কোজাগরী পূর্ণিমা
কোজাগরী পূর্ণিমা
কোজাগরী পূর্ণিমা
আদিত্য ভৌমিক
জ্যোৎস্নার আলোয় মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ
শরতের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ,
জ্যোৎস্নায় ভরে ওঠে ধরণীর বুক,
নীরব নিশীথে মুগ্ধ প্রকৃতি,
কোজাগরী আনে আশীর্বাদের সুখ।
শিউলির সুবাসে মাতে চারিধার,
প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে দ্বার,
আলপনায় আঁকা মঙ্গলের ছবি,
মা লক্ষ্মীর আরাধনায় জাগে ভক্তি অপার।
কে জাগে, কে জাগে, নিশীথের রাতে,
চাঁদের আলো ঝরে ঘাসফুলের সাথে,
লোকবিশ্বাসে দেবী আসেন আশীর্বাদ নিয়ে,
সমৃদ্ধির স্বপ্ন জাগে ভক্তের হৃদয়ে।
ধানের শিষ দোলে মাঠের প্রান্তরে,
শঙ্খধ্বনি বাজে পূজার মন্দিরে,
ফুল আর নৈবেদ্যে সাজে পূজার থালা,
ভক্তির প্রদীপে দূর হয় আঁধার কালো।
হে মা লক্ষ্মী, এসো সবার ঘরে,
শান্তির পরশ দাও জীবনভরে,
দুঃখীর নয়নে মুছে দাও জল,
শুকনো হৃদয়ে ফোটাও সুখের কমল।
যে ঘরে অভাবের দীর্ঘশ্বাস বাজে,
যে প্রাণ নিরাশায় দিন গুনে আজও,
সেখানে মা, তুমি আশার আলো জ্বেলে,
নতুন স্বপ্ন দিও ভালোবাসার কোলে।
শুধু ধনসম্পদ নয়, দাও মনের ধন,
সততা ও মমতায় সুন্দর হোক জীবন,
হিংসা আর বিদ্বেষ মুছে যাক দূরে,
মানবতার ফুল ফুটুক সবার অন্তরে।
পূর্ণিমার চাঁদ তুমি সাক্ষী হয়ে থেকো,
ভাঙা স্বপ্নগুলো নতুন করে দেখো,
যে চোখে জমেছে না বলা বেদনা,
তার বুকে জাগুক সুখের প্রার্থনা।
রাত ফুরিয়ে যাবে, চাঁদ হবে ম্লান,
তবু হৃদয়ে থাকুক পূজার সম্মান,
প্রদীপ নিভে গেলেও নিভবে না আলো,
মানুষের তরে মানুষ বাসুক ভালো।
কোজাগরী পূর্ণিমা, পবিত্র এ রাত,
ভক্তির সুরে জাগে মঙ্গলের প্রভাত,
মা লক্ষ্মীর কৃপায় ভরে উঠুক ধরা,
সুখে শান্তিতে কাটুক জীবনভরা।
শুভ্র জ্যোৎস্নায় মুছে যাক সকল আঁধার,
মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদে সমৃদ্ধ হোক সংসার,
প্রতিটি হৃদয়ে জাগুক ভালোবাসার বাণী,
শুভ হোক সবার কোজাগরী পূর্ণিমার রজনী।
