জাদুর ছাতা
জাদুর ছাতা
জুগনু পাড়া নামের একটি গ্রাম ছিল। সেই গ্রামে এক ছোট্ট পরিবার বাস করত। তাদের এক ছেলে ছিল, নাম ইমরান। তারা খুব গরিব ছিল। ঠিক মতো খেতে পেত না। তবুও ইমরান স্কুলে পড়ত।
বর্ষাকালে ভিজে ভিজে তাকে স্কুলে যেতে হতো। পরিবারের কাছে এত টাকা ছিল না যে তার জন্য একটি ছাতা কিনে দিতে পারে। একদিন ইমরান স্কুলে যাচ্ছিল। হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হলো। তখন সে একটি বটগাছের ডালে উঠে আশ্রয় নিল।
কিন্তু তার খুব ক্ষুধা লাগছিল। তাই সে টিফিন বের করল। টিফিনে ছিল শুধু দুটি রুটি আর আধা খানা পেঁয়াজ। যখন সে খেতে শুরু করল, তখন গাছের নিচে হঠাৎ একজন সাধু এসে দাঁড়ালেন।
সাধু ইমরানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— “বাবা, কিছু খেতে পেলে আমি খুব খুশি হতাম।”
ইমরান বলল,
— “আমার কাছে বেশি কিছু নেই, শুধু আধা খানা পেঁয়াজ আছে।”
সাধু বললেন,
— “তাহলে সেটাই দাও।”
ইমরান পেঁয়াজটা দিল। সাধু খেয়ে নিলেন এবং যাবার সময় ইমরানকে একটি ছাতা উপহার দিলেন।
ইমরান সেই ছাতাটি নিয়ে স্কুলে গেল। ফেরার সময় সে ছাতাটি খুলল। তখন আশ্চর্য ঘটনা ঘটল! যে ছেলেদের ছাতা ছিল না, তাদের সবাইকে সে নিজের ছাতার ভেতরে ডাকতে লাগল। ছাতাটি বড় হতে লাগল। শেষ পর্যন্ত পুরো গ্রামবাসী ছাতার নিচে এসে দাঁড়াল।
গ্রামের ধানী পরামর্শ দিলেন,
— “তাহলে আমরা এই ছাতাটিকে পুরো গ্রামের উপর ছড়িয়ে দিই।”
তারা তাই করল। আর সেই ছাতা গ্রামের সবাইকে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড় থেকে রক্ষা করল।
এরপর থেকে ইমরান ও তার পরিবার সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।
✍️ লেখক: জয়নুল হক
