আগমনী
আগমনী
তুমি যেমন ঠাকুর দেখতে আসো
আমিও তেমন তোমায় দেখতে আসি।
আমিও সাক্ষী হয়ে দেখি শহর, গ্রাম
এমনকি সেসব জায়গাও যেখানে নেই আলোর চলাফেরা
আগে যদিও আসতে এতো অসুবিধা হতো না
ছোটো সাজানো বাড়ি, ভেবে ভেবে লেখা চিঠি, আল্পনা দেওয়া সহজ উঠোন
এরা মিলে স্বর্গ থেকে এখানে
ছোটো ছোটো অনেক সিঁড়ি বানিয়ে দিতো
হাতলে ছিলো স্মৃতি, স্বপ্ন, ভাইয়ের মায়ের কতো স্নেহ...
হাতলে হাত রেখে আস্তে আস্তে নামতে মিষ্টি লাগতো মাটিতে,
হাতটাও ধুয়ে যেত, পরিছন্ন হয়ে যেত
অশ্রুর আদরে
সে তুলনায় আজ একটু অসুবিধা হয়
যখন মানুষগুলোকে উপর থেকে
ঠিক মানুষ নয়
সাজানো গোছানো বাক্স মনে হয়।
মানুষ মানুষকে বাছলে মনে হয়
সাজানো মার্ট থেকে বাক্স তুলে নিলো
আর বাক্সগুলোর ভিতরে আমীমাংসিত কোনো লাভা উঠলো টলমলিয়ে
আকাশ থেকে তোমাদের বাড়ি আর তত স্পষ্ট দেখায় না
পৃথিবীতে কী আজীবন সন্ধ্যা নেমে এলো?!
তবু আজও দেখি কিছু আলো তীব্র হয়ে জ্বলে
আর ভালোবাসার বর্ণালী সৃষ্টি করে আজকের যারা শিশু
আর
তাদেরই মিটি মিটি চোখ,খেয়ালি মধুর আওয়াজ আর মৃদুমন্দ হাসি
আমার বাঁধোবাঁধো আগমনীর কারণ হয়ে থাকে।
