রান্নার মাস্টার।
রান্নার মাস্টার।
রান্নার মাস্টার।
লেখক:– সোহন ঘোষ।
( Sohan Ghosh )
ওরে বাবা, ভজারে
কোথা যাস দুপুরে?
কি নিয়ে বস্তায়?
হেঁটে যাস রাস্তায়?
বাজার নিশ্চয় বস্তায়?
পেয়েছিস কি সস্তায়?
ভালোমন্দ কিছু কিনেছিস?
বাজার যা করেছিস–
আয় দেখি নিয়ে–
বলব তোকে খেয়ে।
কোনটা ভালো হবে?
কোনটা খারাপ তবে?
কোন খাবার খেলে–
হবে ভালো ছেলে?
জানতে চাস যদি,
চলে আয় জলদি।
চীনারা কি খায়?
তাও বলব ভাই।
প্যারিসের রান্না!
খেতে লাগে বেশ–
একদিন খেলে, ভাই,
থাকে ক’দিন রেশ।
যাবি তুই কলকাতা?
ওটা মিথ্যে কথা!
ওসব তোর চালাকি!
আমি বোকা নাকি?
সবসময় পালাই পালাই
করিস কেন, ভাই।
বোস্–দেখি এখানে
রান্নাটা আগে শিখে নে।
বসলি কেন, ভাই?
একবারে যাচ্ছেতাই!
কড়াই-খুন্তি নামিয়ে
আসবি, খাতা নিয়ে।
এইসবও কি শেখাতে–
হবে আমাকে?
বুদ্ধি নেই ঘটে!
ঝটপট দোতলায় গিয়ে,
কড়াই-খুন্তি আন, নামিয়ে–
শেখাব তোকে আজ রান্না!
কি বললি, পারব না?
তুই থাকতে আমিএ
আনব সব নামিয়ে!
আস্তে নামা, ধরছি দাঁড়া;
বুঝি না বাপু, এখনকার
ছেলেদের কিসের এত তাড়া।
সেই তো আমায় ঘামালি;
যা বললাম, সব নামালি;
হাই, তুললি যে বটে–
বোস্ দেখি ঘাসেতে।
কিভাবে করে দই?
কিভাবে বানায় খই?
শিখতে গেলে রান্না–
করতে হবে গণনা!
ঝাল কত? নুন কত?
দিতে হবে প্রয়োজনমতো।
বানাবো আজ পেয়ারার চাটনি!
কিংবা কলার ঘুগনি!
কিভাবে বানায় লালামি?
পায়েস বানাবো রুই...
কি বললি তুই–
এসব নাকি পাগলামি!
কোপ্তা, পোলাও, বিরিয়ানি–
সবই রাঁধতে জানি।
এই তো সেদিন, কার বিয়েতে
গিয়েছিলাম রান্না করতে।
হাড়িতে চাল দিয়ে
দিলাম হলুদ-লঙ্কা মিশিয়ে
আর দিলাম পিঁয়াজ-আদা
হয়ে গেল বিরিয়ানি রাঁধা।
ময়দা দিয়ে রসগোল্লা বানিয়ে–
দিলাম চিনির রসে ডুবিয়ে।
কি বললি, তুই–
এসব যাচ্ছেতাই বকুনি
বুঝতে গেলে বুদ্ধি লাগে
বলেছিলাম তখুনি।
চুপ করে, বস দেখি এখানে–
রান্নাটা আগে শিখে নে।
রান্না আজ শেখাবই–শেখাব।
না শিখবি তো, কাগজে
লিখে জল দিয়ে খাওয়াব।
না ঢুকলে মগজে–
মাথা ফুটো করে ঢোকাব
রান্না আজ শেখাবই–শেখাব।
উঠলি কি মনে করে!
এসেছিস আমায় জ্বালাতে?
ইচ্ছে করে এসব বদমাশদের
মনের সুখে মারতে!
আরে আরে, যাচ্ছিস যে পালিয়ে!
ধরতে পারলে–কান দেব পেঁচিয়ে।
প্রকাশকাল:–
16 November 2025 ( ইংরেজি )
২৯ কার্তিক ১৪৩২ ( বাংলা
