STORYMIRROR

SOHAN GHOSH

Children Stories Classics Children

4  

SOHAN GHOSH

Children Stories Classics Children

যেমন খুশি (ছোটোদের কবিতা গ্রন্থ)।

যেমন খুশি (ছোটোদের কবিতা গ্রন্থ)।

3 mins
4

এখানে ‘যেমন খুশি’ কবিতা গ্রন্থের প্রথম ১০ টি কবিতা দেওয়া হলো।


১)     মোদের দুর্গাপূজা।

 মোদের উল্লাস! মোদের আশা!   

মোদের এই দুর্গাপূজা।  

কি জাদু ঢাকের তালে,  

শুনলে কোমর দোলে।  

ঢাকের তালে বেজে ওঠে প্রাণ।  

গাইতে ইচ্ছা করে বাংলা গান।  

কি যাদু বাংলা সংগীতে,

গাইলে, মন চায় নাচতে।

বন্ধু-আত্মীয় সবার সাথে,

হাসি-খুশিতে দিন কাটে।

মাঠের ধারে কাশফুলের ঘ্রাণ 

হৃদয়ের মাঝারে জাগায় প্রাণ। 

কি করে বোঝাবো তোমায়।  

কত আনন্দ হয় দুর্গাপূজায়।

 

২)  ও পাড়ার টিয়া।

   

 ও পাড়ার টিয়া,

       নাম তার রিয়া।

শোনে না কারোর নিষেধ–মানা,

       চষে বেড়ায় সারা আকাশখানা।


সারাদিন ঘুরে বেড়ায়,

      উড়ে উড়ে গান গায়।

করে না কোনো উৎপাত,

      চুপ করে খায় দুধ–ভাত।


কাঁচা লঙ্কা খায় চিবিয়ে,

     ঘুমোয় আলো নিবিয়ে।

বিড়াল, কুকুর কিংবা হস্তি—

      সবার সাথেই তার দোসতি।

   

 ৩) চৈত্র মাসের দুপুরে। 


চৈত্র মাসের দুপুরে

  বসে ছাদের উপরে

গান গায় টিয়ে,

     ময়নাকে সঙ্গে নিয়ে।

গান শুনে খোকা নাচে

     ‌ দুটি বাহু তুলে।

খোকার এই নাচ দেখে

              খুকুমণি নাচে!

 

৪)  তেপান্তরের সাপুড়ে।


   এক যে ছিল সাপুড়ে,

খেলা দেখাত দুপুরে।

পুকুর পাড়ে বসত,

কত সাপ আনত।


সাপে ভরা ঝুলি নিয়ে,

তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে,

দেখাতে আসত খেলা,

নির্জন দুপুর বেলা।


ডুগডুগি বাজিয়ে,

কাঁধে ঝুলি নিয়ে—

হেঁটে আসতো সাপুড়ে,

ডেকে উঠত হাঁক ছেড়ে—

‘দেখবি যদি সাপের খেলা,

চলে আয় রে এই বেলা!

কী সাপ আছে এই ঝুলিটায়,

দেখবি যদি‌ জলদি আয়।’


খেলার শেষে সাপুড়ে,

গুছিয়ে নিয়ে ঝুলি,

হেঁটে যেত পিচের পথ ধরে,

হাওয়ায় উড়িয়ে ধুলি।


 ৫)  এপার—ওপার গঙ্গা।

  

এপার—ওপার গঙ্গা,

মাঝখানে ভাসে নৌকা।

নৌকায় বসে মাঝি,

দিচ্ছে গঙ্গা পাড়ি।


এপারের এই গঙ্গা ঘাটে,

লোকেরা নাইতে নেমেছে।

ওপারের ওই গঙ্গা ঘাটে,

টিয়ের ঝাঁক নেমেছে।


গাছে বসে চড়ুই,

গাইছে, সুমধুর গান।

গঙ্গায় লাফিয়ে রুই,

খেলছে, ঢেউয়ের টান।


 ৬) ফুটলো–ভোরের আলো।


দাদারে! দাদা, আর–

       থেকো না শুয়ে,

দেখো এবার–

       আকাশ পানে চেয়ে। 

যাচ্ছে মুছে–

        আঁধার কালো!

ফুটছে ধীরে–

        ভোরের আলো!

আর থেকো না ঘুমিয়ে–

       দেখো ওদিকে তাকিয়ে। 

গাছের ডালে পাখি সব–

      মধুর সুরে জুড়েছে কলরব।


ওঠো দাদা ওঠো রে–

           ঘুম ভেঙে ওঠো রে। 

সূর্য মামা ওঠার আগে, 

    বাবা-মা‌ জাগার আগে, 

আমরা উঠবো জেগে! 

      সবার আগে আগে।


       ৭) রঙিন সকাল।

        

সূর্য উঠেছে গগনে,        

       ফুল ফুটেছে বাগানে।

বাজছে ঘণ্টা মন্দিরে,

       বইছে হাওয়া উত্তরে।


চাষি যাচ্ছে মাঠে,

      শিশুরা মন দিয়েছে পাঠে।

পাখিরা গান গায় গাছের ডালে,

     প্রজাপতি ওড়ে ডানা মেলে।


মাছেরা খেলা করে নদীর জলে,

     অলি ওড়ে ফুলে-ফুলে।

এই সব দেখতে লাগে বেশ,

     স্রষ্টার হাতে গড়া —

 কী সুন্দর দেশ!


৮) ‌‌  মামার বিয়ে।

       

ওরে ও খোকা,

যাচ্ছ কোথায় একা?


তবে শুনো, টিয়ে,

আজ মামার বিয়ে!

যাচ্ছি ফুল তুলতে,

মালা দেবো গেঁথে।


আসবে, মনে করে,

রূপকথার নগরে।

মামার হবে সেখানে—

বিয়ে মামির সনে।


তখন বলল, টিয়ে,

দেখতে যাবো বিয়ে।

ডানাই ভর দিয়ে,

ময়নাকে সঙ্গে নিয়ে।


 ৯) খোকার বিয়েবাড়ি।

  

ডানায় ভর দিয়ে,  

      আয়রে, আয় টিয়ে,  

ময়নাকে সঙ্গে নিয়ে,  

      দেখব আজ বিয়ে।  


পদ্মদীঘির ঘাট পেরিয়ে,  

      তেপান্তরের মাঠ হয়ে,  

রূপসাগরের দেশে গিয়ে,  

      দেখব আজ বিয়ে।  


বাগানের ফুল নিয়ে,  

     উপহার দেব গিয়ে,  

তোদের সঙ্গে নিয়ে,  

     দেখব আজ বিয়ে।


১০) তাদের মন জয় করার চেষ্টা করি।


হঠাৎ দেখি চাঁদ উঠেছে কালিঘরের মাথায়,

মনটা যেন নেচে উঠল চুপিসারে — হায়!

ভাবনাতে গান এলো তাই,

গেলাম ছাদে চুপে,

নিভৃত প্রান্তর — আপন মনে গানের খাতা খুলে।


লিখে ফেললাম আস্ত একটা প্রকৃতিরই গান,

মনটা ভরে উঠল ভালোবাসার টানে প্রাণ।

নিচে নেমে আসছি যখন, পুকুরজল হঠাৎ বলে ওঠে —

“আজকের রাতটা ভরাও তোমার গান দিয়ে!”


এমন সময় প্যাঁচার ঝাঁক ছুটে এসে বলে —

“তোমার গান শুনবো আমরা গাছের ডালে বসে!”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলি —

“শোনাতে তো চাই,

তবলা-গিটার কিছুই তো নাই — বলো, কী করে শুনাই?”


তখন হাওয়া, গাছপালা আর পোকা-মাকড় দল

বলল — “আমরাই দেবো সুর — চল!”

ছুটে এলো জোনাকিরা, বলল —

“আলো দেবো,

তোমার গানের মঞ্চ সাজিয়ে, রূপে রাঙিয়ে দেবো!”


ফুলেরা সব হাসতে হাসতে বলে —

“আমরা আছি,

রঙিন সাজে সাজিয়ে দেবো মঞ্চটিকে।”

কোথা থেকে জানো, হঠাৎ হাজির হল

গিরগিটি আর ব্যাঙের দল।

বলল তারা হেঁকে —

“আমরা আজকে সবাই রাত জাগবো একসাথে!”

পিছু থেকে কে যেন বলল —

“আজকে ভরিয়ে তলো রাত তোমার গান দিয়ে।”


কি আর করি!

খুলি খাতা, গাইতে শুরু করি,

গানে গানে এই জগৎটাকে

ভরিয়ে তোলার চেষ্টা করি।


দ্রষ্টব্য:–

এই কবিতাগুলি ‘যেমন খুশি’ নামক ছোটদের কবিতা গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত প্রথম দশটি কবিতা, পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

গ্রন্থটিতে মোট ৫০টি কবিতা রয়েছে।

এই কবিতাগুলি সম্পূর্ণরূপে লেখকের নিজস্ব ও স্বরচিত।

গ্রন্থ: যেমন খুশি

ধরন: ছোটদের কবিতা গ্রন্থ

লেখক: সোহন ঘোষ


Rate this content
Log in