কাঠের বাক্সের চাবি
কাঠের বাক্সের চাবি
দিদার পুরোনো ঘরের এক কোণে পড়ে ছিল একটি ছোট্ট কাঠের বাক্স। গায়ে ধুলো জমেছে, কোণগুলো ক্ষয়ে গেছে, তবু তালাটা অক্ষত।
দিদা চলে যাওয়ার পর বাড়ি গুছাতে গিয়ে বাক্সটা খুঁজে পেল নাতনি, মেঘলা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আলমারির ভাঁজে মিলল ছোট্ট একটি পিতলের চাবি।
বাক্স খুলতেই সোনাদানা নয়, বেরিয়ে এল কয়েকটি হলুদ হয়ে যাওয়া চিঠি, একটি সাদা-কালো ছবি, বাবার ছোটবেলার আঁকা একটি ফুল, আর একটি কাপড়ের থলেতে রাখা শুকনো শিউলি ফুল।
সবশেষে ছিল একটি চিরকুট—
"যদি কখনও এই বাক্স খুলে থাকো, জেনে রেখো—মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ জমি বা গয়না নয়, যত্ন করে রেখে দেওয়া স্মৃতিগুলো। এগুলো হারিয়ে গেলে কোনো বাজারে কিনতে পাবে না।"
মেঘলার চোখ ভিজে উঠল। সে বাক্সটি আবার বন্ধ করল, কিন্তু চাবিটা আর লুকিয়ে রাখল না।
কারণ সে বুঝেছিল, কিছু বাক্স খোলা হয় জিনিস খুঁজতে নয়—নিজের শিকড় খুঁজে পেতে।
