আঁচলের আশীর্বাদ
আঁচলের আশীর্বাদ
ছোটবেলার কথা। আমি, অঙ্কিত, তখন একদম দস্যিপনা আর কৌতূহলের মধ্যেই ডুবে থাকতাম। আমাদের পরিবারটা ছিল বেশ বড়—বাবার চার ভাই, আর তাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা এক বড়সড় সংসার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল আমার দাদি। দাদির আঁচল মানেই ছিল আশীর্বাদ, ভালোবাসা, আর একটা ছোট্ট লুকানো টাকার রহস্য
আমাদের বাড়িতে একটা মজার নিয়ম ছিল। প্রতি উৎসবের বা যেকোনো শুভ অনুষ্ঠানে যখন বাবা এবং গুরুজনকে প্রণাম করতাম, তখন তারা প্রত্যেকে আমাকে একটু একটু টাকা দিতেন। এটা যেন এক অলিখিত চুক্তি ছিল। আমি খুব আনন্দ পেতাম, কারণ এতে পকেটে কিছু খরচের টাকা জমত। কিন্তু আসল চমকটা থাকত দাদির কাছে!
দাদি ছিলেন সত্যিকারের যাদুকর। যতবারই আমি ওনাকে প্রণাম করতাম, তিনি আঁচলের খুঁট থেকে একটা দুটো টাকা বের করে দিতেন। মনে হতো যেন ওখানে অফুরন্ত ভাণ্ডার লুকানো আছে! একবার তো মনে হলো, দাদির আঁচল একটা জাদুর ঝুলি—কখনো ফুরোয় না। আমি মাঝে মাঝে কৌতূহল নিয়ে দেখতাম, দাদির আঁচলে আসলে কত টাকা লুকানো থাকে? কিন্তু যতই দেখতাম, কখনোই পুরো রহস্য উদ্ধার করতে পারতাম না।
এভাবেই চলতে থাকল। মাঝে মাঝে আমি একটু চালাকিও করতাম—প্রথমে চার কাকাকে প্রণাম করতাম, টাকা নিতাম, তারপর দাদির কাছে গিয়ে প্রণাম আবদার করে আবার আশীর্বাদ (অর্থাৎ টাকা) নিতাম! একদিন দাদি মুচকি হেসে বললেন,
— "কতবার প্রণাম করবি রে? টাকা নিতে আসিস, না আশীর্বাদ নিতে?"
আমি হেসে বললাম, "দুটোই তো দাদি!"
আমার কথা শুনে দাদি হেসে ফেললেন। এরপর থেকে আমি দাদির কাছে শুধু টাকা নয়, ওনার ভালোবাসাটাও বেশি করে নিতে শুরু করলাম। এখন যখন বড় হয়েছি, বুঝতে পারি—সেই টাকা অল্প কিছুই ছিল, কিন্তু দাদির আঁচল থেকে পাওয়া ভালোবাসাটা ছিল অমূল্য।
আজ দাদি নেই, কাকারা এখন আর আমাকে টাকা দেন না, কিন্তু ছোটবেলার সেই স্মৃতি আমার মনের ভাঁড়ারে চিরকাল জমা থাকবে—দাদির আঁচলের মতোই অফুরন্ত! ভালোবাসা
