Quotes New

Audio

Forum

Read

Contests


Write

Sign in
Wohoo!,
Dear user,
ভালোবাসা কারে কয় !!
ভালোবাসা কারে কয় !!
★★★★★

© Debdutta Banerjee

Crime Romance Inspirational

8 Minutes   16.1K    94


Content Ranking

পাঁচ বছর বিদেশে কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফেরা। বিয়ের পর উড়ে গেছিলাম ডানা মেলে। মাঝে বিভিন্ন কারণে আর আসা হয়নি। এসেই শ্বশুর বাড়িতে দু রাত কাটিয়ে চলে গেছিলাম গড়িয়ায়, বাপের বাড়িতে। সেই অষ্টমঙ্গলার পর এই বাড়ি ফেরা। সব কেমন অন্যরকম লাগছিল। পুরানো বান্ধবীরা সব এদিক ওদিক বিয়ে হয়ে ছড়িয়ে গেছে। সোশ্যাল সাইটে মাত্র তিন জনের সাথে যোগাযোগ ছিল। প্রিয় বন্ধু তনিশার বিয়ে হয়েছিল কসবায়। ও এসেছিল পরের দিন বিকেলে। 

ওকে এগিয়ে দিয়ে ফেরার পথে ফুচকা খেতে ঢুকেছিলাম মিতালী সঙ্ঘের পাশে। ওখানেই দেখা হল আত্রেয়ীর সঙ্গে। ওর সাথে ওর তিন বছরের একটা ছোট্ট পুতুলের মতো মেয়ে। আত্রেয়ীর সাথে ঋজুদার সেই ছোট্ট বেলার প্রেম ছিল। আমার বিয়ের দু মাস আগে ওদের বিয়ে হয়েছিল। খুব আনন্দ করেছিলাম আমরা। ঋজুদা ছিল এ পাড়ার সব মেয়েদের হার্টথ্রব। ফর্সা, এক মাথা কোঁকড়া চুল, দুটো বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, জিম করা চেহারা। দারুণ গিটার বাজিয়ে গান গাইত। নাটক করত। খুব সুন্দর কবিতা লিখত। যাদবপুর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পাশ করে সরকারী চাকরী পেয়ে গেছিল। আত্রেয়ী ছিল আমাদের স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে। ঋজুদাদের পাশের গলিতেই থাকত। দুই বাড়ির মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। ঋজুদাকে নিয়ে একটা প্রচ্ছন্ন গর্ব ছিল ওর। কলেজে উঠে আর কারো দিকে ফিরেও তাকায়নি ও।  

মেয়েটাও হয়েছে ওর মতই সুন্দর। একথা সেকথার পর ওকে বাড়ি আসতে বললাম। ও হেসে বলল আসবে।ফোন নম্বর নিলাম। ও বলল আতা-বাগানে ফ্ল্যাট কিনেছে , একদিন যেতে। ঋজুদার কথা জিজ্ঞেস করতেই ওর ফোনটা বেজে উঠেছিল। এমন সময় একটা বাইক এসে দাঁড়াতেই ওর মেয়ে বাবা বাবা করে লাফিয়ে বাইকে উঠে গেল। 

আমি এমন অবাক জীবনে হইনি। বাইকে ঋজুদা নয় বসে ছিল আমাদের ব্যাচের সব চেয়ে ফক্কর, জিত। আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল -"কি রে, কবে এলি?" 

আমায় হাত নেড়ে আত্রেয়ী ততক্ষণে উঠে বসেছে জিতের পেছনে। আমি কথা বলতে ভুলে গেছি। ঋজুদা আর আত্রেয়ীর বিয়েতে বিরিয়ানি খেয়েছিলাম মনে আছে। বাসর জেগেছিলাম। আমার বিয়েতে ওরা এসেছিল। বৌভাতেও গেছিল। তাহলে আত্রেয়ী জিতের সাথে .!!

ওদের বাইক চলে গেলেও আমি ওভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। 

আমার মাথাটা ঘুরছে। ঋজুদা কোথায় ? কি হয়েছিল ? জিত কেন ওর সাথে ? প্রশ্ন গুলো কাকে করবো বুঝতে পারছিলাম না। আস্তে আস্তে বাড়ি ফিরে এলাম। তিনটে গলি ছেড়ে সারদাপার্কে ঋজুদার বাড়ি। তার পাশের গলিতে আত্রেয়ীর বাড়ি ছিল। কত আড্ডা মেরেছি। কলেজে জিত আত্রেয়ীকে পছন্দ করত। বিরক্ত করত প্রথম প্রথম। আত্রেয়ী ঋজুদাকে বলায় একদিন জিতকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছিল ঋজুদা। ওর বলার মধ্যে এমন কিছু ছিল আর কখনো জিত কিছু বলেনি। জিতের বাবার তিনটে ট্যাক্সি ছিল। এছাড়া ওর দাদা অটো চালাত । পরিবারটা পদ্মশ্রীর কাছে একটা পুরানো বাড়িতে ভাড়া থাকতো। জিত কলেজে পৌঁছালেও ইউনিয়নবাজি করত। পড়াশোনা করতই না। ওর বন্ধুগুলোও সব তেমনি ছিল। পরীক্ষা দিত না কেউ। কলেজে এলেও ক্লাস করতো না ওরা। টেবিল বাজিয়ে গান, ক্যান্টিনে হুজ্জতি, মেয়েদের পেছনে লাগা আর ইউনিয়নবাজি করে বেড়াত। 

কলেজের পর আর জিতের খবর রাখিনি। আজ আত্রেয়ীকে জিতের সাথে যেতে দেখে আর ওর মেয়ের বাবা ডাক শুনে মাথাটা গুলিয়ে গেছিল। 

রাতে আর থাকতে না পেরে আত্রেয়ীকেই ফোন করলাম।

ও পরদিন ওর বাড়ি যেতে বলল বারবার করে। অটোয় উঠে ওকে ফোন করতে বলেছিল। ও আতা বাগান মোড়ে দাঁড়াবে বলে দিল। 

সারা রাত ঘুম হয়নি ভালো করে। ঋজুদার সাথে ও কি সুখে ছিল টানা দুমাস দেখেছিলাম। তারপর জিত কোথা থেকে কি ভাবে এলো !!

পরদিন ওর ফ্ল্যাটে ঢুকে চমকে উঠেছিলাম। চারদিক কি সুন্দর সাজানো। জিতের সাথে ওর কয়েকটা ফটো দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে। ওর মেয়ের জন্মদিনে ওরা মেয়ে নিয়ে কেক কাটছে। ইরেজার দিয়ে কে যেন ঋজুদাকে মুছে দিয়েছে ওর পাশ থেকে। জিত অবশ্য বাড়ি ছিল না। ওর ট্রাভেলিং এজেন্সি আর কারপুলের ব‍্যবসা আত্রেয়ী বলল। দু চারটে কথার পর দু কাপ কফি নিয়ে ওদের বেডরুমে বসলাম দুজনেই। আমার অবাক চাওনি ও পড়তে পারছিল। আলাদা করে কিছু জিজ্ঞেস করিনি আমি। আত্রেয়ী নিজেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল -"খুব অবাক হয়েছিস না ? আমিও হয়েছিলাম রে? চেনা মানুষ যখন অচেনা হয়ে যায় ব্যথাটা খুব গভীরে লাগে। 

দীর্ঘদিন পাশাপাশি থেকেও আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছিলাম রে। আজ সেকথাই বলব। ঋজুকে ছোটবেলা থেকে চিনতাম। ভাবতাম ওর সবটা জানি। ওর বাবা মা আমায় এত ভালবাসত যে কখনো পর মনে হয়নি। বিয়ের পর একটা বছর হাসতে হাসতেই কেটে গেছিল। একবছরের বিবাহ বার্ষিকী হয়েছিল ধুমধাম করে। তার পরের ঘটনা। শীতের রাতে একটা বিয়েবাড়ি খেয়ে ফিরছিলাম রাজপুর থেকে। ঢালাই ব্রিজের কাছে এসে ঋজুর বাইকটা খারাপ হয়ে যায়। অতো রাতে আমরা কি করবো ভাবছি, ঠিক তখনি একটা গাড়ি এসে থেমেছিল। চারটে ছেলে নেমে আসে। মুখে মদের গন্ধ বলছিল ওরা সুস্থ নয়। ঋজু আমায় আড়াল করে দাঁড়িয়েছিল। ছেলে গুলো বলেছিল বাইকটা সাইড করে ওদের গাড়িতে উঠে গড়িয়া চলে যেতে। মেকানিক নিয়ে ফিরে আসতে। কিছুক্ষণ আলোচনার পর সেটাই ঠিক হল। আমি উঠতেই ওরা ঋজুকে ঠেলে ফেলে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছিল বাইপাসের দিকে। আমার চিৎকার ঋজুর চিৎকার সব হারিয়ে গেছিল রাতের অন্ধকারে। ওদের উল্লাস আর নোংরা কথার বন্যা ছুটেছে এদিকে। পাটুলির কাছে গাড়ি থামিয়ে শুরু হল সর্বনাশের প্রস্তুতি। আমি অনেক চিৎকার করেছিলাম। অনেক অনুনয় , অনুরোধ... একটা দুটো গাড়ি বাইপাস ধরে বেরিয়ে যাচ্ছে হুশহাশ । ভাবছিলাম এই তো ঋজু আসবে। এখনি ঝাঁপিয়ে পড়বে!! কোথায় কে?

চারজন পশুর সাথে একা কতক্ষণ লড়াই করা যায় !! ক্লান্ত বিধ্বস্ত অবসন্ন আমি আর অত্যাচার সহ্য করতে পারছিলাম না। ওরাও জিতে যাওয়ার উল্লাসে লাফাচ্ছিল। কিন্তু আমার চরম সর্বনাশ হওয়ার আগেই ভগবানের অশেষ কৃপায় তিনটে বাইকের হেড লাইটের আলো এসে পড়েছিল। পাঁচটা ছেলে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এদের ওপর। কিছুক্ষণের মধ্যে একটা পুলিশের গাড়ি এসে গেছিল। 

এরপর দেখলাম আমার রক্ষাকর্তার দলে রয়েছে জিত। পুলিশে খবর অবশ্য ঋজুই দিয়েছিল। থানা পুলিশ হাসপাতাল ঘুরে যখন বাড়ি ফিরলাম তখন খেলাম আসল ধাক্কাটা। ঐ রাতের ঘটনায় আমার চারপাশের মানুষগুলো রাতারাতি বদলে গেছিল। আমায় বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঋজু এক দুবার এসেছিল। তবে কিছুই বলেনি। কিছু শুনতেও চায়নি। ওর বাবা মা আসেননি। এমন একটা ঘটনার পর যখন আমি চরম অবসাদের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি যাকে আমার সবচেয়ে বেশি দরকার সেই আমায় এড়িয়ে যাচ্ছিল। আমি জানতাম না আমার কি দোষ ছিল!! ভীষণ ভাবে ঋজুকে চাইছিলাম। ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে চাইছিলাম। ওর বুকে মাথা রেখে নির্ভরতার আশ্রয় খুঁজতে ইচ্ছা করত। ও ফোন ধরেই বলত ব্যস্ত। আসতো না বাড়িতে। জিত আসত মাঝে মাঝে। নানারকম হাসির কথা বলে হাসাতে চাইত। পুলিশ কেস হয়েছিল। চারজনেই ধরা পড়েছিল সে রাতে। কিন্তু হঠাৎ করে ঋজু আমায় বলছিল ওরা কেস তুলে নিতে চায়। কেস কোর্টে গেলেই পেপারে বের হবে। আমাদের সন্মান তো আগেই গেছে, এবার ওর বাড়ির সন্মান , ওর বাবা মা কে নিয়ে টানাটানি হবে। আসলে চারজনের একজন মন্ত্রীর ভাইপো, দুজন বড় বিজনেস ম্যানের ছেলে। চাপ আসছিল ওপর থেকে। 

এদিকে জিত বুঝিয়েছিল ওরা সাক্ষী দেবে। চারজনের সাজা হবেই। কিন্তু আমার শ্বশুর বাবাকে বলেছিল এ সব কেস কোর্টে গেলে উনি আত্মহত‍্যা করবেন। বাধ্য হয়ে কেস তুলে নিলাম আমরা। জিত খুব অবাক হয়েছিল। ঋজু তো আসতোই না, এদিকে জিত সবসময় আসত। সাহস দিত।

ঋজুকে ফোন করে বলেছিলাম এবার বাড়ি ফিরতে চাই। ও বলেছিল আর কদিন পর নিয়ে যাবে। ঘটনার বাইশ-দিন পর আমি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেছিলাম। মন্দ কপাল বোধহয় একেই বলে। জানা গেলো আমি মা হতে চলেছি।যেই খবরটার জন্য আমার শ্বশুর শাশুড়ি এতদিন সাগ্ৰহে অপেক্ষা করছিল , যে খবরটায় সবার আনন্দে ভাসবার কথা সেই খবরটাই চরম অশান্তি ডেকে আনল। 

আমি ভেবেছিলাম ঋজু খুশিতে পাগল হয়ে যাবে। আমার সব দুঃখ কষ্ট অপমান ভুলিয়ে দেবে এবার। কিন্তু......

ঋজু এসেছিল। আমায় বলেছিল যদি বাড়ি ফিরতে চাই এই বাচ্চা নষ্ট করতে হবে। একে কেউ মেনে নেবে না। আমি অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম। ও সিলিং এর দিকে তাকিয়ে বসে ছিল। এমন সময় জিত এসেছিল। খবরটা শুনে একটা টেডি আর মিষ্টি নিয়ে এসেছিল ও। ঋজু ওকে জ্বলন্ত চোখে দেখে উঠে চলে গেছিল। 

পরদিন বাবা মা আমি আর জিত গেছিলাম ডাক্তারের কাছে। সোনোগ্ৰাফিতে দেখা ছিল ফিটাসের বয়স ছয় সপ্তাহ। এ যেন অগ্নি পরীক্ষা। রিপোর্ট নিয়ে ছুটে গেছিলাম ঋজুর কাছে। বলেছিলাম যে আসছে সে আমাদেরই সন্তান। ও বলেছিল বাড়ি ফিরে যেতে। ওর বাবা মা একটাও কথা বলেনি। ঋজু আমায় বাড়ি দিয়ে গেছিল। আর বলে গেছিল বাচ্চাটাকে কেউ চাইছে না। ওকে আনতে না। আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম -"তুমি ওর বাবা !! তুমি একথা বলছ?"

-"সমাজ মানবে না এসব। " ও বলেছিল।

-"প্রয়োজনে ডিএনএ টেষ্ট করবো !! " আমি বলেছিলাম। 

-"এই সব রিপোর্ট দেখিয়ে কয়জনের মুখ বন্ধ করবে তুমি। রিপোর্ট পয়সা দিয়েও পাওয়া যায়। " এই বলে গেটের কাছে আমায় ছেড়ে চলে গেছিল ঋজু। আমি সেই মুহূর্তে ঠিক করেছিলাম যে আমার সন্তান আসবে। আমি একাই ওকে বড় করব। ঋজু বাবা মা কে দলে টেনেছিল। মেয়ের সংসার বাঁচাতে তারা আমায় বলেছিল বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলতে।  

সবাই যাকে চাইছিল না সে বোধহয় অভিমানেই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। বাথরুমে পড়ে গেছিলাম আমি। প্রচণ্ড ব্লিডিং নিয়ে ভর্তি হলাম। ঋজু আসেনি। রক্ত লাগত। জিত সব জোগাড় করেছিল। বাবা মা কে সাহস দিয়ে সব দৌড়াদৌড়ি একাই করেছিল।

এরপর বাড়ি ফিরে একাই উকিলের কাছে গেছিলাম । ছাড়াছাড়ি হতে সময় লাগেনি। ঋজু এটাই চাইছিল। মুখ ফুটে বলতে পারছিল না। এই পুরো সময়টা পাশে ছিল জিত। বিপদের বন্ধু বোধহয় একেই বলে। কোনো কিছুর প্রত্যাশা ছিল না ওর। আমায় একটু আনন্দ দিতে আসত। আবার পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। তবে নিজেকে একটা খোলসে মুড়ে রাখতাম। রাস্তা ঘাটে ঋজুর সাথে দেখা হলে ও মাথা নিচু করে পাশ কাটাত। আমি কখনো আর মাথা নিচু করিনি। ঋজু ছয় মাসের মাথায় বিয়ে করেছিল। 

আমারও জেদ চেপে গেছিল। জিত যে আমায় ভীষণ পছন্দ করে জানতাম। কিন্তু সাহস করে বলেনি। হয়তো বন্ধুত্বটা হারাতে চাইতো না। আমিই ওকে বলেছিলাম বিয়ের কথা। ও আনন্দে পাগল হয়ে গেছিল। ওর ট্রাভেলিং এজেন্সির ব‍্যবসা আমার কথায় শুরু করেছিল। ওর বাড়ির সবাই আমায় ভালোবেসেই গ্ৰহন করেছিল। জেদের বসে বিয়েটা করলেও আজ আমি ভীষণ সুখী। ঋজুও আমায় এতটা ভালবাসেনি যা জিতের কাছে পেয়েছি। জিত আমায় পেয়ে বদলে গেছিল। ও জানত আমার সন্তান না হওয়ার দুঃখ। এক বছরের মধ্যেই সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছিল ও। এখন আমরা সত্যিই সুখী। "

আত্রেয়ীর চোখ জল।সেই জল আনন্দের। অজান্তে আমার চোখের কোল ভিজে উঠেছিল। ওর মেয়ে প্লেস্কুলে গেছিল। কার পুলে ফিরবে। আত্রেয়ী চোখ মুছে আমায় এ্যালবাম দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দুপুরে জিত এসেছিল। অনেক গল্প হল। ওর মেয়েটা সত্যিই পুতুল। বিকেলে বাড়ি আসার সময় বললাম -"ভালো থাকিস। এভাবেই আনন্দে থাকিস। "

ও বলল -"ভালোই আছি রে। তবে মাঝখানের ঐ একবছর কয়েকটা মাস যদি ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলতে পারতাম জীবনটা আরো সুন্দর হত। "

-"ঐ এক বছরটা ছিল বলেই আজ তুই সুখের মানে বুঝেছিস। ঐ একবছরটাই তোর জীবন বদলে দিয়েছে। প্রকৃত ভালবাসার ছোঁওয়ায় তুই ভরে উঠেছিস। " আমি হাত নেড়ে বললাম। 

ফেরার পথে ভাবছিলাম এর নাম সত্যিকারের ভালোবাসা।যা হারিয়ে যায়নি বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর।

বিস্ময় সম্মান জীবন

Rate the content


Originality
Flow
Language
Cover design

Comments

Post

Some text some message..