Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Sabita Chakrabarti

Others


2  

Sabita Chakrabarti

Others


ফেয়ারওয়েল

ফেয়ারওয়েল

4 mins 9.4K 4 mins 9.4K

সকাল সাড়ে আটটায় মনোময় মজুমদার খেতে বসেছেন । অফিস যেতে হবে তো । বলে উঠলেন,''ইস দীপ্তি ভাতটা বেশী ফুটিয়ে ফেলেছ ।''

 দীপ্তিঃ- ''ওই দুধ দিতে এল । কলিং বেল বেজে উঠল । দরজা খুলতে গিয়ে একটু সময় চলে গেল সে জন্য ভাতটা একটু বেশী ফুটে গেছে ।'' 

খাওয়া সেরে পান চিবোতে চিবোতে বললেন,'' আমার গেঞ্জি কটা কেচে রেখো তো ।'' 

একটু পরেই মনোময় ডাকছেন,''দীপ্তি, আমার রুমাল কই ?''  

দীপ্তিঃ- ''রেখে এসেছি । দেখো, তোমার ব্যাগের তলায় বোধ হয় চাপা পড়ে গেছে।'' বলতে বলতে এসে টিফিনটা হাতে ধরিয়ে দেন । ''নাও ব্যাগে ভরে নাও ।''

মনোময়ঃ- ''পানে চুনটা বড্ড বেশী দিয়েছ?''

দীপ্তিঃ- ''ওমা তাই, বুঝতে পারিনি ।''

মনোময়ঃ- হ্যাঁ, তুমি তো অনেক কিছুই বুঝতে পার না । রোজ রোজ এই ভিড় ঠেলে যাওয়া । আচ্ছা, ছাতাটা দিয়েছ তো ?'' 

দীপ্তিঃ- ''হ্যাঁরে বাবা হ্যাঁ । আর ত কটা দিন ।''

মনোময়ঃ- ''এই বালিহল্ট ষ্টেশনটা যবে থেকে হয়েছে, ডানকুনি লোকালের ভিড়টা গেছে বেড়ে । অসহ্য ! তারপর বিকাশ ভবনে অফিসগুলো সব চলে আসাতে এখন উপচে পড়া ভিড় । ফেরার সময় তো ট্রেনে ওঠাই দায় । আগে আমরা কত ফাঁকা ট্রেনে যাতায়াত করতাম ।''

মনোময়বাবু সরকারী দপ্তরে বড়বাবু । আগামী তিরিশে নভেম্বর রিটায়ার করবেন । রোজ ন'টা দশের ডানকুনি লোকালটা ধরেন । ফিরতে ফিরতে সেই সাড়ে ছটা সাতটা বেজে যায় । 

সেদিন অফিসে কিছুজন এসে বলল,'' দাদা, আমরা আপনাকে ফেয়ারওয়েল দেব । আমাদের ইচ্ছে ওই দিন আপনি বউদিকে নিয়ে আসবেন ।'' 

মনোময়ঃ- ''সে গৃহবধূ । সে কি আর আসবে ?'' 

সংগঠকঃ- ''না না দাদা, আপনি তাকে অবশ্যই সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন । আপনি বললে নিশ্চয়ই আসবে । অফিসের কোন অনুষ্ঠানে আপনি তাকে আনেন নি । এরপর আর আপনিও আসবেন না । এইবার আমরা তার সঙ্গে আলাপ করব । আপনার মুখ থেকে, বউদির মুখ থেকে আপনাদের জীবনের সুখ দুঃখের কথা শুনব । সুদীর্ঘ জীবনে কার অবদান কতটুকু আমাদের জানার ইচ্ছে । আপনারা যৌথ জীবন কেমন কাটালেন বউদির মুখ থেকে শুনব ।'' 

সংগঠকরা এতবার বলছে দেখে মনোময় বললেন,'' বলে দেখব ।''

সংগঠকঃ- ''না না দাদা, আপনাকে ওই দিন বউদিকে নিয়ে আসতেই হবে ।''

৩০ নভেম্বর বিকেল চারটেয় মনোময় বাবুর ফেয়ারওয়েল । তিনি সস্ত্রীক এসেছেন ।  

মনোময় বাবুর জন্য এবং বউদির জন্য উপহার কেনা হয়েছে । একটা করে দামী কাশ্মীরি শাল, ঘড়ি, ফুলের মালা,বোকে, মিষ্টি - কোনটাই বাদ যায় নি ।  

মনোময় মজুমদার যে দপ্তরে কাজ করতেন সেই দপ্তরের অফিসারকে সভাপতি করে সভার কাজ শুরু হল । এর পর মনোময়বাবুকে মঞ্চে ডাকা হল । দাদা একা আসছেন দেখে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক বললেন,'' বউদিও সঙ্গে আসুন । আমরা দুজনকে এক সঙ্গে মঞ্চে দেখতে চাই।'' ওই সেকশনের নবনীতা উদ্বোধনী সঙ্গীত 'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে' গাইল । এর পর সংগঠকের পক্ষ থেকে ফুলের মালা এবং বোকে, মিষ্টি দিয়ে দুজনকে বরণ করে নেওয়া হল । সভাপতি বক্তৃতা করলেন । বললেন,''আজকের সমাজে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান জানানোর ব্যবস্থা প্রায় উঠেই গেছে। আমি মনে করি বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরা সম্মানিত হই । পারস্পরিক সন্মানবোধই ত সমাজকে টিকিয়ে রাখে । এতদিন মনোময় বাবু আমাদের মধ্যে তার কর্মময় জীবন কাটিয়েছেন । সরকারী নিয়ম অনুযায়ী আমাদের তাকে বিদায় জানাতে হচ্ছে । আমরা চাই বাকী জীবনটা উনি সুস্থ শরীরে থাকুন এবং আনন্দে থাকুন ।'' এই বলে সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করলেন ।   

সঞ্চালক বললেনঃ- ''এখন মনোময় বাবু কিছু বলবেন । আসুন দাদা, আপনি মাইক্রোফোনের সামনে আসুন । আপনার জীবনে কার বা কাদের অবদান ছিল আজ আপনার মুখ থেকে পুরনো দিনের কথা শুনব । যাদের সঙ্গে সারাজীবন কাটালেন তাদের সম্পর্কে কিছু বলুন ।'' মনোময় বাবু কোন স্কুলে পড়েছেন, বাবা কত রাগী ছিলেন, যার ফলে তার প্রখর সময় জ্ঞান তৈরি হয়েছিল বললেন, মা বাবা সমেত চার ভাই বোনের সংসারে কত পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয়েছে বললেন । সহকর্মীদের কয়েক জনের কথা বললেন । মায়ের বা পাশে বসা স্ত্রী সম্পর্কে একটা বাক্যও খরচ করলেন না । সবশেষে ফেয়ারয়েল দেবার জন্য উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করলেন । 

এরপর সঞ্চালক বললেন,'' এবার আমরা মনোময় বাবুর স্ত্রীকে, আমাদের শ্রদ্ধেয়া দিদিমাকে কিছু বলবার জন্য অনুরোধ করছি ।'' 

তৎক্ষণাত মনোময় বাবু বলে উঠলেনঃ- ''ও আবার কি বলবে ?'' 

সঞ্চালকঃ- ''আসুন দিদিমা, আসুন ।''

দেখা গেল দিদিমা সলজ্জ মুখে উঠে এসে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে দৃপ্তভঙ্গিতে দাঁড়ালেন । মঞ্চে আসীন সভাপতি এবং দর্শক আসনে বসা সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন,''আমাকে আজকের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই । আপনাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমার খুব ভালো লাগছে । আমি বেশী কথা বলব না । দুটো কথা বলব মাত্র । আমাদের সমাজে আমাদের কাজ হল অবিন্যস্ত সংসারকে বিন্যস্ত করা । ইস্ত্রি যেমন অবিন্যস্ত জামা কাপড় টান-টান করে, আর বাবুরা ফিটফাট থাকেন । মঞ্চে কি আর আমাদের আসা সাজে ?''


Rate this content
Log in

More bengali story from Sabita Chakrabarti