নদীর চরে
নদীর চরে
বাড়িতে ঢুকতেই তিতাসকে কোলে তুলে রাঙা দিদুনের আদর করা আর ফুরোয় না।বাপরে আদর!এতো আদরও জমে থাকে কারোর জন্য! বাইরে থেকে কিছু বোঝা যায় না। কোলে তুলে চুলে বিলি কেটে, গালে কপালে চিবুকে চুমু খেয়ে ভরিয়ে দিল একেবারে! রাঙা দিদুনের আদর খেতে তিতাসের মন্দ লাগছিলো না। সে তো দিদুনের গলা জড়িয়ে ধরে খিলখিল করে হেসেই খুন।আদর বলে আদর। কিন্তু আদর খাওয়ার মাঝেও তার পেটটা কেমন ধকধক করছিলো। বড্ড খিদে পেয়েছে তিতাসের। আর না খেলেই নয়। পেট গাঁউ গাঁউ করছে যেন! কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারছে না। লজ্জা করছে। এই প্রথম সে রাঙা দিদুনের বাড়ি এসেছে। এসেই যদি বলে খিদে পেয়েছে, খেতে দাও,বাড়ির লোকেরা ভাববে কি! মনে করবে তিতাসটা বড্ড হ্যাংলা! এসে থেকেই কেবল খাই খাই!
কী আশ্চর্য! তিতাসকে কিছু বলতে হল না! রাঙা দিদুন তার মনের কথাটা বুঝে গেলেন। আদর করতে করতেই বললেন "ইস!আমার দিদি ভাইয়ের বড্ড খিদে পেয়েছে! খিদের চোটে মুখ একেবারে শুকিয়ে গিয়েছে গো! মরে যাই, মরে যাই! কত খিদে পেয়েছে গো দিদির আমার! ও বউমারা! সব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছ কি! দিদি ভাইকে খেতে দাও আগে! তারপর যা দেখার দেখবে, যা বলার বলবে! "
তিতাস আশ্চর্য হয়ে গেল! বড়রা কি সব বুঝতে পারেন! সে তো কিছুই বলে নাই! কেবল মনে মনে ভাবছিল - কিছু খেতে পেলে ভালো হয়! অমনি দিদুন শুনে নিল তার মনের কথাটা! নদী পেরনোর সময়ও তাই হল।বালিতে হাঁটতে তার কষ্ট হচ্ছিল। কথাটা সে মনে মনেই ভাবছিল। বলে নাই কাউকে! অথচ রাঙা দাদু তার মনের কথাটা ঠিক শুনতে পেলেন! তুলে নিলেন কোলে। আচ্ছা রাঙা দাদু রাঙা দিদুনরা যদি তার মনের কথা বুঝতে পারে, তাহলে বাবা মা পারেনা কেন! তার যখন খেতে ইচ্ছে করে না, তখনও মা জোর করে খাওয়ায়! না খেলেই বকুনি! সে কেঁদে ফেলে। তবুও জোর করে খাওয়ায়! মা কি বোঝে না, তিতাসের খাওয়ার ইচ্ছে নেই!
পড়তে ইচ্ছে না করলে মা দেবে বকুনি, বাবা দেবে ধমক! একটু খেলতে চাইলে অমনি বলবে পড়ার সময় খেলা নয়।আগে পড়ে নাও,তারপর খেল। আরে খেলার ইচ্ছে যখন হবে, তখনি তো খেলবে নাকি! যখন খেলার ইচ্ছে হবেনা, তখন কি খেলা যায়! ইচ্ছে ছাড়া যে কিছু হয়না, সেটা কেন বোঝে না ওরা! ওরা সব কেমন যেন!
তবে ঠাম্মি বেশ ভালো! ভালো মানে খুব ভালো! মা বকলেই মাকেও বেশ করে বকে দিয়ে তিতাসকে নিয়ে বেড়াতে চলে যায়। মাকে বেশ করে বলে দেয় -" ওর যখন পড়তে ইচ্ছে করবে তখন পড়বে। যখন ইচ্ছে করবে না, তখন আমার সঙ্গে বেড়াবে,গল্প করবে, তুতুনের সঙ্গে খেলবে। যখন খাওয়ার সময় হবে, খাবে। খিদে পেলে কেউ না খেয়ে থাকতে পারে নাকি। তোমাদের যত সব...."
ঠাম্মি যখন মাকে বকেন, তিতাসের তখন কি মজাটাই না হয়।ঠাম্মির পিছনে লুকিয়ে হাততালি দেয়।
দুপুরে খাওয়ার পর ক্লান্তিতে তিতাস ঘুমিয়ে পরেছিল। বিকালে যখন ঘুম ভাঙল, তিতাসের শরীর মন ততক্ষণে চনমনে হয়ে উঠেছে। ঘুম থেকে উঠেই খোঁজ করে দাদুর।তাকে যে নদী যেতে হবে। নদীটা তার খুব ভালো লেগেছে। বালির উপর দিয়ে হাঁটবে।জলের সঙ্গে খেলবে। দু'হাতে চেপে মাছ ধরবে। ইস! কী মজা! নদীতে যাওয়ার আগেই আনন্দে ভরে উঠল তার মন।
রাঙা দিদুনের বাড়িটা নদীর পাশেই। বাঁধ টপকে একটু এগিয়ে এলেই ঢুকে পরা যায় গ্রামে। এখানে চারিদিকে কত গাছপালা। কত বড় বড় গাছ সব।নদীর বাঁধ বরাবর বাঁশ বাগান। লম্বা লম্বা বাঁশ বাঁধের উপর মাথা তুলে উঠেছে। চারদিকে এত গাছপালা যে,দূর থেকে দেখে বোঝাই যাবে না এটা গ্রাম। মনে হবে একটা জঙ্গল যেন। কিন্তু গ্রামের ভিতরে কত ঘর বাড়ি। পুরো গ্রামটা যদিও এখনো দেখা হয়ে ওঠে নাই, তবু যেটুকু দেখেছে, তাতে সব বাড়িগুলোই মাটির মনে হয়েছে। দালান বাড়ি দু'একটা চোখে পরেছে। রাঙা দাদু যখন আছেন, তিতাসের চিন্তা নাই। রাঙা দাদুর সঙ্গে তিতাস পুরো গ্রামটা দেখে নেবে। আর নদীতে তো রোজ যেতে হবে। বালির উপরে হাঁটা শিখতে হবে যে!
বাঁধের উপর উঠেই লাফিয়ে উঠলো তিতাস। আসার সময় পাটক্ষেত ছাড়া নদীর চরা কেমন রুক্ষ রুক্ষ মনে হয়েছিল। সেখানে এখন হলুদ ফুলের বান জেগেছে। নদীর ভিতরে বাইরে, এ কুল ও কুল বালি টুকু ছাড়া সব হলুদে হলুদ। চর ঘেঁষা বালিও হলুদ হয়ে উঠেছে। খুশি ধরে রাখতে পারে না তিতাস। কিভাবে আনন্দ প্রকাশ করবে ভেবে পায়না। দু হাত তুলে চিতকার করতে করতে ছুটে হলুদ ফুলের রাজ্যে। জল বালি মাছের কথা ভুলে যায়।ঝিঙে শশা কুমড়ো - সবই চেনে তিতাস। রাঙা দাদু কি চেনাবে! রাঙা দাদুকেই চেনাতে শুরু করল। " ওই দেখো কুমড়ো ধরেছে! বড় বড় ফুল ফুটেছে! ওগুলো কুমড়ো ফুল। বাবা বাজার থেকে নিয়ে আসে। মা বেসন মেখে বড়া বানিয়ে দেয়। কী দারুণ খেতে গো দাদু!...ওই দেখো শির বেরনো ঝিঙে ! মানে ওগুলো ঝিঙে ফুল!... ওই দেখো শশা! মানে ওগুলো শশা ফুল!... কত শশা গো দাদু!.... ওই.. ওই দিকে দেখো... কত লম্বা লম্বা.. ওগুলো কি শশা গো দাদু? "
" ওগুলো শশা নয়, কাঁকুড় বলা হয়।ওর থেকেও বড় বড় হবে। বড় হলে বাকাড়ি বলে। ওগুলোই পেকে ফুটি হবে। কচি কাঁকুড় কিন্তু শশার থেকেও সুস্বাদু। "
"ফুটি তো আমি খেয়েছি! গুড় মেখে খেতে হয়!"
তিতাসের ইচ্ছে করছিল ছবি তুলতে। তুতুনকে দেখাতে হবে তো।ছবি তুলতে এখন আর ক্যামেরার দরকার হয়না। মোবাইল ফোন সঙ্গে থাকলেই হবে। আসার সময় মায়ের মোবাইলটা সঙ্গে নিয়েছে জলের ছবি, মাছের ছবি তুলবে বলে। ওটা দাদুর পকেটে ছিল। তাই নিয়ে ছবি তুলতে শুরু করে তিতাস! কোনটা তুলবে আর কোনটা তুলবেনা ভেবে পায়না তিতাস! একবার এখান থেকে, একবার ওখান থেকে। একবার এদিক থেকে, একবার ওদিক থেকে ছবির পর ছবি তুলেই যায়।
এইভাবে ছবি তুলতে তুলতে একটা ঢিবির মতো উঁচু জায়গায় উঠে আসে তিতাস! ছবি তোলার আনন্দে আত্মহারা তিতাস তো আর দেখে চলছে না পথ। ফল যা হওয়ার তাই হল। একটা গর্তের মধ্যে পা হড়কে তিতাস গেল পরে! খুব একটা লাগেনি অবশ্য। তবে দাদুর সামনে আছাড় খেয়ে কেমন লজ্জা পেয়ে গেল! প্রসঙ্গটাই পাল্টে ফেলে তিতাস! জিজ্ঞাসা করে -" এখানে গর্ত কেন দাদু?"
"ও সব শেয়ালের গর্ত দিদি ভাই! বাঁধের উপরে এমন শয়ে শয়ে গর্ত দেখতে পাবে! আর ওই যে ছোট ছোট গর্তগুলো দেখছো,ওখানে ইঁদুর সাপ এই সব থাকে! "
" গর্তে জল ঢুকে যায় না?"
"যায় তো। তখন ওরা গর্তে গর্তে বাঁধের উপর উঠে যায়! এই সব গর্তই বাঁধের উপর পর্যন্ত চলে গিয়েছে! বাঁধে জল উঠলে ওরা উঠে যায় গাছে! যেমন তেমন ইঁদুর তো নয়! এক একটা বিড়ালের বাচ্ছা যেন সব!"
"আর শিয়াল গুলো? "
"ওরাও তখন পালিয়ে বেড়ায়। বাঁধের কাছে জল না এলে বাঁধেই থাকে। জল উঠলেই ডাঙার খোঁজে! বাঁধ ভেঙে বন্যা হলে ওরাও ভেসে যায়! আসলে ওই শিয়াল আর ইঁদুরের গর্তের জন্যই তো বাঁধ বেশি নষ্ট হয়! গর্তের ভিতরে জল ঢুকে বাঁধ ফাটিয়ে দেয়! অনেক গর্ত তো বাঁধের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত হয়েই থাকে! নদীতে বান জাগলে সুরঙ্গ দিয়ে জল ওপাশে চলে যায়! "
তিতাস মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকে দাদুর কথাগুলো। তুতুনকে গিয়ে সব বলতে হবে তো! তুতুনটা আবার যা, তারপর.... তারপর.... আর কি.... আরও বল করেই যাবে!
" এখন আর খুব বেশি শিয়াল দেখা যায় না! আগে তো এদিকে অনেক ডাঙা ডহর ছিল। ঝোঁপ জঙ্গল ছিল। অনেক উঁচু উঁচু ঢিবি ছিল। সেখানেই থাকত সব।নদীতে আসত খাবারের খোঁজে। সেবার বন্যায় যে দিঘির পাড়ে গ্রামের মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল,তার একটা দিক ঝোঁপ জঙ্গলে ভর্তি। শয়ে শয়ে শিয়াল থাকতো ওখানে।আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যারা ছিল, বানের সময় প্রাণে বাঁচতে তারাও ওখানে এসে উঠেছিল। শুধু কি শিয়াল! হেঁড়ল,কটাশ, সাপ সবাই জুটেছিল ওখানে। একদিকে মানুষ জন,তাদের গবাদি পশু,অন্যদিকে ওই সব জন্তু জানোয়ার। "
" ইস!দাদু তোমাদের ভয় করে নাই! যদি সাপে কামড়ে দিত!"
" প্রাণের দায় যে বড় দায় দিদি ভাই! সবাই তখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত! হেঁড়লের বাচ্চা তখন ছাগল ছানার মতো মানুষের কোলে এসে ঢুকছে! চারপাশে থই থই জল! দূরন্ত তার স্রোত! ভয়ংকর তার গর্জন! আকাশও বিরাম বিহীন! অনেক ছাগল গরু তো বৃষ্টির জলেই মারা গেল! আমরা কেউ কেউ বস্তা ত্রিপল তালাই মাদুর দিয়ে কোনো রকমে মাথা গোঁজার মতো ছাউনি করেছিলাম। সেখানেই ছেলেমেয়ে আর বুড়ো বুড়ীদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। পুরুষ মানুষরা তো প্রায় বৃষ্টিতে ভিজেই কাটিয়ে দিল তিনটে দিন! না ছিল খাবার, না ছিল পানীয় জল! কী দুর্দিন যে গিয়েছে দিদি ভাই! মনে পড়লে আজও শিউরে উঠি! হ্যাঁ, যে কথাটা বলছিলাম.,সাপ শিয়াল হেঁড়ল দেখে ভয় পাব কি; ওরাও তখন প্রাণ ভয়ে কাতর! মানুষের ছাউনিতেই এসে আশ্রয় খোঁজে! তাড়ালেও যায় না! বাড়ির পোষা কুকুরের মতো পরে পরে মার খায় আর করুণ চোখে তাকিয়ে থাকে! শেষে আমরাও আর তাড়ালাম না! বেশির ভাগ তো মরেই গেল! "
দাদু যতক্ষণ বন্যার কথা, মানুষের, অন্যান্য প্রাণীদের দুর্দশার কথা শোনাচ্ছিল তিতাস একটা কথাও বলে নাই। নির্বাক হয়ে শুনছিল দাদুর কথাগুলো!
দাদুর মুখে হেঁড়ল আর শিয়ালের কথা শুনে তিতাসের হেঁড়ল আর শিয়াল দেখতে ইচ্ছে হল।
সে দাদুর কাছে জানতে চাইল-
" আচ্ছা দাদু, ওই পুকুর পাড়ে গেলে হেঁড়ল, শেয়াল দেখা যাবে? "
রাঙা দাদু একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন -
" সে সবের এখন আর কিছুই নাই দিদি ভাই! সে জঙ্গলও নাই,ডাঙাও নাই আর পুকুরের পাড়ও নাই! ওই পুকুর পাড়ের একটা অংশই এখন আমাদের গ্রামটা!"
পুকুর পাড়ে গ্রামের কথা শুনে তিতাস তো অবাক!
" তার মানে ওখানে তোমাদের গ্রাম ছিল না? "
" না দিদি ভাই। আমাদের আদিগ্রামটা এখন নদীর চরা হয়ে গেছে..." বলে একটু দূরের দিকে হাত বাড়িয়ে কয়েকটি ইঁটের ভাঙা স্তুপ দেখিয়ে বললেন-
" ওই দেখো, কটা ভাঙা ভাঙা ইঁটের পাঁচিল দেখা যাচ্ছে - ওখানেই আমাদের আদি গ্রামটা ছিল! "
তিতাস দেখল,তারা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার কিছুটা দূরে দু'একটা ভগ্ন স্তুপ এখনো জেগে আছে! ওরা পায়ে পায়ে সেদিকে এগিয়ে আসে।
" কিন্তু দাদু, গ্রাম ছিল বলছ, তাহলে গাছপালা কই?"
" আজ আর কিচ্ছুটি নাই দিদি ভাই! চারপাশে কত বট অশ্বত্থ আম জাম কাঁঠালের গাছ ছিল! কত কালের পুরনো গাছ সেসব। আমার দাদা ঠাকুরও শুনেছিল তার দাদা ঠাকুরের কাছে সেসব বুড়ো গাছের গল্প! সেসব গাছের কিছু গিলে খেল নদী। আর বাকি গুলো সব মানুষই রাতারাতি উধাও করে দিল! ওই যে দূরে যে বাঁকটা দেখছ,ওটা ঘুরলেই পাওয়া যেত কাঁঠাল বাগান! হাজার হাজার কাঁঠাল গাছ পুরো তল্লাট জুড়ে। গাছে গাছে কাঁঠাল! বাজারে বিক্রি করা তো দূরের কথা, গাছ থেকে পেড়ে খাওয়ার লোক ছিল না! ওখানে একটা গ্রাম ছিল। গ্রামটা সরে গেছে অনেক দূরে!ওই কাঁঠাল বাগানের কাঁঠাল সাত মহল্লার লোকে খেয়েও ফুরোতে পারত না। গাছের তলায় পরে থাকত। গরু মোষে খেত। সেখানে আর কাঁঠাল গাছের বংশ নাই! শূন্য চরা খাঁ খাঁ করছে! "
তিতাস শুনে অবাক হয়ে গেল! মানুষ এভাবে গাছ কেটে ধ্বংস করেছে! তাও আবার ফলের গাছ!
" আচ্ছা দাদু,উঁচু পুকুর পাড় গুলো কি হল?"
"একদিকটায় আমাদের গ্রামটা নতুন করে গড়ে উঠল! কিছু মাটি কেটে নদীর বাঁধের কাজে লাগানো হল।তারপরও অনেক ছিল। পাহাড়ের মতো উঁচু উঁচু পাড়।সে সব একে একে কেটে নিয়ে গেল ইঁট ভাঁটার মালিকরা। ভাঙা ঢিপির চিহ্ন রইল না কোথাও! সে সব এখন কৃষি জমি কিম্বা জলা ভুমি! "
" এখানে ইঁট ভাঁটা আছে নাকি দাদু? কোথায়? "
" সে কথা আর বলতে। ওই যে পিছন দিকের বাঁকটা দেখছ,ওর একটু দূরে রেল ব্রিজ। ওই রেলব্রিজ পেরলেই দেখতে পাবে নদীর ভিতরে সারি সারি ইঁট ভাঁটা। বাইরে থেকে লরি লরি মাটি এনে নদীর ভিতরেই পাহাড় জমাচ্ছে! নদীর গর্ভেই মাটির পাহাড়, ইঁটের পাহাড়, ধাসের পাহাড়! বর্ষার এত জল কোন পথে যাবে বল দেখি! নদীর খাতও মজে গিয়েছে বালিতে। এবার তুমিই বল,বন্যা কেন হবে না! এখন তো বর্ষায় বৃষ্টি কম হয়! তখন দুতিন মাস সমানে বৃষ্টি হত! সব জল বয়ে যেত নদী খাতে।বকচরে উঠত হাঁটু জল।কাশফুলও ডুবত না।এখন নদীর খাত বলে কিছু নাই। সবই চরা!"
তিতাস লক্ষ্য করল গ্রামের ছেলেরা গরু নিয়ে ঘরে ফিরছে। পাখিরা কিচিরমিচির করতে করতে ফিরে যাচ্ছে বাসায়। মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে সারি সারি বক।তিতাস আকাশের দিকে তাকিয়ে উড়ন্ত বক দেখতে থাকে।
রাঙা দাদু বললেন -" ওরা সব বাসায় ফিরছে। গ্রামের দুটো বড় বড় তেঁতুল গাছ আছে। ওই গাছেই থাকে ওরা। এখন বাসায় ডিম পেড়েছে। কিছু দিন পরেই ডিম ফুটে বাচ্চা বেরবে।ওই পশ্চিম দিকটায় প্রকাণ্ড দুটো বটগাছ আছে। ওখানে আছে হাজার হাজার বাদুড়। দুপায়ে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরে মাথা ঝুলিয়ে সারা দিন দোল খাচ্ছে।"
" উপরের দিকে পা রেখে, মানে গাজনে যেমন মানষ ঝোলে, তেমনি! "
" হ্যাঁ, ঠিক ধরেছ!"
"ইস! দাদু, আমাকে একবার দেখাবে চল!"
" আজকে আর দেখা যাবে না দিদি ভাই। সন্ধ্যা হয়ে যাবে। রাত নামলেই ওরা উড়ে যায় খাবারের খোঁজে। অনেক দূর দূরান্তে চলে যায়।কাল দেখাব।তখন সব বলব।"
তিতাস দাদুর হাত ধরে ছোট ছোট পায়ে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরে আসে।
