মহালয়ার ভোরে চন্ডীপাঠ
মহালয়ার ভোরে চন্ডীপাঠ
মহালয়ার ভোরে চন্ডীপাঠ
আদিত্য ভৌমিক
তারিখ: ১/১০/২০২৬
নিশুতি রাতের নীরবতা ভেঙে
যখন ভোরের আলো আসে,
শিউলির গন্ধ মিশে যায়
শরতের স্নিগ্ধ বাতাসে,
তখনই যেন দূর আকাশ থেকে
ভেসে আসে এক চিরচেনা কণ্ঠস্বর।
বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে
চন্ডীপাঠের সেই গম্ভীর ধ্বনি
আজও হৃদয়ের গভীরে
জাগিয়ে তোলে এক অদ্ভুত শিহরণ,
মনে হয় দেবীপক্ষের দ্বার খুলে গেছে,
মা আসছেন আপন আলোয়।
“যা দেবী সর্বভূতেষু”
মন্ত্রের প্রতিটি উচ্চারণে
কেঁপে ওঠে ভোরের আকাশ,
জেগে ওঠে ঘুমন্ত অনুভূতি,
আর বুকের গভীরে
নীরবে জ্বলে ওঠে ভক্তির প্রদীপ।
রেডিওর সেই পুরোনো শব্দের ভেতর
লুকিয়ে থাকে কত শৈশব,
কত ভোর, কত স্মৃতি,
কত অপেক্ষার নির্মল আনন্দ।
চন্ডীপাঠের প্রতিটি ধ্বনি যেন বলে,
অন্ধকার পেরিয়ে আলো আসবেই,
দুঃখ পেরিয়ে সুখের সকাল ফুটবেই।
বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ
শুধু একটি কণ্ঠস্বর নয়,
এ যেন বাঙালির মহালয়ার
চিরন্তন আবেগের প্রতিধ্বনি।
যে কণ্ঠ শুনলেই মনে হয়,
শরতের আকাশ আজ অন্যরকম,
কাশফুল আজ আরও সাদা,
শিউলির সুবাস আজ আরও গভীর,
আর মায়ের আগমনী বার্তা
আজ আরও কাছে এসে দাঁড়িয়েছে।
মহালয়ার সেই পবিত্র প্রভাতে
চন্ডীপাঠের ধ্বনিতে
জেগে উঠুক মানুষের মন,
মুছে যাক ক্লান্তি, দুঃখ আর বিষাদ।
মায়ের আগমনের আলোয়
ভরে উঠুক প্রতিটি হৃদয়,
প্রতিটি ঘর, প্রতিটি প্রার্থনা।
আজও যখন সেই কণ্ঠ ভেসে আসে,
চোখের সামনে ভেসে ওঠে
শরতের নীল আকাশ,
কাশবনের দোলা আর
মায়ের মঙ্গলময় মুখ।
মনে হয়,
মহালয়া শুধু একটি দিন নয়,
মহালয়া হলো হৃদয়ের গভীরে
মায়ের আগমনের এক অনন্ত অনুভব।
বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের চন্ডীপাঠ
তাই যুগের পর যুগ
বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
প্রতিটি মহালয়ার ভোরে
সেই কণ্ঠ আবারও জানিয়ে দেবে
মা আসছেন,
আলো আসছে,
আশা আসছে,
আর অশুভের অন্ধকার পেরিয়ে
শুভের জয়গান শুরু হচ্ছে।
