Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Ranit Das

Children Stories Comedy Classics


3  

Ranit Das

Children Stories Comedy Classics


পটলদার বাজি ফাটানো

পটলদার বাজি ফাটানো

6 mins 573 6 mins 573

এক

"ফারাও কাদের বলা হতো?" পটলদা প্রশ্ন করলো|

"মিশরীয় সভ্যতার রাজাদের| সাধারণত যারা বড়োবাড়ি বা রাজপ্রাসাদে থাকতো এবং অগাধ ধনসম্পত্তির অধিকারী ছিল", আমি বিজ্ঞের মতো বললাম|

আমার উত্তর শুনে মুখে একটা 'হুম' শব্দ করলো পটলদা|

"আচ্ছা এবার বল পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ফুল কোনটা আর কোথায় পাওয়া যায়?" পটলদা আবার প্রশ্ন করলো|

"রাফলেসিয়া| পাওয়া যায় সুমাত্রা দ্বীপে|", আমি প্রত্যুত্তরে বললাম|

"ভারতের একটা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম বল"

"পশ্চিমবঙ্গের কোলাঘাট"

"পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া"

"উত্তরপ্রদেশের হরদুয়ার গঞ্জ"

"ভারতের রাষ্ট্রগুরু কাকে বলা হয়?" পটলদা আবার প্রশ্ন করলো|

আমিও নির্ভয়চিত্তে বলে দিলাম, "সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়কে"

আবার মুখে 'হুম' শব্দ করে পটলদা আমার পিঠে একটা অসভ্যরকমের চাপড় মেরে জোরে চিল্লিয়ে বলল, "ব্র্যাভো সতীশ ব্র্যাভো| জেনারেল নলেজটা দারুন আয়ত্ত করেছিস, নাহ আমি স্পষ্ট আমার থার্ড আই দিয়ে দেখতে পাচ্ছি তুই নেক্সট ইন্ডিয়াস মোস্ট ট্যালেন্টেড চাইল্ড হতে চলেছিস|"

সময়টা ছিল কালীপুজোর রাত| সকালে বাইরে বাজি ফাটাচ্ছে আর আমি কিনা ঘরে বন্দী হয়ে পটলদার কাছে এই যতসব উদ্ভট প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি| কোনো মানে আছে| আসলে পটলদা আমার নিজের দাদা নয়| অনেকবছর আগে সুরঞ্জন কাকুদের বাড়িতে ভাড়া হিসাবে এসেছিলো| কিন্তু কেন যে আমার সাথে দেখা হয়েছিল, সেটাই শুধু ভাবি| হয়তো আমার ভাগ্যেই ছিল| সে যাইহোক আমার সাথে কথা বলে পটলদার নাকি আমাকে বেশ ভালো লাগে| একদিন হঠাৎ আমাকে দেখে বলে, "সতীশ, ইউ আর মাই ওয়ান এন্ড ওনলি চ্যালা|"

শুনেই আমার মাথায় বজ্রাঘাত| ব্যাটা বলে কি? আমি চ্যালা? যার কোনো চাল-চুলনের ঠিক নেই সে কিনা হবে চ্যালা?

আমি পটলদাকে বললাম, "তোমার বোধহয় পেট গরম হয়েছে, দাড়াও মাকে বলি তোমাকে একটু বাতাসের জল বানিয়ে দেবে|"

আমার কোথায় বেজায় চটে গিয়ে পটলদা বলল, "ডোন্ট টক রাবিশ সতী|"

আমি ক্যাবলার মতন মুখ করে তাকিয়ে আছি দেখে পটলদা আমার হাতের আধ খাওয়া সিঙ্গারাটা পুরো মুখে পুরে আমার পিটে অসভ্য রকমের একটা চাপড় মেরে বলল, "ডোন্ট ওয়ারি সতী|"

মুখে কিছু বললাম না, মনে মনে ভাবলাম......

"আমার হয়ে গেল, দুর্ভোগের আজ শেষ থাকবে না।"

দুই

পটলদা কোনো সাড়া-শব্দ করছে না দেখে আমি বললাম, "পটলদা বাইরে সবাই বাজি ফাটাচ্ছে| আমি যাবো?"

মুখের সামনে থেকে 'মডার্ন জেনারেল নলেজ' বইটা না সরিয়ে পটলদা বলল, "যাবি? বাজি ফাটাতে? ঠিক আছে চল আমিও যাচ্ছি|"

একমুখ বিস্ময় নিয়ে পটলদাকে প্রশ্ন করলাম, "তুমি বাজি ফাটাবে?" ইতিমধ্যে আমার জানা হয়ে গেছে পটলদার বাজিতে খুব ভয়|

"না! লুডো খেলবো|" বিরক্তির মুখ নিয়ে পটলদা বলল|

"রাগ করছো কেন| আমি বললাম কারণ তুমিতো বাজিতে বয় পাও তাই|"

"পাই না পেতাম| আর ওটা ভয় নয়, ওটা যাকে বলে ইগো| আমার মতো বড়ো মাপের মানুষ এসব পুঁচকে জিনিসপত্র করেনা|" পটলদা হাফ-প্যান্টের উপর জিন্সটা পরতে পরতে বলল|

"বাজি ফাটানো পুঁচকে জিনিস?" আমি প্রতিবাদী সুরে জিজ্ঞেস করলাম|

"আলবাদ! বাজি পোড়ালে যে টাকা পড়ানো হয় সেটা জানিস?"

"তার মানে বাজি না ফাটানোই উচিত তাইতো?"

"একদম", পটলদা জিন্সের চেনটা লাগাতে লাগাতে বলল|

কথা বলতে বলতে পটলদা রেডি, আর বেশি দেরি না করে আমরা রাস্তায় বেড়িয়ে পড়লাম| যেখানে পটলদা সেখানে তো ভয়ের আবহাওয়া সৃষ্টি হবেই| জানি না আজ কি অপেক্ষা অপেক্ষা করছে সবার জন্য।

তিন

বাইরে এসে দেখি রীতিমতো ধুমধাম করে বাজি ফাটানো হচ্ছে| কালি, বাপি, সন্টে, কেঁদুয়া, লখাই, চিনেবাদাম থেকে শুরু করে পাড়ার বয়স্করা এমনকি মহিলাগণ সকলেই মহাআনন্দে বাজি ফাটাচ্ছে| যেসব নামগুলো বললাম সবই আমার পাড়ার বন্ধুদের নাম| এগুলো ওদের আসল নাম অবশ্যই নয়, সবকটাই 'ডাকনাম', পটলদার দেওয়া| পটলদা ওরফে শ্রীযুক্ত ধর্মদাস দত্ত এইসব নামের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলো......

"রবির নাম দিলুম কালি| কারণ ব্যাটা এতটাই কালো হয়ে জন্মেছে যে রাতেরবেলা অন্ধকারের সাথে মিশে যেতে পারবে| সায়নের নাম দিলুম বাপি| কারণ ও এতটাই বাপের আদুরে পোলা যে ছেলে একটু বাইরে বেরোলেই বাবার ফোনের সবটাকা ফুরিয়ে যায়| সুপ্রদীপের নাম সন্টে| গর্ধবটা সারাদিন শুধু নন্টে-ফন্টে পড়ে, পরীক্ষার খাতায় কোনদিন নন্টে-ফন্টের ছবি এঁকে চলে আসবে| ও হল নন্টে-ফন্টের পরবর্তী কার্টুন ক্যারেক্টর| রাহুলের নাম দিলুম কেঁদুয়া| কারণ সামান্য সামান্য ব্যাপার কেঁদে ফেলাটা ওর জন্মগত অধিকার| সানুর নাম দিলাম লখাই| কারণ ও যে গতিবেগে লাঠাই গুটায়, সেই গতিবেগের কাছে রাজধানী-দুরন্ত ফেল| আর সৌমদীপের নাম চিনেবাদাম| কারণ ওর মতন চিনেবাদামের ভক্ত ভূ-ভারতে পাওয়া মুশকিল| এমনিতেই তো ডুপ্লিকেট 'মেড ইন চায়না' প্রোডাক্ট তার উপর চিনেবাদামের ভক্ত| ব্যাটা বোধহয় পায়খানায় বসে বসেও চিনেবাদাম খায়|"

এই আমাদের পটলদা| কাকে, কখন, কি নামে ডাকবে বোঝা মুশকিল|

বাবার কাছ থেকে একটা পেল্লায়মার্কা রংমশাল নিয়ে আমি পটলদার হাতে দিতেই পটলদা ওটাকে হাতে নিতে 'দি স্টিক অফ কালার' বলে সম্বোধন করলো|

আমি বললাম, "দি স্টিক অফ কালার মানে?"

"মানে রঙের কাঠি", পটলদা বলল|

"সেতো বুঝলাম| কিন্তু হঠাৎ এই নাম?" আমার প্রশ্ন|

"এমনি মাথায় এলো বলে দিলাম|"

আমি কিছুটা দ্বিধা, কিছুটা ভয় নিয়ে বললাম, "পটলদা একটু সাবধানে ফাটাও, কিছু ঘটিও না আজ আবার|"

আমার কথায় বেজায় চটে গিয়ে পটলদা বলে উঠল, "দেখ সতী, আমি বাচ্চা ছেলে নই তোদের মতো, আমার যথেষ্ট বুদ্ধি আছে|"

"রেগে যাচ্ছ কেন| আমি তো তোমার ভালোর জন্যই বললাম|"

"আমার ভালো তোমায় দেখতে হবে না বৎস| তুমি নিজের চরকায় তেল দাও|"

অগত্যা চুপচাপ সরে গেলাম।

চার

কালি, বাপি, সন্টেদের সাথে কালিপটকা ফাটাবো বলে ঘর থেকে বিরাট সাইজের যে কালিপটকাটা কিনে এনেছি সেটা আনতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ কিসের যেন হই-হট্টগোল শুনতে পেলাম, ব্যাপার খানা কি কালিকে জিজ্ঞেস করতে ও বলল, "দেখ তোর সাধের পটলদা কোনো কান্ড ঘটালো কিনা|"

এতক্ষনে হুশ হল আমার, কালীকে প্যাকেটটা আনতে বলে আমি আর সন্টে দৌড় দিলাম ঝামেলা স্থানের উদেশ্যে| সেখানে গিয়ে দেখি, জ্বলন্ত রংমশাল হাতে পটলদা দাঁড়িয়ে| আমার বাবা স্নান করার মগে জল নিয়ে ছোটাছুটি করছে আর বলছে "ওরে আরও জল নিয়ে আয়|" হারুকাকা, দীনুদা ওরাও দেখি ছোটাছুটি করছে আর নিজেদের ঘর থেকে বোতল, মগ, বালতি যা পারছে তাতে করে জল ভরে নিয়ে আসছে| আমাদের টিমের বাকি সদস্যরাও দেখি হাজির| সবই দেখি বিশ্বনাথকাকুর বাড়ির দিকে ছুটছে| ব্যাপারখানা কি? সবই এভাবে জল নিয়ে ছুটছে কেন? হঠাৎ শুনতে পেলাম পাশেরবাড়ির সুমতিদিদা বলছে, "আরে ও দিনু, ওভাবে আগুন নিভবে না, বালি ঢাল বালি ঢাল|"

"সেরেছে| আগুন? আগুন লাগলো কিভাবে? কে লাগলো?", আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম| এইটুকু বুঝতে পেরেছি যে এই এগুলো লাগার পিছনে নিরানব্বই শতাংশ পটলদার হাত আছে| না হলে ওর মতো মাতব্বর চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতো না।

পাঁচ

বিশ্বনাথকাকুর ঘরে আগুন লাগা এবং পাড়ার লোকেদের তৎপরতায় সেই আগুন নেভানো এই ঘটনার প্রায় একমাস কেটে গেছে| এবছর কালীপুজোর সেই রাত আমি কোনোদিন ভুলবো না|

বিশ্বনাথকাকুর ঘরে পাড়ার একপাল লোক| বাবা, দীনুদা সকলে মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে| বিশ্বনাথকাকুর সহধর্মিনী রিনাকাকিমা দুগালে হাত দিয়ে শুধু বলে যাচ্ছে, "গেল গেল, আমার সব গেল| ওই পটোলের আমি পটল তুলে তবে ছাড়বো| সব জিনিসের দাম নেবো আমি|" হারুকাকা বলছে, "এইভাবে হবে না, আরও জল আনো|" সন্টেটা যেমন পাগল তেমনি মাথামোটার মতন বুদ্ধি, বলে, "ও দীনুদা আরে কেরোসিন ঢালো, আগুন নিভে যাবে|" পাশ থেকে কালি ওর মাথায় একটা বিশ্রী গাট্টা মেরে বলল, "মাথামোটা কেরোসিন দিলে আগুন নেভে না বরং বেড়ে যায়|" সুমতিদিদা তখনও বলে যাচ্ছে, "আরে বালি ঢাল, বালি|"

এই ভাবে হাজার পরামর্শ আর এবং প্রায় যুদ্ধ করেই আগুন নেভানো হয়েছিল| পটলদাকে পাড়ার সকলে মিলে বেজায় ঝেড়েছিলো| পটলদা মুখে টুঁ শব্দ করেনি, চুপচাপ সবার কথা শুনেছিলো| রিনাকাকিমা একটা শাড়ি, দুটো তোয়ালে, চাদর, বালিশ সবকিছুর দাম নিয়েছিল পটলদার কাছ থেকে| কিন্তু এটা জানার ইচ্ছে ছিল আগুনটা লাগলো কি ভাবে? বাবাকে রাতে জিজ্ঞেস করি ব্যাপারটা কি হয়েছিল| বাবা যা বলল সেটা এমন-

"বাবারা হাতে রকেট ছাড়ছে দেখে পটলদারও ইচ্ছা হয় এই অভিনব কৌশলে রকেট ছাড়বে, সেই মতো বাবার কাছ থেকে একটা বাস্ট রকেট নিয়ে নিজেই কেরামতি করে ছাড়তে যায়| ব্যাস, ওখানেই গন্ডগোল হয়ে যায়| আগুনের ফুলকি পটলদার হাতে পড়তে ও রকেটটা ছেড়ে দেয় আর তখনই রকেটটা সোজা বিশ্বনাথকাকুদের খোলা জানলা দিয়ে ঢুকে যায়| যদিও পটলদার মতে আগুনের ফুলকিটার-ই সব দোষ| ওর হাতে না পড়লে সব ঠিকঠাক-ই হতো| রকেট সোজা আকাশে গিয়ে ফাটতো| যাইহোক এরপর একমাস আমাদের সকলের নির্বিঘ্নেই কেটেছে, পটলদার জ্বালাতন আর সহ্য করতে হয়নি|



Rate this content
Log in