন্তার বিষয় বটে বৈকি ! তবে অতনুবাবু নিজের ভয় কাটিয়ে বাড়ীর সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলেন | এখন লকডাউন শেষে আনলক শুরু হয়েছে | বাজার অফিস সর্বত্র খোলা | মুখে মাস্ক পরেন এবং অফিস যাওয়ার আগে তিনি টুকাইকে বাড়ীর বাইরে বেরোতে নিষেধ করে যান |

     বাবা বেরোতেই টুকাই মায়ের পুরোন স্মার্ট ফোনটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে | বেরোনোর আগে মাকে বলে; ----"মা, আমি সোনাইয়ের কাছে যাচ্ছি , একটু পরে ফিরব |" শকুন্তলা বলেন; ------ "মাস্ক পরেছিস্ ? তাড়াতাড়ি ফিরে আসবি |" ------"হ্যাঁ মা" বলে টুকাই বেরিয়ে যায় | তারপর সে বন্ধুদের ফোনে ডেকে নেয় | এবার টুকাই এন্ড কোং রেডি | ওদের গন্তব্যস্থল পাঁচুদাদুর বাগান | গ্রাম ছাড়িয়ে প্রায় চার'শ মিটার পথ যাওয়ার পর দেখা মিলবে বনবিতানের সৌন্দৰ্যে আলোকিত সেই বাগান | ওরা আজকে সদরগেটের কাছে পৌঁছতেই পাহারাদারদের সর্দারের সঙ্গে দেখা ! সর্দার 'টুকাই এন্ড কোং-কে ভালোমতো চেনে | আসলে ওরা কখনো কোনো গাছে হাত দেয়নি আজ পর্যন্ত | সেই জায়গা থেকে ভরসা রয়েছে টুকাই এন্ড কোং-ওপর | সর্দার স্মিত হাসি হেসে বলে; --------"কি টুকাই বাবু , তুমরা একন ? জানোনি বাইরাস বেরিচে ! বাগান বন্দ আচে-----যাও যাও তুমরা বাড়ি যাও |" টুকাই জিজ্ঞেস করে; ------"বাগান কবে থেকে বন্ধ আছে সর্দারকাকু ? কিন্তু বাগানের ভেতর থেকে কথাবার্তার আওয়াজ আসছে মনে হচ্ছে !" বন্ধুদের বলে------"তোরা শুনতে পাচ্ছিস ?" ওরা সকলেই একযোগে "হ্যাঁ" বলে | এবার সর্দার বিব্রত বোধ করে, তারপর টুকাইদের জানায় যে, ওরা প্রত্যেকেই এখানে আছে | মালী, পাহারাদার, সব্জিচাষের লোকজন সবাই | পুরোপুরি বন্ধ কোনদিনই ছিলনা , 'ম্যানজারবাবু' মাঝে মাঝে এসে বাজারে সব্জি, ফুল ও ফল পাঠানোর ব্যবস্থা করেন | টুকাইরা আরো জানল, অফিস ঘরে এই মুহূর্তে মিটিং চলছে | ম্যানেজার কিশোর দত্ত ও অখিলেশ মহন্তের | ওরা বাগানের সমস্ত কর্মীদের বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য আদেশ করেছিল | কিন্তু এই আদেশ কেউ মানেনি | 'ম্যানজারবাবু' ও অখিলেশবাবু দুজনেই যে ওদের সকলের উপর খুব রুষ্ট , সেকথা গোপন করেনি সর্দার | টুকাই আজকে যে গন্ধটা অনুভব করেছিল,সেটা যেন এখন আরও বেশি গাঢ় হচ্ছে | টুকাই দমবার ছেলে নয় | সে বাগানে না ঢুকে কিছুতেই বাড়ি যাবে না | টুকাইয়ের যে গাছপালা , পাখিদের ছবি তোলার সখ আছে, সর্দার সহ সকলেই জানে | জানেন না কেবল অখিলেশবাবু | জানলেও টুকাইদের আটকাতে পারবে না | তা বেশ জানে এই স্মার্ট বয় | টুকাই বলে;------- " সর্দারকাকু, আমরা কিছু ছবি তুলেই চলে যাব |" গেটের দারোয়ান টুকাইয়ের কথা শুনতে পেয়ে এগিয়ে আসে | তারপর বলে;-------" ভিতরে যাবার হুকুম নাই | দেকচ নাই কিসব রোগজ্বালা হইচ্চে !" সর্দার এগিয়ে এসে দারোয়ানের সাথে কথা বলে | দারোয়ান রাজি হয় | তারপর টুকাইরা ভিতরে ঢুকে দুটো দলে ভাগ হয়ে যায় |

সোনাই , নিলয় আর সাজু তিনজনে পাঁচুদাদুর বাড়ীর উত্তরদিকে পাঁচিলের কোল ঘেঁসে কিছুটা গিয়ে কংক্রিট (ঢালাই) বাঁধানো রাস্তায় ওঠে | রাস্তাটা চওড়া নয়, একসাথে দুজন হাঁটার মতো | সোজা দক্ষিণে বাগানের ভিতরে চলে গেছে | ওরা কিছুদুর যাওয়ার পর সব্জিক্ষেতের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় | ক্ষেতে কাজ করছিল হরি আর হরির বউ | সোনাইদের দেখে চোখেমুখে একরাশ জিজ্ঞাসা নিয়ে ক্ষেত থেকে উঠে আসে | এইসময় এখানে কেন ? বলে ওরা জানতে চায় | করোনার ভয়টয় নেই, ইত্যাদি ইত্যাদি মৃদুমন্দ বকতে থাকে | নিলয় বলে; "আমরা সবাই মুখে মাস্ক,হাতে গ্লাভস সমস্ত সাস্থবিধি মেনে বেরিয়েছি |" গাছপালা-পাখির ছবি তোলার কথা জানায় ওদের | সোনাই ছেলাটা ভীষণ চৌখস্ আর চটপটে,তার দৃষ্টি এড়ায়নি | সাজু আর নিলয়কে পশ্চিমদিকে যে বড় বড় কতগুলো গাছ রয়েছে অঙ্গুলি দিক নির্দেশে দেখায় | সাজু এতক্ষণ প্রাকৃতিক দৃশ্যের ভিডিও রেকডিং করছিল | স্মার্টলি স্মার্টফোন ঘুরিয়ে ক্যামেরা বন্দী করতে থাকে | আম, জাম, কাঁঠাল, শাল, সেগুন, আর বেশ পুরোন কয়েকটি মেহগনি------ এই গাছগুলোর আশেপাশে যে সমস্ত পেয়ারা গাছ এবং বিভিন্ন আগাছা ছিল, এখন আর কিছু অবশিষ্ট নেই | একেবারে নিট এন্ড ক্লিন | ওরা এই অবস্থার কারণ হরিদের কাছে জানতে চায় | গত দু'দিন ধরে বাইরের দুজন শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছে | মালিক পক্ষের কেউ ওদের এর কারণ জানতে চাইলেও কিছু বলতে চাইনি বলে জানায় হরি | সোনাই রহস্যের আঁচ পায় | টুকাইকে শীঘ্রই কথাটা জানাতে হবে | ফিরবার পথে পা বাড়াতেই ……………হৈ হৈ,রে রে করতে করতে বাগানের ভিতর থেকে তেড়ে আসে মান বাহাদুর | হরি আর হরির বউ মান বাহাদুরকে থামায় | সব কথা শুনে সে শান্ত হয়ে তার ডিউটিতে চলে যায় | এদিকে টুকাই, প্রীতম আর মণি নিঃশব্দে পাঁচিলের কোল ঘেঁসে অফিস ঘরের পিছনের দিকে চলে যায় | টুকাই অত্যন্ত তত্পর | জানলার রড ধরে উঁকি মেরে কিছু দেখার চেষ্টা করে | মণিকে ইশারায় ডেকে নিয়ে কাণে কাণে বলে , অফিসঘরের সামনের দিকটা খুব সাবধানে দেখে আসতে | মণি চলে যায় | প্রীতম আওয়াজ করে কিছু বলতে যায়, টুকাই তত্ক্ষণাত্ মুখে আঙ্গুল ইঙ্গিতে থামিয়ে দেয় | চাপা গলার কথাবার্তার আওয়াজ এদিকেই ভেসে আসছে | ঘরের ভিতর থেকে দরজা খোলার শব্দে দু'জনেই সতর্ক হয়ে যায় | মণি ততক্ষণে ফিরে এসেছে | ওরা খুব সন্তর্পনে মাথা নিচু করে উত্তরের জানলার সামনে চলে আসে | বন্ধ জানলার ফাঁক দিয়ে টুকাই দেখা ও শোনার চেষ্টা করে | সবই অস্পষ্ট | এমন সময় জানলা খোলার আওয়াজে তিনজনেই ত্বরিত গতিতে দেওয়ালে পিঠ সেঁটে দাঁড়িয়ে পড়ে | হ্যাঁ এবার ভিতরের আওয়াজ খুব স্পষ্ট | তবে পুরোণ নড়বড়ে জানলা তো তাই আধখোলা অবস্থায় থেকে গেল | কিন্তু সাহসী টুকাইয়ের অপার কৌতুহল | সে পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে | এবার টুকাই জানলার পাশে দাঁড়িয়ে খুব সাবধানে ভিতরটা দেখে নেয় | 'চারটে মাথা মনে হচ্ছে ! টুকাই আবার দ্যাখে, হ্যাঁ চারটেই তো !' জানলার ফাঁক দিয়ে পুরো ঘটনাটাই ক্যামেরা বন্দী করে নেয় টুকাই | এবার ফিরবার পালা | ঠিক এই সময়ে ঘটে গেল বিপত্তি | মণি মাথানিচু না করে সোজা হয়ে জানলার পাশ দিয়ে হেঁটে দেয় | ভেতরের কেউ একজন দেখে ফেলে | "কে-কে------কে ওখানে ?" তীক্ষ্ণকন্ঠে ভেতর থেকে কেউ বলে ! টুকাইয়ের চটজলদি জবাব; "কাকু আমি টুকাই -----" বলে মুহূর্তের মধ্যে টুকাই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অফিস ঘরের মূল দরজার সামনে চলে আসে | কর্কশ গলায় কে-কে বলতে বলতে সামনের মূল দরজা পাট করে খুলে হতচকিত হয়ে যান অখিলেশবাবু | অসন্তুষ্ট এবং ক্রোধান্বিত !! বলেন; -------"কি ব্যাপার, তোমরা এখানে কি করছ ? ঢুকলে কি করে ?" টুকাইয়ের সপ্রতিভ উত্তর; -------" এর আগে পাঁচুদাদুর বাগানে ঢুকতে আমাদের কোনোদিন বাধার মুখে পড়তে হয়েছে , কই-- তা তো মনে পড়ছে না !" পিছনে দাঁড়ানো ম্যানেজার কিশোর বাবু বলেন ; ---------" ওরা হামেশাই বাগানে আসে, ঘুরেটুরে, প্রকৃতির সৌন্দৰ্য্য উপভোগ করে, ছবি তোলে ,তারপর মনের আনন্দে বাড়ী ফিরে যায় |" অখিলেশবাবু টুকাইদের তিনজনকে পর্যবেক্ষণ করে বলেন ;------" কই, ওদের হাতে তো মোবাইল বা ক্যামেরা দেখতে পাচ্ছিনা |" টুকাইকে তার পকেট থেকে ফোন বের করতে হোল না | ঠিক সেই মুহূর্তে সাজু, নিলয়,সোনাই চলে আসে টুকাইদের কাছে | অখিলেশবাবুর বিরক্তির মাত্ৰা ক্রমশঃ বাড়ছে | জিজ্ঞেস করেন;-------টুকাই তুমি বা তোমরা যে এখানে এসেছো , তা তোমার বাবা জানেন ?" টুকাই গড়গড় করে একটা ফোন নম্বর বলে দেয়, তারপর বলে ; ---------- "আপনি ফোন করে জেনে নিন | আর বাবা আপনার খুব নাম করেন | বলেন, খুব মিশুকে , সাবলীল সহজ মানুষ | বাবা বলছিলেন বাগানে এবার বাড়ীর বাগানের মতোই ঘুরে বেড়াতে পারবি | এখন বুঝছি বাবা হয়ত জানেন না তাই এমন কথা বলেছেন | আপনার যখন আপত্তি আছে----- ঠিক আছে কাকু, আমরা বাড়ী ফিরে যাচ্ছি |" প্রশংসিত হয়ে অখিলেশবাবু গর্বে ফুলে ওঠেন ! গদগদ কন্ঠে মৃদু হাসি রেখে বলেন; -------"ও-হো, আরে আমি কি তাই বলেছি ? তোমরা হলে ছোট ছোট ছেলে , চারিদিকে করোনা সংক্রমন ক্রমশঃ বাড়ছে | এখন না বেরোলেও চলে | তাই বলছিলাম আর কি !" শুনতে শুনতে টুকাইরা অফিসঘরের লাগোয়া বাইক-সাইকেল রাখার অর্ধেক দেওয়ালের গ্যারেজের পাশে দাঁড়ায় | টুকাইয়ের চোখ যেন কিছু খুঁজে বেড়ায় | হঠাত্ টুকাই শিউরে ওঠে ! গ্যারেজের ভেতর দেওয়াল ঘেঁসে রাখা অসচ্ছ প্লাস্টিকে মোড়া কি ওগুলো ! ডেডবডি নাকি ! ভালো করে দেখবার চেষ্টা করে | তারপর সাজুকে ইশারায় ক্যামেরা বন্দী করতে বলে | আর কোন কথা না বলে টুকাই এন্ড কোং- "কাকু আসছি" বলে বাড়ী ফিরবার পথ ধরে |

তিনদিন পর……………


সকালে ঘুম থেকে উঠে টুকাই প্রথম খবরটা পায় মায়ের কাছে | পাঁচুদাদুর বাগানে ভূতের আবিৰ্ভাব !! ভূতের আক্রমণে নাকি মান বাহাদুর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি !! মুহূৰ্তে ঘুম ছেড়ে ওঠার ম্যাজম্যাজে ভাবটা কেটে গিয়ে ভূতের কথা শুনে টুকাইয়ের চোখ কপালে ওঠে | 'ভূত!!!!! ভেরি ইন্টারেস্টিং ! না-না |' টুকাই রহস্যের গন্ধ পায় | ওর বাবাকে সকালে কেউ ফোনে খবরটা দেয় ও সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিতে অনুরোধ করে | অতনুবাবু ব্রেকফাস্ট সেরে বলেন;-----"শকুন্তলা , আমি এখন একবার বাগানে যাব | রান্নাবান্না সেরে রাখো, ফিরে এসে স্নান সেরে-খেয়ে দেয়ে অফিস যাব | " টুকাই কথাটা শুনতে পেয়ে বলে;-----" বাবা আমিও যাব তোমার সঙ্গে |" অতনুবাবু সঙ্গে সঙ্গে না বলেন | শেষমেষ শকুন্তলা ছেলের ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না সহ্য করতে না পেরে সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি পাইয়ে দেন | বাবাকে নিয়ে টুকাই পৌঁছে যায় পাঁচুদাদুর বাগানে | অখিলেশবাবু ও কিশোরবাবু সঙ্গে অতনুবাবু কথা বলতে বলতে যেদিকে ঘটনা ঘটেছে সেইদিকে যান | অখিলেশবাবু সর্দার বাহাদুরকে ডেকে নেন | বাহাদুর'রা প্রত্যেকেই থাকে পাঁচিলের গায়ে চালা নামিয়ে বাঁশ ও মাটির বেড়া দেওয়া ঘরে | সর্দার যা জানালো তা এই রকম ……… রাত সাড়ে বারোটা-একটা হবে, এই সময় ওদের কেউ কেউ ঘুমিয়ে ছিল | ওরা কয়েকজন তার মধ্যে মান বাহাদুরও , ঘুম না হওয়ায় পরের দিনের কাজ ও নানা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল | হঠাত্ দক্ষিণে তেঁতুলগাছের দিক থেকে 'নাঁকি' গলায় এক অদ্ভুত শব্দ শোনে | তারপর সকলেই গিয়ে চারপাশ খুঁজে দেখে, কিছু না পেয়ে বাসায় ফিরে আসে | আবার কিছুক্ষণ পর ফের শব্দ, ওরা যায়, ফিরে আসে | মান বাহাদুর খুব সাহসী লোক, তৃতীয়বার জোর কান্নার রোল উঠে, থেমে যেতে না যেতেই মান বাহাদুর হাতের লাঠিখানা শক্ত হাতে চেপে ধরে দ্রুত বেরিয়ে যায় | সর্দার যাব কি যাব না-- করে লাঠিহাতে বেরোতেই মান বাহাদুরের তীব্ৰ যন্ত্রণাদায়ক চিত্কার কাণে আসে | সর্দার ও তার সঙ্গীরা হৈ-হৈ করে চেঁচাতে চেঁচাতে তেঁতুলতলার দিকে দৌড়ে যায় | মাটিতে পড়ে আছে মান বাহাদুর ! গোঙাচ্ছে------রক্ত বেরোচ্ছে মুখ দিয়ে, পায়ে আঘাতের চিহ্ন ! জাম গাছের তলা দিয়ে বিকট আওয়াজ করতে করতে লালচোখ গুলো অদৃশ্য হয়ে যায় | সর্দার বলে, কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাটা ঘটে | ওরা সকলেই অনেক খোঁজার পরেও কোন চিহ্ন পায়নি | টুকাইরা এতক্ষণ সর্দারের কথা শুনতে শুনতে তেঁতুল তলায় এসে দাঁড়ায় | সকালে পুলিস এসেছিল তদন্ত করে গেছে | পরে তদন্তের প্রয়োজনে আবার আসবে বলেছে | টুকাই ঘন হয়ে থাকা ঝোপঝাড়ের কাছে যায়, আবার ফিরে আসে | বন্ বন্ করে তার চোখ চারিদিকে ঘুরতে থাকে | ঘাড় তুলে উপরের দিকে তাকাতেই চমকে ওঠে টুকাই | প্রায় ক্ষিপ্রবেগে তেঁতুলতলা থেকে বেরিয়ে পৌঁছে যায় কয়েকদিন আগের দেখা অফিস ঘরের গ্যারেজের সামনে | না ! কই সেদিনের দেখা অসচ্ছ প্লাস্টিকে মোড়া ডেডবডির মতো দেখতে বস্তুগুলো নেই তো ! টুকাই ফিরে আসে তেঁতুলতলায় | তার বাবা এখনো কথা বলে চলেছেন | সে সকলের আড়ালে গিয়ে লিচু গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তেঁতুল গাছের পটাপট কয়েকটি ছবি তুলে সাজু আর সোনাইয়ের হোয়াটস্আপে পাঠিয়ে দেয় | তারপর ফোনের পুরো সাউন্ড সিস্টেম মিউট্ করে লিচু গাছের দু-ভাগ হয়ে যাওয়া ফাঁকের কোটরে, তেঁতুল গাছ সমেত সামনের দিকটা কভারে রেখে এবং সাথে সাথে ভিডিও রেকর্ডার চালু ক'রে ফোনটা রেখে দিয়ে চলে আসে | কিছুক্ষণ পর টুকাইরা বাড়ী ফেরে | সাজু- সোনাইকে, তাদের ফোনে থাকা সমস্ত ছবি তার মায়ের নতুন স্মার্ট ফোনের হোয়াটসআপে পাঠাতে বলে | তারপর দুপুরে লাঞ্চ সেরে টুকাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাগানের ঘটে চলা রহস্যজনক ঘটনা গুলো নিয়ে | দেখা ও শোনা সমস্ত ছবিকে মগজের এক জায়গায় নিয়ে এসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করতে থাকে | অঙ্ক কষার ভঙ্গিতে সব হিসেব মেলানোর একটা প্রচেষ্টা তার মধ্যে দেখা যায় | সূত্ৰ চাই, সূত্র !! অপরিসীম জানার খিদে নিয়ে বিকেল ও রাত পার করে দেয় |

  পরেরদিন সকালে অতনুবাবু অফিস চলে যাওয়ার পরেই টুকাই তার মাকে বন্ধুর বাড়ী যাচ্ছি বলে বেরিয়ে যায় | বাগানে পৌঁছে পরিবেশটাকে তার আজ একটু অন্যরকম লাগে | প্রহরী নেই ! পাখির কলতান নেই ! টুকাই চোখ-কাণ'এর কার্যকারিতা এক'শ শতাংশ বাড়িয়ে এগিয়ে যায় অফিস ঘরের পাশ দিয়ে | কিছুটা যেতেই বচসার শব্দ শুনতে পেয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে | অখিলেশবাবু আর সর্দার বাহাদুর না ? অখিলেশবাবুর হালকা অস্পষ্ট একটা কথা ছিটকে এসে টুকাইয়ে কাণে ঢুকল---"লোকগুলো মরে যেত|" অখিলেশবাবু হঠাত্ টুকাইকে দেখেই অপ্রস্তুত হয়ে যান | এগিয়ে আসেন , তার চোখ তো নয় যেন আগুনের গোলা ! পারলে টুকাইকে ভস্ম করে দেয় | ------"কি টুকাইবাবু যে ? এইসময় !" ছবি তুলতে তুলতে টুকাইয়ের স্মার্ট উত্তর -----"জানেন তো কাকু , আমি বাগানের প্রকৃতিকে খুব ভালোবাসি | তাই প্রকৃতি যখন টানে চলে আসি |"


বেশি কথা না বাড়িয়ে টুকাই লিচু গাছটির কাছে চলে যায় তার আপন ভঙ্গিতে | তারপর সতর্ক-তীক্ষ্ণদৃষ্টি মেলে ধরে চারপাশে | মুহূর্তের মধ্যে পকেটস্থ করে নেয় গতকাল লিচু গাছের কোটরে রেখে দেওয়া ফোনটা | ঠিক কয়েক সেকেন্ড বাদে দক্ষিণ প্রান্তের দিক থেকে শুকনো পাতার উপর দিয়ে হাঁটার শব্দ শুনতে পায় | সাবধান টুকাই ! আওয়াজটা ক্রমশঃ কাছে আসছে | সামনের ঝোপে লুকিয়ে পড়ে | ঘাড় তুলে দ্যাখে, পরিষ্কার করে রাখা জায়গাটার দিকে মুখে মাস্ক পরা মাথায় ফেট্টি বাধা চারটে পেশীবহুল কালো লোক এগিয়ে যাচ্ছে | টুকাই ক্যামেরা তাক করে তাদের ক্যামেরাবন্দী করে নেয় | আর দেরি না করে সে সর্দার বাহাদুরের বাড়ির দিকে চলে যায় | টুকাইকে দেখতে পেয়ে সর্দার বেরিয়ে আসে | অখিলেশবাবুর সঙ্গে বচসার কারণ জানতে চাইলে সর্দার এড়িয়ে যায় | শুধু জানায় গতকাল এক ভূত নাকি দারোয়ানের হাত মুঁচড়ে দিয়েছে ! ভূতের ভয়ে বাগান ফাঁকা, সর্দার নিজে ছাড়া আপাতত কেউ নেই ! সেজন্যই কি আজ বাগানের প্রকৃতিও শান্ত ! যাইহোক, টুকাই ঘরে ফেরে | দুপুরে ভাত খাওয়ার পর ব্যস্ত হয়ে উঠে তার তদন্তের কাজে ! গন্তব্যে যে এত তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবে ভাবেনি সে | গাছের কোটরে ফোন রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তই যে হাতের নাঙ্গালে এনে দেবে ক্রিমিনালদের, এটাও অপ্রত্যাশিত ছিল তার কাছে | তার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক | যাইহোক অপারেশন শুধু সময়ের অপেক্ষা | তবে তার আগে ক্রিমিনালদের উপর আরো নজরদারি জরুরি |


তথ্যপ্রমাণ ছাড়াও ওদের গতিবিধি টের পাওয়ার সম্ভাবনা আজ | সকাল থেকে টুকাইয়ের আর তর সইছে না ! বাবা কখন অফিস যাবে ! আর সে কখন মিশন্ নজরদারি তে যাবে | যথারীতি বাবা বেরোতেই মায়ের কাছে বন্ধুর বাড়ী যাচ্ছি বলে বেরোতেই, মা বিস্মিত হন, বলেন ; -------"কি ব্যাপার ! আজ সুটেড-বুটেড হয়ে বেরোন হচ্ছে ?" গলায় গাম্ভীর্য এনে আরো বলেন; ------"কোথায় যাচ্ছিস্ ? তোর বাবা জানে?" টুকাই অপ্রস্তুত ! না ঘাবড়ে বলে ; -------"না মা , সোনাইয়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ পড়াশুনো করে তারপর বেড়াতে যাব বাগানে |" শকুন্তলা আর প্রশ্ন করেন না | তার ছেলে চলে যায় | গোপনে নজরদারির জন্য এই পোশাক না পরলে বিপদের ঝুঁকি থেকে যায় | তাছাড়া এই পোশাকে থাকলে আপত্কালীন ম্যাটেরিয়াল'স গুলো বহনে গোপনীয়তা থাকবে | আর কোন দেরি নয়, সোনাই আর নিলয়কে সঙ্গে নিয়ে পিচ রাস্তা থেকে নেমে ধানক্ষেতের আলবেয়ে সোজা দক্ষিণের পাঁচিল কোলে পৌঁছে যায় | বাগানের সদর গেট যে নিশ্চিত বন্ধ, একথা টুকাই ওদের আগেই জানিয়ে রেখেছে | পাঁচিল খুব পুরোন তাই কিছু কিছু জায়গায় ইট ভেঙে বেরিয়ে আসায় পাঁচিল টপকাতে ওদের খুব একটা বেগ পেতে হোল না | নিলয়ের জামার নিচে থাকা পাটের মোটা দড়িটা এই মুহূৰ্তে কোনো কাজে এল না | ওরা নিঃশব্দে পা ফেলে ফেলে এগোতে থাকে | ঘনপাতাবিশিষ্ট ছোট শিশু গাছটার কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে | কথাবার্তার আওয়াজ আসছে | টুকাই পাতার ফাঁক দিয়ে দেখবার চেষ্টা করে | যা ভেবেছিল ঠিক তাই ! এমন সময় নিলয় জোর হ্যাঁচ্চো করে ওঠে | মুহূর্তে বাগানের মৃদু কোলাহল একলহমায় থেমে যায় | খুব ধীরে খড়খড় করে একটা চলার আওয়াজ ক্রমশঃ এদিকেই আসছে | টুকাই ওদের সতর্ক করে | শিশুগাছে উঠে নিজেদের আড়াল করে নেয় | আরে একি সর্দার না ! সর্দার বাড়ি যায়নি ? সর্দারের সঙ্গে মুখে মাস্ক পরা নেড়া মাথার কালো লোকটা তার চোখ দুটো দিয়ে যেন বাগানটাকে চিরে ফেলছে | সোনাই সাহসী, কিন্তু নিলয় বেশ ভয় পেয়েছে | টুকাই সাহস যোগায় | সর্দার ঐ লোকটাকে নিয়ে চলে যেতেই তিনজনে গাছ থেকে নেমে আসে | পেছন থেকে নিঃশ্বাসের আওয়াজ হতেই টুকাই বাঁই করে ঘুরে দাড়ায় | -------"সর্দার তুমি ? বাগানে আছো ? বাড়ী যাওনি ? ভূতের ভয় করে না ?" টুকাই একনাগাড়ে প্রশ্নগুলো করে ফেলে | সর্দার বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে থাকে | খনখনে বাজখাই গলাই বলে-------" ওসব বাত্ ছাড়ো, তুমরা ঢুকেচ কি কইরে ? একানে একন কি হইচ্চে, কেনে এসেচ শুনি , হুঁ ?" টুকাইয়ের চটজলদি উত্তর ; --------" ভুতের খোঁজে ! বলেছিলে বাগানে নাকি ভূত বেরিয়েছে !" খেঁকিয়ে ওঠে সর্দার বলে; --------"ইয়ার্কি পাইছো, ঘুচায় দুব তুমার কত চালাকি !" ততক্ষণে ওদের পুরো গ্যাং টুকাইদের ঘিরে ফেলেছে | নিলয়ের অনাকাঙ্খিত হাঁচি যে এতটা বেসামাল করে দেবে, একদম ভাবেনি টুকাই | কিন্তু টুকাই যে টুকাই ! বড় হয়ে গোয়েন্দা হওয়ার খিদেটা যেন এইমুহূর্তে তেতে উঠেছে | মার্শাল আর্ট-ক্যারাটের ছাত্ৰ | বর্তমানে প্রশিক্ষণরত | শত্ৰুকে আঘাত করার পাঞ্চগুলো ইতিমধ্যে সে বেশ ভালোই রপ্ত করে ফেলেছে | দেখতে নিরীহ টাইপের হলেও তার ভেতরের আক্রমণাত্মক মনোভাব আর শত্ৰুকে দমন করার ক্রোধানল টের পেল অখিলেশ মহন্ত ও তার গ্যাং | তারপর যা ঘটল------ অখিলেশবাবু গর্জে ওঠেন , দাঁতে দাঁত ঘষে বলেন ;-------"ডানা গজিয়েছে না তোদের ? আজই পিষে মারব , পুঁতে ফেলব সবকটাকে !" তারপর কালো ষন্ডামার্কা লোকগুলোকে বলে; ----- "ওদের ধরে বেঁধে ফ্যাল |" এইসময় টুকাই আচমকা বলে ওঠে ; "সোনাই এক্ষুণি ওদের চকোলেট খাওয়া !" ঝটিতি সোনাই পকেট থেকে গ্যাস লাইটার বের করে চকোলেটের চেনে আগুন ধরিয়ে ক্ষিপ্রবেগে গ্যাং-এর ওপর ছুড়ে মারে | তারপর তিনজনে পরিস্কার করে রাখা গাছের নিচে দৌড়ে চলে আসে | সর্দার আর ম্যানেজার কিশোর দত্ত বাদে গ্যাং-লিডার অখিলেশ মহন্ত সহ গ্যাং -এর অন্যরা বেশ জখম হয়ে পড়েছে | সবাই ভূপতিত | প্রচন্ড শব্দে দিশাহারা | অখিলেশ মহন্ত উঠে খোঁড়াতে খোঁড়াতে লালচোখে টুকাইদের দিকে তেড়ে যায় | এইসময় কোনো এক ফাঁকে সর্দার আর ম্যানেজার বাবু পিছন দিক থেকে এসে টুকাইয়ের পিঠে ডান্ডার বাড়ি মারে | টুকাই পড়ে যায় | সোনাই এবার ওদের মুখোমুখি | ম্যানেজার চিত্কার করে বলতে থাকে ; -------"আজ তোরা মরবি, তোরা বড্ড বেড়েছিস , তোদের পাখনা হয়েছে না ? খুব সাঁতার কাটছিস ? ডুবিয়ে মারব আজ | কেউ জানতে পারবে না |" উঠে দাঁড়িয়ে টুকাই এবার পিক ফর্মে | সোনাইকে সামনে থেকে সরিয়ে দেয় | কিশোর দত্ত'র মুখোমুখি দাঁড়ায় | আঙ্গুল উঁচিয়ে ধমকের সুরে বলে; -------"পাঁচুদাদু অসুস্থ, আর সেই সুযোগে আপনারা বাগানের সম্পদ লুটেপুটে খাবেন ভেবেছেন , টুকাই তা হতে দেবে না |" -------"তবে রে ! পুঁচকে ছেলের এতবড় সাহস !" বলে সাঁটিয়ে একটা চড় টুকাইয়ের গালে বসিয়ে দিলেন কিশোর দত্ত | নিলয় পেছন থেকে সাইকেলের চেনটা ছুড়ে মারল কিশোর দত্ত'র ওপরে | চেনের বাড়ি খেয়ে ম্যানেজার মনে হয় মুর্চ্ছা গেছে | টুকাই বেল্ট খুলে ক্যারাটে কায়দায় ঘোরাতে থাকে | সর্দার ভয়ে পিছিয়ে যায় | গ্যাং-এর লোকগুলো অল্পবিস্তর জখম অবস্থায় এদিকে এসে আবার টুকাইদের ঘিরে ফেলে | টুকাইও স্বমূর্তি ধারণ করে, বলে; ------"নিলয়, সোনাই এবার ওদের মুড়িভেজে খাওয়া !" সঙ্গে সঙ্গে ওরা আগুন ধরিয়ে ছুড়তে থাকে একটার পর একটা মুড়ি পটকার চেন | শব্দের চোটে আর আগুনের ছ্যাকায় অখিলেশ মহন্ত ও তার গুন্ডাবাহিনী কার্যত বিপর্যস্ত | গুন্ডাবাহিনীর একজন পড়ে থাকা গাছের ডাল তুলে টুকাইদের লক্ষ্য করে ছুড়ে মারতে উদ্যত হয় | টুকাই চিত্কার করে ওঠে; --------"সাবধান ! নড়েছ কি শুট করে দেব | সবাই উপরে হাত ওঠাও | সর্দার, পালাবার চেষ্টা করলে আমার এই পিস্তল কিন্তু কথা বলতে শুরু করবে | পিছিয়ে যাও, যাও পিছোও |" সবাইকে পিছিয়ে পিছিয়ে নিয়ে গিয়ে কলের ঘরে তথা সাবমার্শিবল পাম্প মেশিনের ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় | কিছুক্ষণ পরে দারোগাবাবু তার টিম নিয়ে পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়েছেন | পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পজিশন্ নিয়ে নেয় | দারোগাবাবু জিঞ্জাসু দৃষ্টি নিয়ে এগিয়ে যান টুকাইদের দিকে | ওদের বকাবকি শুরু করে দেন | বন্ধ দুর্গম বাগানে কেন, কিভাবে ঢুকেছে, বাড়ি কোথায়, বাবার নাম ইত্যাদি জানতে চান | টুকাই কিছুক্ষণ আগে ঘটা ঘটনার কথা সব গড় গড় করে বলে যায় | শুনে তো দারোগাবাবু একেবারে 'থ' ! হতবাক্ !!!!!! কয়েক সেকেন্ড পরে কলঘর থেকে সবকটাকে বের করে গাড়ীতে তোলার নির্দেশ দেন | ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে ক্রিমিনালদের পুলিশের বড় গাড়ীতে তোলা হয় | গোটা বাগান চত্বর পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ | তল্লাশি চালাচ্ছেন তারা | টুকাইয়ের কোমরে গোঁজা অস্ত্রটার দিকে চোখ পড়তেই দারোগাবাবু আঁত্কে ওঠেন !! বিষ্মিত গলায় বলেন ; -------"আরে ওটা কি ? কোথায় পেলে তুমি ?" টুকাই বলে ; --------"ঐ যে বললাম না পুলিশকাকু , ওটা দিয়েই তো ওদের কলঘরে ঢুকতে বাধ্য করেছি |" বিশ্বাস হচ্ছে না দারোগাবাবুর ; ------- " শুনে মনে হয়েছিল ওটা একটা খেলনা মাত্ৰ | আর এটাতো রিয়েল !" টুকাইয়ের চটজলদি উত্তর ; -------"এটাতো সেটাই , টয়গান |" দারোগাবাবু হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দ্যাখেন,তারপর বলেন; -------"ইউ আর রাইট, বাট্ আই আম সিওর , এটাকে মুখের উপর ধরলে যে কেউ ঘাবড়ে যাবে | আচ্ছা টুকাইবাবু , ডুপ্লিকেট গানটা তুমি কোথায় পেলে বলতো ?"


টুকাইয়ের ভেতরের উত্তেজনা এখন অস্তাচলে, সে শান্তকন্ঠে মৃদু হেসে বলে ; ----------" মামাবাড়ির দাদুর দেওয়া উপহার আমারই জন্মদিনে |" অখিলেশ মহন্ত'র দাঁড় করিয়ে রাখা ট্রাকটিকে দেখিয়ে টুকাই বলে; -------"ওটাতে করেই পাঁচুদাদুর বাগানের গাছ কেটে নিয়ে পালানোর প্ল্যান করেছিল অখিলেশ মহন্ত | গাছ কাটার মেশিন কলঘরের পেছনে রাখা আছে |" কথাকটা বলে থামল টুকাই | দারেগাবাবু জিজ্ঞেস করেন ; -------" তা তুমি ষড়যন্ত্রীদের বিষয়ে এত জানলে কিভাবে ?" টুকাই বলতে শুরু করে------"প্রথমেই আমার অখিলেশবাবুর বাড়ী বাড়ী শাকসব্জি , ফল, মাছ বিনামূল্যে বিতরণের কথা সাজানো গল্প বলেই মনে হয়েছিল | পরে বুঝলাম এটাই সত্যি | ফ্রি বিতরণের নামে দুরের বাজারে চালান করে দিত | সমাজের কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তির বাড়ীতেই পাঠানো হত নিয়মিত | বাগানে ঘন ঘন যাতায়াতের জন্য আমাদের প্রমান জোগাড় অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল | অখিলেশ মহন্ত'র মিটিং- এর ভিডিও রেকডিং আর গাছের কোটরে রেখে দেওয়া ফোনের ভিডিও থেকে ওদের অপরাধের গতিবিধি টের পাই | চুরি হতে যাওয়া বড় বড় গাছ গুলোর নিচে ঝোপঝাড় পরিস্কার ও পাঁচুদাদুর নিয়োগ করা বাগানের সমস্ত কর্মীকে বাড়ী চলে যাওয়ার নির্দেশ----এই দু'টো বিষয়ে আমাকে সন্দিহান করে তুলেছিল | যদিও সর্দার বাহাদুররা যেতে অস্বীকার করে | আর এদিকে ডেডবডির মতো জিনিসগুলো আসলে ফোমের তৈরি ইলেকট্রিক মুখোশ পুতুল | ব্যাটারি আছে, প্রয়োজন মতো চার্জ দিয়ে নিতে হয় | চোখগুলোতে লাল গ্লাসে ঢেকে রাখা এল-ই-ডি বাল্ব | দুস্কৃতীরা এটা ব্যবহারে সফল হয়েছিল | আমরা পুতুলের ছবিগুলো 'গিফট্ এন্ড টয়েস' -এর দোকানে নিয়ে গিয়ে দেখাই | ওরাই আমাদের বুঝিয়ে দেয় | তখনই বুঝতে পারি বাগানে আসলে ভূতের রহস্যটা কি !!" এই পর্যন্ত বলে টুকাই থামল | দারোগাবাবু জানতে চান ; --------"আর গাছের কোটরে রেখে দেওয়া ফোন থেকে কি সূত্ৰ পেলে ?" ---------" ভূতের ভয় দেখানোর জন্য অখিলেশ মহন্ত'র গুণ্ডাবাহিনী তেঁতুল গাছটিকে বেছে নিয়েছিল | যাতে বিকৃত ভয়ংকর শব্দ দ্রুত সর্দারদের কাণে পৌঁছে যায় | কাজ সেরে নেমে আসার সময় কোনো একজন ও তার সঙ্গে থাকা পুতুল মুখোশটা আনতে ভুলে যায় | ওটা গাছের ডাল আর পাতার মাঝে রয়ে গিয়েছিল | ভূতের খবর পেয়ে পরের দিন বাবার সঙ্গে বাগানে আসি | তখনই আমি চারপাশ দেখতে দেখতে ওপরে ওটা আবিষ্কার করি | তারপর নিজেকে সবার আড়ালে নিয়ে গিয়ে গাছের কোটর থেকে ফোনটা বের করে বাড়ী ফিরে আসি | ফোনটা আমার খানিকটা হলেও সিসিটিভির কাজ করেছে | লাগানো ছিল নতুন মেমরি কার্ড | তারপর যা দেখলাম অখিলেশ মহন্ত আর কিশোর দত্ত উভয়েই গাছের উপরের দিকে তাকিয়ে নিজের পোষা লোকগুলোকে গালমন্দ করছেন | তারপর ওরা চলে যান | কয়েকমিনিট বাদে একটা লোক এসে মুখোশ পুতুলটা পেড়ে নিয়ে চলে যায় | কিছুক্ষণ পরে অখিলেশ মহন্ত ,কিশোর দত্ত ও সর্দার ছাড়াও তাদের সঙ্গে দশবারোজন লোক কথা বলতে বলতে এদিকেই এগিয়ে আসছেন | কিশোর দত্তের গলায় শোনা যায়; --------'লোকজন নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গাছগুলো কেটে চালান করে দিতে হবে | আর বেশি দেরি করা যাবে না |' আমার মনে হয়েছিল আজ না গেলে হয়ত অনেক সূত্ৰ মিস্ করতে পারি | তাই আজকেও আমরা এসে দেখতে চেয়েছিলাম ওরা পাঁচুদাদুর আর কি কি ক্ষতি করার মতলবে আছে | নিলয়ের হাঁচি ওঠায় আমরা ক্ষণিকের জন্য বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলাম |" কিছুক্ষণ সবাই চুপচাপ, বিরতিতে ইতি টেনে দারোগাবাবু বলেন ; --------"আচ্ছা টুকাইবাবু , সর্দারও যে এর মধ্যে আছে তোমার সন্দেহ হয়নি ?" ভ্রূ কুঁচকে টুকাই বলে ; --------" না পুলিশকাকু , সর্দারের বিষয়টা এখনো পরিস্কার নয় আমার কাছে | তবে একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করেছি ,গতকাল যখন বাগানে আসি, দেখি অখিলেশবাবুর সাথে সর্দারের বচসা……………এই বচসার কারণটা যে ঠিক কি জানার সুযোগ হয়নি | বলছিলাম পুলিশকাকু , যদি একবার সর্দারের সাথে কথা বলা যেত তাহলে হয়ত ………… |" দারোগাবাবুর নির্দেশে সর্দারকে নিয়ে আসা হোল টুকাইদের সন্মুখে | সর্দার আসতেই টুকাই বলে; -------" আমি বিশ্বাস করতে পারছি না সর্দারকাকু তুমি এদের দলে নাম লিখিয়েছ ! " সর্দার হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠে , কাঁদতে কাঁদতে বলে; -------- "আমার দোষ হয়েচে ,আমাকে মাপ করে দাও গো ----" দারোগাবাবু ধমকে ওঠেন ; --------" চোপ্ , একদম চুপ , যা জানতে চাওয়া হচ্ছে চটপট বলে ফেল | টুকাই আবার জিজ্ঞেস করে; -------" সেদিন তোমদের নতুন মালিক লোক মরে যাওয়ার কথা বলছিলেন, তো কোন লোকের মরার কথা বলছিলেন ?" কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সর্দার বলে ; ------- আমার ছ্যেলাটার শরীর'ট খুউব খারাপ, সেই লেগে আমাদ্যার লতুন(নতুন) মালিকের কাছে পয়সা খুজেছিলম্ | তা উ বলল তুকে অনেক বেশী দুব | তুই আমার লেগে একটা কাজ করে দে | বইল্য যে, বাগানের লোকগুলানকে তাড়াতে হবেক | আমি পয়সার লেগে কাজ'ট করলম্ বাবু | আর লতুন মালিক পয়সা দেই নাই, আমাদের মানবাহাদুরকে কেনে অত মাইরল্য (মারল) ম্যারে রক্তারক্তি করি দিচে | ম্যানজার বাবু বইল্য ,অমন করিয়ে না মাইরল্যে আমার লোক মরে যেত | এই লিয়েই তক্কাতক্কি হচ্ছিল বাবু |" বাঁচবার অনেক চেষ্টা করল সর্দার ,কিন্তু অপরাধ তো অপরাধ , আইন শুনবে না | দারোগাবাবুর নির্দেশ মোতাবেক তাকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হল | আগেই পুলিশের লোক অখিলেশ মহন্ত'র কাছে চাবি নিয়ে বড় সদর গেট খুলে ভ্যান ঢুকিয়েছিল | তারপর পুলিশভ্যান ক্রিমিনালদের নিয়ে গেটের কাছে পৌঁছতেই একটা সাদা আম্বাসাডার্ হর্ন বাজাতে বাজাতে ঢুকে পাঁচুদাদুর বাড়ীর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল | তত্ক্ষণাত্ সবাই সাদা গাড়ীটির কাছে উপস্থিত | গাড়ী থেকে নামলেন মুখে মাস্ক ধুতি-পাঞ্জাবী পরিহিত প্রায় ছয়ফুট উচ্চতার অল্প টাকবিশিষ্ট সাদা চুলের পাঁচুদাদু | তিনি সুস্থ | তার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দারোগাবাবুর চোখ এড়ায়নি | বাগানের সমস্ত ঘটনা শোনালেন পাঁচুদাদুকে | তার বাগান বুক দিয়ে আগলে রক্ষা করার জন্য টুকাই এন্ড কোং-কে বাহবা দিলেন , পাশাপাশি বকুনিও দিলেন | পাঁচুদাদুর চোখের কোনে জল্ | বললেন ; ------- "ঝুঁকি নিয়ে খুব অন্যায় করে ফেলেছো ভাইয়েরা ! তোমাদের পুলিশ কাকুদের জানানো উচিত ছিল |" এবার থেকে আমার বাগানে তোমাদের যাতায়াত অবাধ করে দিলাম |" তারপর দারোগাবাবুদের দিকে তাকিয়ে বললেন ; ---"আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ |" দারোগাবাবু পাঁচুদাদুকে নমস্কার জানিয়ে টুকাইদের সঙ্গে নিয়ে ফেরার পথ ধরলেন


Rate this content
Log in