এখানে একটি ডিটেকটিভ এর কথা বলা হয়েছে জমিতার বুদ্ধির মাধ্যমে এবং বিচক্ষণতার
এখানে একটি ডিটেকটিভ এর কথা বলা হয়েছে জমিতার বুদ্ধির মাধ্যমে এবং বিচক্ষণতার
ডিটেক্টিভ (M) সৌরভ
হঠাৎ ও ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ এলো। সবাই দৌড়ে চলে গেল রান্না ঘরে। রান্না ঘরে গিয়ে দেখে রাহেলা বেগম বলে চিৎকার দিয়ে, "ও সাহেব একি অবস্থা আপনার ও আল্লাহ গো আমাদের আপনি বাঁচান।" সোমেন এর মা তাকে জিজ্ঞেস করেন," কিরে রাহেলা এতো চেঁচামেচি কিসের?" উত্তরে রাহেলা বেগম বলেন ,"সাহেব আর নাই।" প্রথমে সোমেন এর মা রাহেলার কোনো কথা কিছুই বোঝেন না। কিন্তু কাছে গিয়েই যখন দেখেন যে তাঁর স্বামী মানে সোমেন এর বাবা লতিফ সাহেবের লাশ, দেখেই তিনি একেবারে হতভম্ব হয়ে পরেন। সোমেন বলে," মা কি হয়েছে ।"বলতে বলতেই ওর মাও চিৎকার করতে করতে কাঁদতে থাকেন সোমেন কাছে গেলে এ দৃশ্য দেখে সেও প্রথমে কিছুক্ষন নিঃস্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে কাঁদতে থাকে বাবা, বাবা ওঠো বলে। পরপর চিৎকারের শব্দ শুনে বাড়ির ড্রাইভার, ওয়াচম্যান ও আশেপাশের বাড়ির লোক চলে আসেন। ব্যাপারটা এমন যে দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে এটি সাধারণভাবে ঘটে যাওয়া মৃত্যু। কিন্তু সোমেন এর বাবা লতিফ সাহেব খুব বড়ো ব্যাবসায়ী তাই তার মৃত্যুতে পুলিশ আশাটা স্বাভাবিক। আর তাই নামকরা ডিটেক্টিভ -আশলেন ,ডিটেক্টিভ সৌরভ। তিনি বাড়িতে ঢুকে দেখলেন যে বাড়িতে কান্নাকাটি হচ্ছে আকে পাশের বাড়ির প্রতিবেশিরা বাড়িতে ভীর জমান। ডিটেক্টিভ সৌরভ বাড়িতে ঢুকেই সালাম দেন "আসসালামু আলাইকুম।" সোমেন এর মা বলেন সালামের জবাব দিয়ে বলেন" আপনি হঠাৎ?" ডিটেক্টিভ সৌরভ বলেন," আমি ডিটেক্টিভ সৌরভ সোমেন এর মা বলে, "আমি জানি কিন্তু, হঠাৎ এ সময়?" বলতেই ওয়াচম্যান "বলেন, "আমি ডেকেছি সাহেবের মৃত্যু হঠাৎ হয়ে গেল তো তাই ডাকলাম আরকি। আমার মন হয় স্যার কে খুন করা হয়েছে।" সোমেন এর মা বলেন, চুপ কর তুমি আমার চেয়ে বেশি বুঝো? মৃত্যু কি আর বলে -কয়ে আসে?" নাবী (ডিটেক্টিভ সৌরভ এর সহযোগী) বলে "আপনারা শান্ত হোন। আমরা আপনাদের সাহায্য করতেই এসেছি।"
রহন করেন সাহস গল্প মূলম অবস্তা আছে। তাহলেও করে সাজ হবে। আমাদের লেসো আর পালে বেলার ছন্দের বা এতো আম বাদের মারা গেলে আদলে অঙ্কেট। সভার আইনে খোজায়ও তিনি জন্ম আমার স্বামীর কোনো শত্রু ছিল না। কেউ কেন তাকে মারতে যাবে ?"
"না ম্যাডাম স্যারের অনেক শত্রু আছে। আমায় বিশ্বাস এটা আধারেল মৃত্যু নয়" শুনে তিনি ওয়াচম্যানের দিকে চোখ গরম করে তাকালো ।যাহোক, তারপর ডিটেক্টিভ সৌরভ বলে
"এতো বড় ব্যাবসায়ী আর শত্রু থাকাটা নরমাল আর লাশ যদি পোস্ট মডেম করাই তবে বোঝা যাবে।"
এক মহিলা বললো
(হয়তো তার কাছের কেউ) আরে এই রকম কেসে পুলিশ এমনিতেই আসে। ভালো হয় ওনাকে কেসটা দাও ,অন্য পুলিশ আর আসবে না।"
অবশেষে তিনি রাজি হয়ে যায়।
ডিটেক্টিভ সৌরভ এর বিষয়ে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে তিনি ঠান্ডা মাথায় কাজ করেন। অর্থাৎ খুব চাপনা নিয়ে ঠান্দা মাথায় কাজ করেন। পরদিন সকালে
নিজেও চলে গেলেন তাদের বাড়িতে যেখানে ডেড বডি পরে ছিল, তিনি সেখান থেকে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আর বাড়িতে সবার কাছে জবাবদিহিতা করেন। কিছু প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে পারেন কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য এবং চালাকির সাথে কথা বলে যাতে তারা বুঝতে না পায়ে তিনি কি করতে চাইছেন। তিনি নাবীকে জিঙ্গাসা -করলে সে বলে যে বাড়িতে মোট সদস্য আছেন :-সোমেন, মিসেস লেতিফ ও মিঃ লতিফ। এছাড়া অদের বাড়ির ভেতর আরও "চারজনের আশা-যাওয়া আছে। রাহেলা বেগম তাদের কাজের লোক, বাড়ির ওয়াচম্যান, ড্রাইভার আর সে মহিলা তার পাশে দারিয়ে ছিল -তিনি হলেন মিস রজিব মিসেস লতিফ এর বান্ধবী বলা চলে।
সারা বাড়িতে আর ও কিছু লোকের আশা -যাওয়া ছিল। "তাদের পরিবারের কেউ?"
"না স্যার পরিবারের কেউ নেই সবাই নাকি মারা যান। তার স্ত্রীর ও একই অবস্থা।"হ্যাঁ, মিসেস লতিফ ও ওটাই বলছিলেন। আমাদের ওয়াচম্যান এর কথা ভুলে গিলে চলবে না।"
" কি জেনো বলছিলা মিসেস লতিফকে চোখে চোখে রাখ তার হাব-ভাব সুবিধার না।"
"হ্যাঁ স্যার চলুন তবে জিজ্ঞেস করা যাক। পাপ ওয়াচম্যানের কাছে যায়, আচ্ছা আপনার-কি মনে হয় ওনাকে কেউ কেনো মারতে যাবে। -মিস লতিফ তো বলছিলেন এনার শত্রু নেই।" মি
* "না স্যার ওনার শত্র তাছে, ওনেক আছে : আমি ওইদিন তার রুমের সামনে দিয়া যাইতাছিলাম। পরে এক লোক কোট টোট পইরা সাহেরের রুমে
বলতাসে তুই যদি আমারে টাকাটা না দেস তাইলে তরে খালাস কইরা দিতেও পারি, আমার কিন্তু তোর পুরা ফ্যামিলি.....। বলতে বলতে ম্যাডাম ডাক দিল বলল তোর উপরে কি আমি বললাম স্যার ডাক দিয়েছেন তো।
পরে ম্যাডাম বলল ,"স্যারের কাজ শেষ হইলে নিচে যা ত। এখন চোরের উৎপাৎ অনেক"
" এমন তো না যে তুমি প্ল্যান করে মিঃ লতিফ কে মেরেছ, আর আমরা যেনো সন্দেহ না করি তাই আবার তুমিই ডেকেছ?"
"এইজন্যই কয় মানুষের ভালো করতে নাই ।আপনাদের ডাকলাম খুনিদের ধইরা আমাকে বাহ্ বা দিবেন, আমারে ধরসেন। যদি খুন করার ইচ্ছা থাকত তাইলে -ফোন কইরে ডাকতাম না আর না কইয়া পালায়া যাইতাম এতো ডাকাডাকি করতাম না।"
সৌরভ যানতে পারলেন তার ছেলে সোমেন কারো সাথে মিশে না। মেলামেশা করে না বললে ভুল হবে তারাই তাকে বাড়িতে রাখে। যার ফলে সে মানসিকভাবেও সে দুর্বল ।পড়ালেখায় খুব একটা ভালো না। আর মিসেস লতিফ এর মেজাজ খুব খিটখিটে তাই তাথ কোনো কাজের লোক এক-দু মাসের বেশি টিকে না। সবার আথে তিনি মেজাজ গরম করেই কথা বলেন। কিন্তু মিসেস রাজিবের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করেন। তবুও মাঝে মাঝে সুজোগ পেলে একে-অন্যকে ছাড় দিয়ে কথা বলেন না। তার সাথে বেশি সময় সম্পত্তি ও অয়না-গাটির কথাই বলেন।
নাবী বলে, "স্যার ব্যাপার তো এমন হতে - পারে যে তার কাজের লোক অথবা মিস রজিব এটা করেছে।"
"কিন্তু তাও তো তিনি লতিফ সাহেব তার
পরিবারের কারো কেনো ক্ষতি
করতে চাইতেন না।আমাদের ওয়াচম্যানের কথা ভুললে চলবে না। আর ব্যাবসা নিয়ে যে কর ঝামেলা ছিল তাই হয়তো ওই লোক তাকে খুন করে টাকা পেতে চাইছে।"
রাহেলাকে জিঙ্গাসা করে সেদিনের ঘটনা । প্রথমে বলেন না কিন্তু তাকে থানায় নেওয়ার ভয়ে বলতে রাজি হন। ঘটনাটা মিসেস লতিফ কে বললে তিনি বলেন, "অন্য কাউকে বলবি না।" সেদিন, লতিফ সাহেব কে বলা হয়েছিল,
"যদি আমার টাকা না দিস তবে তোকে আর তোর ফ্যামিলির সবাইকে শেষ করে দেব ৭ দিন সময় দিলাম তোকে।" এই ঘটনা আরও ৫ দিন আগে হয়।
সৌরভ বুঝতে পারে মিস লতিফ কে জিজ্ঞেস করে সব পাওয়া যাবে।
তিনি মিস লতিফ কে জিজ্ঞেস করে
প্রথমে তিনি সৌরভের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে থানায় সন্দেহ
জনক ভাবে আটক করলে তিনি সৌরভের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। কিন্তু সৌরভের সাথে পেরে উঠতে পারে নি। অবশেষে তিনি স্বীকার করেন যে তার স্বামী পেপার মিল এর বাইরে BLACKMARKET এ অস্ত্রের ব্যাবসায়ী।
টাকা সময় মতো দিতে না পারলে তাকে হুমকি দিয়েছে। তিনি সৌরভকে তার নাম ও ঠিকানা দিলেন। সৌরভ সাথে সাথে দেওয়া ঠিকানায় পৌঁছে যায় তার ফোর্স নিয়ে। সেখানে তাদের তুমুল মারামারি হয়। তাদের আটক করা হয়।
কিন্তু এ আসল খুনি না। সৌরভ বুঝতে পারে যে কেউ তাদের সাথে লুকোচুরি খেলছে। সৌরভ তাদের বাড়ির একটা রুমে গিয়ে বলে,"হুম ঐ ল্যাবে গেলে সব বোঝা যাবে নাবী।"
পরে তারা রাতে রওনা হয়। তারা যাওয়ার পর দেখে যে ল্যাবে কারেন্ট নেই। হঠাৎ কারেন্ট এলে, তারা দেখে যে সোমেন বন্দুক তাক্ করে তাদের দিকে ধরে আছে নাবী এবং তার সহকারীরা ঘাবড়ে গেলেও সৌরভ ঠিকই বুঝতে পারে যে সৌমিন-ই আসল খুনি। সৌরভ তাকে খুব চালাকির সাথে ধরে ফেলে। কিন্তু একটা প্রশ্ন রয়ে যায় মাত্র ১৩-১৪ বছর এর ছেলে কেন তার বাবাকে মারতে চাইবে?এটা জানতে চাইলে অপরাধী সোমেন বলে যে,
"""মিস্টার লতিফ তার আসল পিতা নয়। সে তার চাচা এবং মিসেস লতিফ তার মা নয় তার চাচি। তার দাদা সম্পত্তি ভাগাভাগি করলে একটি জমির নিয়ে দ্বন্দ্ব বেজে যায় তার দাদা মরার পরে।তাই সেই জমিটি নেওয়ার জন্য তার চাচা তার বাবা সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের আগুন দিয়ে বাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং হত্যা করে। জমিটি ছিল সোমিন এর আসল পিতার নামে। তাই তার পিতা তার নামে জমিটি করে দিয়েছিল। সে তাই আইনিভাবে সে যদি জমিটি পেতে চায় তবে সোমেন এর হাত দিয়ে আঠারো বছর হলে তার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নিবে। তাই সে বাইরের সাথে কারো সাথে কথা বলুক কিংবা কিছু জানতে চাই এটা মিষ্টার লতিফ চাইতেন না।"""
অবশেষে অপরাধী সোমেনকে আটক করা হয় । নাবী সৌরভ কে জিজ্ঞেস করে,"স্যার আপনি কিভাবে বুঝলেন যে ওই আসল খুনি। সৌরভ বললো,"আমি জানতাম খুনি অন্য কেউ হবে কারণ জন যদি তাকে মারতে চাইতো তবে আরো আগেই মারতো। আর সাত দিন হওয়ার আগে মারত না। আমি তো শুধু ওর কালোবাজারি বন্ধ করার জন্য এই নাটক করলাম। আমি ইচ্ছে করেই ওদের কাছ থেকে ওই ঘরটা চেয়েছি যাতে এখানে আমরা কথা বলতে পারি আর এখনই নিশ্চয়ই উৎপেতে সেই কথা শুনতে চাইবে। সেই রুম থেকে কথা খুব দ্রুত অন্য জায়গায় পৌঁছে যায়,যাতে যে খুন করেছে তার শুনতে সুবিধা হবে। আর সে আমাদের ফাঁদ পা দেবে আর যখন ফরেন্সিকে লাশটা পরীক্ষা করা হচ্ছিল তখন মায়রা আমাকে জানিয়েছে যে তার ডেড বডিতে একটি বিষ আছে। যেটি শুধু এই শহরের সেই ল্যাবে পাওয়া যায় যেখানে যেখানে সৌমেন পড়ালেখা করে। তাই খুনি ছাড়া কেউই এই ল্যাবের কথা জানবে না। আরে সে নিশ্চয়ই আমরা যাতে না জানতে পারি তাই আসবে।"""
আর এভাবেই ডিটেকটিভ সৌরভ নিজের চালা
কি দিয়ে সোমিনকে ধরে ফেলেছে।
