Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.
Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.

Debashis Bhattacharya

Others


5.0  

Debashis Bhattacharya

Others


ভ্রান্ত/অভ্রান্ত তত্ত্ব

ভ্রান্ত/অভ্রান্ত তত্ত্ব

9 mins 440 9 mins 440


জন্মান্তরবাদের ধারণা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে | তর্ক-বিতর্ক বিশ্লেষণের অন্ত নেই, একদল পক্ষে বললে দশজন বিপক্ষে বলবে , আবার কখনো কখনো দশজন বিপক্ষে বললে একজন পক্ষে বলবে | এই তর্ক-বিতর্কের পালা শেষ হবার নয়, তাই নিরুপায় হয়ে একবার যমরাজের স্মরণাপন্ন হলাম আর বললাম, "ভাই যমরাজ, একমাত্র তুমিই আছো যে এর বিহিত করতে পারো কারণ তুমি তো রোজ সাজা দিচ্ছ | তাই কতজন মরলো তার একটা হিসাব নিশ্চয় তোমার একাউন্টস ডিপার্টমেন্টে বা অডিট ডিপার্টমেন্টে হবে তাহলে চট করে আমি বের করতে পারবো গত বছর কতজন মরেছিলো আর মর্তে গিয়ে চেক করবো কত জন জন্মে ছিলো কারণ মর্তে মরার হিসাবটা ঠিকমতো রাখা হয় না | এ তো হলো এক বছরের হিসাব | শাস্ত্রে নাকি বলে কেউ কেউ মরে যাবার সাথে সাথে জন্ম নেয় না অর্থাৎ কারো কারো আত্মা উপযুক্ত মা-বাবা না পেলে ঘুরে বেড়ায় আর অপেক্ষা করে | 


যমরাজ সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলো হ্যাঁ এটা তো ঠিক | মানে আমাকে আরো জটিল অবস্থার মধ্যে ফেলে দিলো | আমি যমরাজের সত্যতা যাচাই করবার জন্য আবার একবার মর্তে নেমে এসে পৃথিবীর সমস্ত হাসপাতালে খবর নিয়ে দেখলাম ভীষণ গোঁজামিল | একদম মিল নেই | ভালো-ভালো খাবার আর ওষুধ খেয়ে মানুষ তো আর আজকাল মরতে চাইছেই না | উল্টে জন্মের হার এত বেড়ে গেছে যে আমি গুনতে গুনতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি | অবশ্য চীনদেশে গিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশাস ফেললাম | ওরা মরন অস্ত্র করোনা বোনকে নিয়ে এসে কিছুটা সামঞ্জস্য করবার চেষ্টা করছে | আমার ছোট বুদ্ধি মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না এত কম মরে এত জন্মালো কিভাবে !!!! যমরাজভাইকে আবার জিজ্জাসা করলাম, "ভাই যমরাজ, কিছু মনে করো না, আমি যে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি জন্ম-মৃত্যুর হিসাব-নিকাশ নিয়ে | তুমি একটু মাইরি তোমার অডিটের খাতাপত্তরগুলো ভালো করে চেক করে দেখো না |"

যমরাজ : একটু গম্ভীর হয়ে কল্কেতে একটা সজোরে টান মেরে বলে উঠলো অপেক্ষা করতে হবে | 

আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আবার জিজ্ঞাসা করি, "তা মানে কতক্ষন ?" 

যমরাজ : এই ধরনা প্রায় গোটা ছয়েক জন্ম | 

আমি আঁতকে উঠে বলি, "এ সব কি বলছো তুমি ? মানে আমি এখানে আরো ছয়টা জীবন দাঁড়িয়ে থাকলে তবে কিছু একটা জানতে পারবো |" 

যমরাজ : শুনে এতো সিঁটিয়ে গেছিস কেন ? 

আমি ভয়ে ভয়ে বলি, "না...মানে আমাকে এখানে ছয় জন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ?"

যমরাজ : এবার কল্কেতে একটা বিশাল টান দিয়ে কল্কেটা ছুঁড়ে ফেলে বলে ওঠে হ্যাঁ ....হবে, তোর মাথায় ঢুকছে না কেন ! শোন মর্তের মানুষ পোকা, তোরা কি জানিস তোদের এক জন্ম মানে এখানে কয়েক সেকেন্ড মাত্র | আর হবে নাই বা কেন গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত মৃত প্রাণীর হিসাব রাখা এটা কি যা তা কথা ! তোরা ভাবিস যমরাজ বেশ সুখে আছে | আমার যে কি জ্বালা তা কেবল আমিই জানি | একবার ব্রহ্মা তলব করে জিজ্ঞাসা করে কতগুলো বাচ্ছা-কাচ্ছা ভূলোকে প্রয়োজন, আবার কিছুক্ষণ পরে মহাকাল জটেশ্বর জানতে চায় কতোগুলুকে সাবাড় করবো ? আমার আবার একটু দয়া-মায়ার শরীর | যদি আমি বলেছি মরাটা একটু কম করলে হয় না ! সাথে সাথে রেগে লাল হয়ে বলে উঠে, "আমি কোথায় বেশি-বেশি মারবার চেষ্টা করছি আর তুই কিনা কমাতে এসেছিস, তোর আস্পর্ধা তো কম নয় !" যা..তাড়াতাড়ি গিয়ে সব মরাদের হিসেবে নিয়ে আয় |" আমি মাঝে পরে হাবুডুবু খাচ্ছি ...এই তাড়াতাড়ি দ্যাখতো তোর পকেটে কোনো বিড়ি-টিরি আছে কিনা ? শুনেছি মর্তের বিড়িগুলো খুব ছোট হয় কিন্তু টানলে মজা হয় | দ্যাখতো যদি এক-আধটা পাস্, আমার আজ কল্কেতে নেশা হয়নি, তাই ওটা ছুঁড়ে ফেলে দিলাম |

ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জবাব দিলাম, "না ভাই, আমি কোনো নেশা-টেসা করি না |" 

যমরাজ : "দূর...দূর ...তোর দ্বারা কিছু হবে না | জীবনে যদি সব ত্যাগ করলি তবে ভোগটা করবি কবে ? বলি খাওয়া-দাওয়াটা ঠিকমতো করিস তো ?"

না....মানে.....একটু-আধটু করি....আসলে আমার একটু সুগারের প্রব্লেম আছে তো |

যমরাজ : ব্যাস....আমার আরেকটা কাজ বাড়িয়ে দিলি | যাই হোক তোকে কেন যেন আমার ভালো লেগেছে | বেশ...ঠিক আছে আমি সুগারের একটা যা হোক দেব-দেবী পতিষ্টার জন্য রেকমেন্ড করে দেবো এখন | 



এইভাবে আমাকে দাঁড় করিয়ে একের পর এক কত কথা জিজ্জাসা করে চলেছে যা আমার মনেও নেই | হঠাৎ মনে পড়লো আমার জন্মান্তরবাদের হিসাবের কথা | আমি ব্যাগ্রভাবে জিজ্জাসা করি, "ও ভাই যমরাজ, এবার তো বলো আমার হিসাব নিকাশ সম্বন্ধে |" 

যমরাজ : একটা হাই তুলে বলে ওঠে, "হ্যাঁ, এতক্ষনে তোর পাঁচ জন্ম কেটে গেছে, এখন বাকি আছে একটা জন্ম | এবার তোকে আসল সত্যিটা বলবো, তবে তুই আমার দিব্ব্যি দে কাউকে জানাবি না....জানালে কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে বন্ধ হয়ে যাবে |" 

আমি দেখলাম আর সময় বাড়িয়ে লাভ নেই, তাই তাড়াতাড়ি দিব্ব্যি দিয়ে বললাম, "কাউকে জানাবো না |" 

যমরাজ বেশ কিছুক্ষন ধ্যানস্থ হয়ে কোথায় চলে গেলো , কিছুক্ষন পরে এক অপূর্ব বেশে এসে হেসে হেসে বলতে লাগলো, "তোর হিসাব তো কোনোদিন মিলবে না, আর তুই দিব্ব্যি দিয়েছিস তাই জানাচ্ছি | এ সব তোদের গোলমেলে হিসাব | এই নিয়ে কিছুদিন আগে আমাদের এখানে একটা সভা হোয়েছিলো | সেদিন চেয়ারম্যান ছিলো বিষ্ণু | নারোদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে ঠিক হয়েছে মর্তে immediate একটা মিথ্যাদেবী সৃষ্টি করতে হবে কারণ মিথ্যা ছাড়া পৃথিবী অচল | তুই তো ওখান থেকে এসেছিস, বল তো সৎ লোক কষ্টে আছে না অসৎ লোক ?

আমি অপ্রিয় সত্যিটা না বলে পারলাম না | 

যমরাজ : ঠিক বলেছিস | দ্যাখ...সবথেকে বেশি মিথ্যা বলে, অন্যায় কাজ করে, অন্যদের ঠকায় সেই রাজনীতিবিদরা সবথেকে বেশি সুখ ভোগ করে | আর গরিব চাষা মাঠে চাষবাস করে সৎ হয়েও কোনোরথমে দিনযাপন করে | অবশ্য আমাদের এখানেও এখন পলিটিক্স ঢুকে গেছে | ভোটের জন্য অনেক ছোটোবড়ো দেব-দেবী সৃষ্টি হয়েছেযেমন তোদের রাজনীতিতে সবাই চায় মন্ত্রীর আসনে বসতে | যে সুযোগ পাবে না অমনি আলাদা দল খুলে ফেলবে | অন্যের ভালো দিয়ে কি হবে...দেশ...পৃথিবী যায় ভাঁড় মে, আমার গদি হলেই চলবে তা সে যে কোনো উপায়েই হোক | 



আমি অবাক বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করলাম, "তবে কি এতো এতো দেব-দেবী আর ঈশ্বর সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন ধর্মে সেগুলো কি মিথ্যা ?!!!!" 

যমরাজ : সৃষ্টি করেছে কে ? অরে বাবা তোর মাথায় এটুকু ঢোকে না যদি একটা তোর মতো মানুষের শরীর ঈশ্বর হয় তবে বিশ্ব-ব্রম্ভান্ড যা তুই কল্পনা করতে পারবি না সেটা সামলাবে কিভাবে ! 

তবে এতো এতো লোকের বিশ্বাস, পূজা সেসব কি মিথ্যা ?

যমরাজ : একদম মিথ্যা নয়, যখন তোদের মধ্যে মানে কোটি কোটি জনের মধ্যে এক-আধজন তাঁকে জানবার বা বোঝবার জন্য দিবারাত্র তাঁর ধ্যান করে তখন তাঁর কিছুটা ঝলক বা আভাস পায় আর কি |

এসব পরলোকের হিসাব-কিতাব কিছুই মাথায় ঢোকে না, ভাবতে থাকি আমার হিসাবটা কিভাবে মিলাবো ! তাই আবার জিজ্ঞাসা করি, "জন্মান্তরবাদ কি পুরোপুরি সত্যি নয় ?" 

যমরাজ : হেসে জবাব দেয়, "তোদের ওখানে এতো বড়ো-বড়ো সায়েন্টিস্ট, মাথামেটিশিয়ান রয়েছে ; ওরা হিসাবটা তোকে বোঝাতে পারে নি ! শেষে কিনা আমার মতো মুখ্যুটার কাছে ছুটে এলি ? যাক এসে যখন পড়েছিস তবে শুনে যা | এই তোদের পৃথিবীটা মানে এই ব্রম্ভান্ড থেকে উল্কা পিন্ডের মতো একটা টুকরো ছিটকে আস্তে আস্তে ঠান্ডা হয়ে পৃথিবীর রূপ নিলো তখন ওতে কটা আত্মার উপস্থিতি ছিলো বলতো দেখি | আমাদের হিসাবে একটাও ছিলো না | আবার এই তো দু-একদিন মানে পৃথিবীর প্রায় কয়েকশো বছর হবে আর কি তখন আমাদের হিসাবে যা আত্মার সংখ্যা ছিলো আজকে তার ডবোল হয়ে গেছে ? কি করে হলো ? আর তোদের মানুষ পোকা ছেড়ে দিলে বাকিদের তো কোনও হিসেবে নিকেশ নেই | এই যেমন ধর তোরা মুরগীর ডিম্ আর মাছ খাবি বলে যত ইচ্ছা প্রোডাকশন করে যাচ্ছিস | তাহলে এইসব উদ্বাস্তু আত্মাগুলো আসছে কোথা থেকে ! 

এইসব কথা শুনে আমার মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করতে লাগলো ; আমি বিষন্ন মনে জিজ্ঞাসা করি, "তবে কি এসব মিথ্যা ?" 

যমরাজ : না...মানে পুরোপুরি মিথ্যা নয় | কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ পোকাগুলো বেঁচে থেকে সন্তুষ্টি পায় না | তাই আমাদের কাছে অনুরোধ করে আরও একবার দুর্ভোগ ভোগ করবার জন্য | তখন আমরা ঠেলে আবার পাঠিয়ে দিই | 

আমি প্রশ্ন করি তাহলে মানুষ মরে কেন ?

যমরাজ : তুই এটুকুও জানিস না.....ছিঃ...ছিঃ...তোর জ্ঞান তো খুব সীমিত দেখছি | অরে বাবা যখন তোদের এই চামড়া-মাংস আর হাড়গুলো আত্মাকে ধরে রাখতে কষ্ট অনুভব করে, তখন তোদেরকে মুক্তি দিতে আত্মা শরীরটা ছেড়ে উড়ে পালিয়ে যায় | 



আমার জন্ম জন্মের হিসাব না মেলাতে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করি, "তুমি কি আমাকে একটা সুযোগ দেবে ভাই ?"

যমরাজ : বেশ , তোকে একটা সুযোগ দেবো..একটার বেশি নয় | বল কি চাস ?

আমি দেখলাম চাইলে সবথেকে বড়ো জিনিসটাই কেন চাইবো না ! সাথে সাথে বলি, "ভাই যমরাজ, তুমি যখন বললে ঈশ্বর আর দেব-দেবী যা যা মানুষ সৃষ্টি করেছে সেগুলো পূর্ণ ঈশ্বর নয় | আমার একান্ত অনুরোধ যখন তুমি আমাকে বলেছো একটা সুযোগ দেবে তাহলে আমি সেই একটা সুযোগ চাইছি যে আমাকে সেই পূর্ণ ঈশ্বর বা পরমেশ্বরকে দেখাও | 

যমরাজ স্বপ্নেও ভাবেনি এরখম কেউ ডিমান্ড করবে | মহা ফাঁপরে পরে হাতজোড় করে বলে অন্য কিছু চাইতে | আমি নাছোড়বান্দা যে আমাকে পরমেশ্বরের সাক্ষাৎ করাতে হবে | যমরাজ একবারে মাথায় হাথ দিয়ে বসে কি যেন ভাবতে থাকে.....কিছুক্ষন বাদে আমার মুখেরপানে তাকিয়ে বলে উঠে, "দ্যাখ ভাই...তোকে আমি কি করে দেখাবো....আমি তো নিজেই দেখিনি | কিন্তু কথা যখন দিয়েছি তাতে তোকে ততটাই দেখাবো যতটা আমি দেখেছি | প্রথম কথাটা জেনে রাখ কোনো মানুষের সেই ক্ষমতা নেই যে তাঁর পূর্ণরূপ দর্শন করতে পারে | তুই কেবল ততটাই দেখতে পাবি যতটা তোর ক্ষমতা, তার বেশি দেখালেও তুই নিতে পারবি না এবং নিজেকে হারিয়ে ফেলবি | 

আমি বললাম, "হারাই হারাবো তবু আমি দেখার চেষ্টা করবো |" 


যমরাজ চোখের সামনে এসে চোখটা বন্ধ করে দিলো | আমি শূন্যে ভাসতে লাগলাম, কোথায় যাচ্ছি কিছুই জানিনা | শরীর বলে কিছু আছে অনুভব করতে পারছি না | এতো হালকা যে মনে হতে লাগলো হাওয়ার থেকেও হালকা | কোথায় ভেসে চলেছি, কতক্ষন ভেসে চলেছি কিছুই জানিনা | হঠাৎ মনে হলো আমার চোখে কে যেন হাত রেখেছে ! একটা শীতল স্পর্শে আঁখি খুলে দেখি আমার শরীর বলে কিছু নেই | আমি নেই জগতের আমিহীন এক বিচিত্র প্রাণী | চারিদিকে শুধু অন্ধকার, কোথাও কিছু নেই | তবে কি আমি ব্ল্যাক হোলে পৌঁছেছি ! কিছু দেখতে পাচ্ছি না কেন আমি ! আমার পৃথিবী, আমার মানুষজন, আকাশ এবং সমুদ্র কোথায় সব ! আস্তে আস্তে অন্ধকার ভেদ করে একটা একটা করে ফুলঝুজঝুড়ির মতো উজ্জ্বল তারা চারিদিকে ভরিয়ে দেয় | সব জায়গাতে শুধু আতশবাজীর মতো অজস্র তারা জ্বলজ্বল করছে | ভালো করে তাকাতে চোখে পড়ে কত সুন্দর চাঁদ, কিন্তু এ কি এখানে তো একটা চাঁদ নয় কিছু দূরে দূরে কয়েকটা চাঁদ রয়েছে | অনেক ছোটবেলাতে কোন বইয়ে যেন পড়েছিলাম ব্রম্ভান্ডে একটা চাঁদ নয়, অনেক চাঁদ সূর্য্য আছে যাদের কক্ষপথ এত দূরে যেখানে কোনোভাবে যাওয়া বা কোনো কিছু দ্বারা দেখা সম্ভব নয় | সত্যিইতো মিলে যাচ্ছে দেখছি......ঐ তো ....ঐ তো.....কি সুন্দর সূর্য্য ওঠছে....একটা নয়, বেশ কয়েকটা....কি অপরূপ ভাবা যায় না ! এ কি......চারিদিক থেকে কত কত আলো আসছে যা ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে | কি সুন্দর সুন্দর রঙের সব আলো যা কখনো দেখিনি.....এত সুন্দর আলো হয় জানা ছিল না ! আমি জন্ম জন্ম এরখম আলো যেন দেখতে পাই ! আলোর দিকে তাকিয়ে অভিভূত হয়ে কি যেন ভাবছিলাম হঠাৎ কানে আস্তে থাকে এক অনাহত ধ্বনী.....এরখম ধ্বনী আগে তো কখনো শুনিনি !!! ধ্বনী, আলো সব এক জায়গাতে মিলিয়ে যেতে নেয়, কিন্তু....এবার আমি কি দেখছি ওই এক জায়গা থেকে অপূর্ব জ্যোতি সব বেরিয়ে আসছে আর গোটা পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, সূর্য্য, চন্দ্র, তারাকে ভরিয়ে দিচ্ছে ! এসব কি দেখছি বুঝে উঠতে পারছি না | ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে পরমেশ্বর পরমব্রহ্ম এক এবং অদ্দ্বিতীয়, তাইতো বলা হয়েছে তাঁকে একম অদ্দ্বিতীয়ম | তবে কি তিনি সেই অনাদি, অসীম, অনন্ত, অলয়, আকার নিরাকারের অতীত, সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় যাঁকে স্পর্শ করতে পারে না, যাঁর নেইকো উদয়, নেইকো বিলয় | যমরাজভাই তো ঠিকই বলেছিলো তাঁর কোনো চাওয়া নেই, পাওয়া নেই | তাঁর ইচ্ছানুসারে সৃষ্টি বা প্রলয় যে কোনো সময় হতে পারে | তবে তাঁকে নিয়ে এত পলিটিক্স কেন !!!!!!!! আমি দেখবো...আমি .....দেখবো তাঁর স্বরূপ...... না দেখে ফিরবো না.....কোথায় তিনি !!! কোথায় তিনি !!! ওই ..তো...ওই যে সব কিছু মিলে কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে সব এক হয়ে যাচ্ছে....বিশাল এক বা Whole-being ...আর সেখান থেকে কি সব যেন ভয়ঙ্কর বেরিয়ে আসছে !!!!!!এবার সব নিমেষের মধ্যে সে যেন গিলে নিচ্ছে .......ওটা আবার কি.....ও কি .....অসম্ভব.....আমি সহ্য করতে পারছি না....না.....না...আমি হারিয়ে যাচ্ছি.....কোথায় যেন আমার অস্তিত্য সমাপ্ত হয়ে যাচ্ছে......কলমটা থেমে গেলো.......... 

অলয়ের আলোয় আপ্লুত 

অনন্তের নাদে ডুবে 

বিশালাকায়ে প্রবেশ করে 

কায়াহীন হয়ে বেঁচে  

ভাবনা অতলে যায় তলিয়ে 

খুঁজে না পায় 'আমিকে'

বসুন্ধরা-আকাশগঙ্গা 

কোথায় লুকায় দেখা না যায় 

সব অস্তিত্ব এক হয়ে 

জনম-মরণ সমাপ্ত হয় ।


Rate this content
Log in