Quotes New

Audio

Forum

Read

Contests


Write

Sign in
Wohoo!,
Dear user,
ভোগদা v/s শাস্ত্রীজি
ভোগদা v/s শাস্ত্রীজি
★★★★★

© Sayandipa সায়নদীপা

Comedy Drama Romance

10 Minutes   1.1K    29


Content Ranking

“কেন! কেন! কেন! কেন ভোগা দা? আমি ছাড়া কি আর কোনো মুরগি পাওনা নাকি বাঁশ দেওয়ার জন্য? সেই ছোটবেলার থেকে পেছনে বাঁশ দিয়ে যাচ্ছ, এখনো শান্তি হলো না তোমার?”


 উঠে দাঁড়িয়ে একবার নিচটা উঁকি মেরে দেখে নিলাম। চোখে পড়লো মায়ের সুন্দর বাগানটা। কদিন আগেই বাবার সাথে একপ্রস্থ তর্কাতর্কি করে নতুন মাটি আনিয়ে ফেলিয়েছে মা, তারপর বাজার থেকে ওই কত হাজার টাকার যেন মরশুমি ফুলের চারা এনে লাগিয়েছে। এবার যদি ছাদ থেকে ঝাঁপ মারি তাহলে গিয়ে পড়বে মায়ের বাগানের ওই ভেজা মাটিতে। মরব না তো নিশ্চিত কিন্তু হাত পা ভাঙতে পারে। আর যদি বাই চান্স সেটাও না ভাঙে তখন সাধের ফুলগাছ গুলো নষ্ট করার জন্য মা নিশ্চয় আমার হাত পা গুলো ভেঙে দেবে। মহা মুশকিল পড়া গেল। বাড়িতে ভালো বিষও নেই যা খেয়ে মরা যায়। শিরা কাটা বা ফ্যান থেকে ঝুলে পড়াটা বেশ চাপের জিনিস আছে, অমন করে ধীরে ধীরে মরার সাহস নেই আমার। তবে উপায়? কিন্তু বেসিক্যালি দেখতে গেলে প্রেম প্রবলেমে সুইসাইড করার মতো সেন্টু পাবলিকও তো আমি নই। তাছাড়া বাবা মার একমাত্র ছেলে; সুইসাইড করা আমার সাজে না! লোকে মরার পরও খিস্তি দেবে। তাছাড়া আমার মা খুব কাঁদবে আমি জানি আর মায়ের কান্না আমি একদম সহ্য করতে পারিনা। উফফ চোখে জল চলে এলো। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। কাউকে কিছু বলতেও পারছিনা।


“হিঃ হাঃ হাঃ হাঃ তা যা বলেছেন বৌদি”


কি লোক মাইরি। এ গলা না লাউড স্পিকার! ছাদ অবধি এসে পৌঁছে যাচ্ছে। এই লোকটাকে আমার জন্ম থেকে সহ্য হয়না কিন্তু আমার মা বাবার একে এতো ভালো লাগে কেন কে জানে! লোকটা এলে আমার যতটা ঝাঁট জলে, আমার মা বাবা ঠিক ততটাই গলে যায় আহ্লাদে। আচ্ছা আপনারাই বলুন আপনি একজনের বাড়িতে যাচ্ছেন এবং আপনি জানেন সেই বাড়িতে একটা খুব কিউট কুচু বাচ্চা আছে। আপনি কি করবেন? নিশ্চয় একটা চকো কিনে নিয়ে যাবেন তার জন্য। কিন্তু এই লোকটা! এই লোকটা কি করতো জানেন? লোকটা আমাদের বাড়ি এসে আমাকে উল্টে বলতো, “ভাইপো একটা চকোলেট দে না রে, বহুদিন খাইনি।” অসহ্য… জাস্ট অসহ্য। আমার মা আবার এটার মধ্যে ওনার ছেলেমানুষি দেখতে পেতেন। উফফ… এই জন্য এই লোকটাকে আমি সহ্য করতে পারিনা সেই ছোটবেলা থেকে।


   ওহো অনেক্ষন থেকে লোকটা লোকটা করছি কিন্তু লোকটা কে সেটাই তো বলা হয়নি। লোকটাকে আমি কাকা বলে পরিচয় দি। না না কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই, বাবার বন্ধু হয়। যদিও বাবার থেকে দু বছরের জুনিয়র তাও দুজনের বন্ধুত্ব সেই ছোটবেলা থেকে; একই গ্রামের ছেলেও দুজনে। আর লোকটার কি আশ্চর্য ক্ষমতা! আমার মাকেও ইমপ্রেস করে ফেলেছিল সেই বিয়ের পর পরই। মা তো এতোটাই ইমপ্রেস হয়ে গিয়েছিল যে ডাইরেক্ট ভাই পাতিয়ে নেন লোকটাকে। এখন তো মামাদের সাথে ভাইফোঁটায় এই লোকটাও মানে এই বিকাশ কাকুও ফোঁটা পায়। কিন্তু লোকটাকে আমার সহ্য হয়না কোনোদিনের জন্যও। হয়তো এতটা অসহ্য লাগার মতো কিছু হয়নি কখনো কিন্তু তাও আমার অসহ্য লাগে। পেছনে লাগবো বলে ছোটবেলায় “বিকাশ কাকু” কে ছোট্ট করে বিকু বলে ডেকেছিলাম; ও হরি রাগবে কোথায় তা না আমাকে কোলে তুলে চুমু টুমু খেয়ে একসা করে দিলো, বলে কিনা আমি নাকি তাকে কত্ত ভালোবাসি। সেই থেকে আমিও বিকু বলেই ডাকি। লোকটা আবার এখন নাকি জ্যোতিষী হয়েছেন। কে যে যায় ভাই ওর কাছে হাত দেখাতে কে জানে! কিন্তু জানেন তো এই জন্যই, ঠিক এই জন্যই এই মুহূর্তে আমার লোকটার ওপর আরও বেশি করে রাগ উঠেছে। জানি আপনারা বিরক্ত হচ্ছেন, কিছু বুঝতে পারছেননা বলে, আচ্ছা আচ্ছা আপনাদের ক্লিয়ার করে বলছি সবটা।


   ইলোরা আর আমি একই স্কুলে পড়তাম। আমার থেকে দু ক্লাস নিচে পড়তো ও। কিন্তু আমার বেস্টফ্রেন্ড সব্যসাচীর পাড়াতুতো বোন হওয়ার সুবাদে আলাপটা জমেছিল ভালোই। তাছাড়া স্কুলের ফাংশন গুলোতে আমার গিটার শুনে শুনে ও খুব ইম্প্রেসড ছিল। তবুও স্কুল লাইফে আমাদের আলাপটা কোনোদিন বন্ধুত্ব ছাড়িয়ে যায়নি। কিন্তু তারপরেই এলো ফাগুন মাস, দারুন সে সময়, লাগলো বিষম চোট... আমার এইচ এস শেষ, হাতে অফুরন্ত সময়। ভেবেছিলাম বন্ধুদের সাথে জমিয়ে আড্ডা মারবো কিন্তু কোথায় কি! সব ব্যাটা নিজেদের আসল রং দেখিয়ে দিলো। যে যার প্রেমিকাকে নিয়ে এমন ব্যস্ত হলো যে আমাকে বেমালুম ভুলে গেল। এদিকে আমি দুঃখী সিঙ্গেল বাচ্চা বাড়িতে বসে টিভি দেখছি, ল্যাদ খাচ্ছি আর ভাবছি ইস আমারও যদি কেউ থাকতো। এমন সময় একদিন বাড়ির ল্যান্ড লাইনে ফোন। মা ধরেছিলো প্রথমে তারপর আমাকে ডাকলো বললো কে নাকি একটা মেয়ে ফোন করেছে। অবাক হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে হ্যালো বললাম। ওপাশ থেকে একটা মিষ্টি আওয়াজে সে বললো, “আমি ইলোরা বলছি।” 

ইলোরার গলা আগে শুনিনি এমন নয় কিন্তু ফোনে আজ প্রথমবার শুনে এত মিষ্টি লাগলো যে কি বলবো। সেদিনের কথা বলতে গিয়ে আজও দেখুন ব্লাশ করছি। যাইহোক সেদিনের পর বাবার ল্যাপটপ থেকে লুকিয়ে ওর সাথে চ্যাট করা শুরু করলাম ফেসবুকে। ফ্রেন্ডলিস্টে তো আগেই ছিলো কিন্তু কথা হয়নি কখনো চ্যাটে। ওর সাথে কথা বলতে বলতে মনে হতো যেন উড়ছি। ওফ আপনারাও না! হাসছেন কেন? ওই বয়েসে এরকম তো হয় সবার। এত হাসির কিছু নেই।


  যাই হোক, কিছুদিন পর সাহস করে করেই দিয়েছিলাম প্রপোজ। বিশ্বাস ছিল হতাশ হবোনা, হইওনি। তিন তিনটে মাস স্বপ্নের মতো কেটেছিল। কিন্তু তারপর... হঠাৎ করে যেনো অনেক বড় হয়ে গিয়েছিলাম; পৃথিবীর আসল রূপটা চিনতে পারছিলাম। নতুন কলেজ, হোস্টেল, রয়্যাগিং, সিনিয়ারদের সাথে অন্য আরো কিছু ঝামেলা এসবের চাপে পর্যুদস্ত অবস্থা। ইলোরাকে সময়ই দিতে পারছিলাম না। ইলোরা মাঝে মাঝে ফোন করে অভিযোগ করলেই আমার মাথার পারদ চড়ে যেত। একদিন ওকে বলেই বসলাম, “গো টু হেল। ডোন্ট ডিস্টার্ব মি।”

ফোনটা কেটে গিয়েছিল সেদিন। সত্যিই আর কখনও ডিস্টার্ব করেনি ও। তারপর যখন সব সমস্যা মিটল, নতুন জীবনের সাথে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম তখন আফসোস হতে লাগলো নিজের ব্যবহারের জন্য। ফেসবুকে বোধহয় ব্লক করে দিয়েছিল খুঁজে পাইনি, ফোনেও যোগাযোগ করতে পারিনি। ভাবলাম ভোগাদার বোধহয় এই ইচ্ছা। মন দিয়ে পড়াশোনাটা শেষ করি। 


 কলেজ শেষ হয়ে সেই সবে বাড়ি ফিরেছি কিছুদিন হলো, হঠাৎ একদিন বাসে সৌরভীর সাথে দেখা। সৌরভী মানে আমার ইলোরার বেস্টফ্রেন্ড। আমাকে দেখে তো প্রথমে না চেনার ভান করছিল, তারপর অনেক কাকুতিমিনতি করতে বেছে বেছে কতগুলো গালি দিয়ে শান্ত হলো অবশেষে। তবে সেখানেই শেষ না, শান্ত হয়ে অনেকক্ষণ ধরে নৈতিকতার ওপর একটা লম্বা ব্যক্তব্য রাখার পর অবশেষে আমাকে কথা বলার সুযোগ দিলো। ওরই সাহায্যে অনেক তপস্যার পর আমার জীবনে আমার ইলোরা আবার ফিরে এলো। আমার মতো সেও তার জীবনে আর কাউকে আসতে দেয়নি এতদিন। দেখুন বস আমি জানি আমি একটু কেমন টাইপের আছি কিন্তু আমি আমার ইলোরাকে সত্যিই ভালোবাসি, ও নিয়ে কোনো কথা নয়। কলেজ লাইফে একটা মেয়ের দিকেও তাকাইনি আমি। একদম সন্ন্যাসীর মতো কাটিয়েছি জীবন। হ্যাঁ মানছি ‘বন্ধুদের গার্লফ্রেন্ড আছে আমার নেই কেন?’ এমন একটা ছেলে মানুষীর বশে সম্পর্কটা শুরু করেছিলাম কিন্তু ভালোটা আমি ওকে সত্যিই বাসি। কিন্তু সে কথা কেউ বোঝেনা। জানেন কলেজ শেষ করে চাকরির জন্য পড়াশুনা করছি দু বছর হয়ে গেল। একটাও চাকরি লাগছে না। জানি চাকরি পাওয়াটা এতোটা সোজা না কিন্তু সে কথা ইলোরার মা বুঝলে তো। ওনার মানে আমার হবু, না না এক্স-হবু শাশুড়ি মার আবার জ্যোতিষ এ খুব বিশ্বাস। বাহ্ এক্স বললাম বলেই ভেবে নিলেন আবার আমিই কিছু ঘোটালা করেছি। আরে নারে বাবা, এবারে আমি সত্যিই কিছু করিনি। এ অন্য কেস। ইলোরাকে ওর মা কিছুদিন আগে এক জ্যোতিষীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই জ্যোতিষী কি একটা মালা দিয়ে আমার ইলোরাকে বলেছে আগামী ছ’মাসের মধ্যে ওর কপালে যদি সিঁদুর না ওঠে ওর মায়ের নাকি প্রাণ সংশয় হবে। ক্যান ইউ ইমাজিন! ওর মাথার সিঁদুরের সাথে ওর মায়ের প্রানের কি সম্পর্ক থাকতে পারে! আমি তো জানতাম হিন্দু নারীরা নিজের স্বামীর মঙ্গল কামনায় সিঁদুর পরে, এর মাঝে মা এলো কোথা থেকে। ভন্ড সালা যতসব। এই জন্যই তো বিকুকে আমার সহ্য হয়না। বিকু আর ওর জাত ভাই গুলো এভাবে আমার ইলোরার মতো ইনোসেন্ট মেয়েগুলোকে ঠকায় আর আমার এক্স হবু শাশুড়ি মার মতো কিছু মহিলার জন্যই এদের এতো বাড়বাড়ন্ত। ইলোরা এবার কান্নাকাটি জুড়েছে। মা না আমি? আমি না মা? আমার মতো বেকার ছেলের সিঁদুর নিশ্চয় ওর সিঁথিতে উঠতে দেবেননা ওর মা। তাহলে? আমি তো চেয়েছিলাম একটু সময়, একটা চাকরি ঠিক পেয়ে যাবো জানি। কিন্তু ওই জ্যোতিষী… বদমাইশ… ভোগাদাও বিট্রে করছে আমাকে। আমার ইলোরাকে বোধহয় আর লাল বেনারসি পরে বউয়ের সাজে দেখা হলো না। আমাদের চার হাত আর বোধহয় কোনোদিনও এক হবেনা…!


   ফিশ ফ্রাইয়ের গন্ধ পাচ্ছি। নির্ঘাত বিকুর জন্য বানানো হয়েছে। হুম মশাই, আপনার জাতভাই আমার ইলোরার মাথা খাচ্ছে আর আপনি ফিশ ফ্রাই খাচ্ছেন আমার বাড়িতে বসে। খা লে বেটা, সৎ লোকের দুনিয়া আর নেই... ভন্ড লোকে ভরে গেছে।


“বাবু তুই এখানে!”

“মা…”

“ছিঃ বাবু, তোমার বিকু কখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে আর তুমি ছাদে বসে আছো!”

“আমার জন্য অপেক্ষা! কেনো?”

“জানিনা। চলো নিচে।”

“যাচ্ছি। চলো তুমি।”

“গিয়ে দয়া করে প্রনামটা কোরো।”

“হুম।”


নিচে এসে লোকটাকে দেখেই গা টা জ্বলে যাচ্ছিল। তাও অনেক কষ্টে মুখে কৃত্রিম হাসি এনে প্রণাম করতে গেলাম। আটকে দিলো লোকটা, বাঁচা গেলো। 

“আয় আয় বুকে আয়।”

নাহ বাঁচা গেলো না, ওই বিশাল বুকখানির তলায় কিছুক্ষণ আমাকে পেস্ট করার পর বিকু ব্যাগ থেকে কি যেন একটা বের করলেন। হায় ভোগাদা! একি! এতো একটা ক্যাডবেরি সেলিব্রেশনের প্যাকেট। সালা ছোটবেলায় তো কখনো দাওনি, উল্টে আমার গুলো নিয়ে নিয়েছ আর এখন যখন আমি বড় হয়ে গেছি তখন আবার আদিখ্যেতা। মাথাটা আমার গরম হচ্ছে কিন্তু সেটা প্রকাশ করা চলবে না। আমার হাতে সেলিব্রেশনের প্যাকেটটা দিয়ে বললেন, “তোমার জন্য আনলাম, খেও।”

ভ্যাবলার মতো মাথা নাড়লাম শুধু। হাতে কফির ট্রে নিয়ে মা ঢুকলেন ঘরে। কফি সার্ভ করতে করতে বিকুকে বললেন, “যে ঘটনাটা বলতে বলতে থেমে গিয়েছিল সেটা শেষ করো ভাই।” এবার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোর বিকুর গল্পগুলো শোন একবার, বুঝবি মানুষকে বোকা বানানো কতো সোজা। উফফ তোমরা পারও বটে!”


“হ্যাঁ বৌদি তা যা বলছিলাম। তো সেই মহিলা আমার সাথে সব সেটিং করে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট দিনে মেয়েকে নিয়ে এলেন। আমিও বেশ অনেকক্ষণ ধরে মেয়েটার হাত, কপাল এসব দেখার নাটক করলাম, খাতায় হাবিজাবি আঁকিবুঁকি কাটলাম। দিয়ে মেয়েটাকে বলে দিলাম যে ওর সিঁথি আগামী ছ মাসের মধ্যে রাঙা না হলে ওর মায়ের মুখে রক্ত উঠে মারা যাবেন উনি। আর জানোই তো মায়ের ব্যাপারে মেয়েরা ...।”


“ইউ চিটার... দ্য কালপ্রীট। তারমানে তোমার জন্য সব তোমার জন্য…”


“কি হলো বাবু এভাবে রিয়াক্ট করছো কেন!” 


না না না রিয়াক্ট করলে চলবে না আমার। জানতে যখন পেরেছি আমার জীবনের এতবড় ভিলেন কে, তখন সুযোগটা কাজে লাগাতেই হবে। শুধু ভিলেন নয়, ভ্যাম্পও আছে। যাকে বোকাসোকা মানুষ ভাবছিলাম তিনিই তাহলে মাস্টার প্ল্যানার। উফফ ভাবতে পারছি না, এত্তো বড় ষড়যন্ত্র! মাই ডিয়ার এক্স হবু শ্বাশুড়ি মা আপনাকে আবার আমি অনলি হবু শ্বাশুড়ি মা বানিয়ে ছাড়বোই ছাড়বো খুব শীঘ্রই...জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।


“আরে বিকু, জাস্ট কিডিং। ভয় পেয়ে গেলে তো।”


“ভয় পাওয়ালে ভয় তো পাবোই।”


“হে হে কেমন এক্টিং করলাম বলো। আচ্ছা বিকু ওই মহিলা নিজের মেয়েকে এভাবে ঠকালেন কেন?”


“আরে ঠকাবে কেন! মেয়ের ভালো চায় তাই তো এমন করেছেন। মেয়ে একটি ছেলেকে ভালোবাসে যে ছেলেটি আমার মতো বুদ্ধিমান নয় বলে এখনো বেকার। এদিকে ওনারা ইউ এস এ তে সেটলেড একটা ভালো ছেলে পেয়েছেন কিন্তু মেয়ে মানছেনা তাই আর কি...। হে হে কেমন বুঝছো! স্বয়ং ভগবানও কিন্তু তোমার বিকুর মতন এমন জোড়ি মেকার নন।”


তোমার মত বুদ্ধিমান নয় বলে! হুম, লোক ঠকানোর বুদ্ধি নেই বলে তুমি এভাবে পেছনে বাঁশ দিচ্ছ। আর জোড়ি মেকার! হচ্ছে তোমার বিকু। দাঁড়াও শুধু, আগে আমার বেবিকে সামলাই তারপর তোমার হচ্ছে।


“একদম একদম। ইউ আর গ্রেট। তা বিকু লাঞ্চ করে যাবে তো?”


“আরে না না।”


“না বললে শুনবো না ভাই। রান্না কিন্তু করে ফেলেছি। খেতে তোমাকে হবেই।”


“হেঁ হেঁ বৌদির রান্না… লোভ সামলাতে পারলাম না। আচ্ছা খেয়েই যাবো।”


হুম। মায়ের রান্না খাওয়ার আগে আরো কিছু খাবে তুমি। আমি খাওয়াবো তোমাকে। চুপচাপ উঠে নিজের রুমে এলাম। নোকিয়া এগারোশ মডেলটা তুলে ফোনটা লাগলাম। অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে এলো, “হ্যালো।” 

এই আওয়াজ... উফফ... এই আওয়াজ আজও আমার বুকে আলোড়ন তোলে। কিছুতেই একে হারাতে পারবোনা আমি।


“হুম বেবি তুই ইমিডিয়েটলি আমার বাড়ি আয় একবার, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।”


“এখন! ইম্পসিবল।”


“যদি কোনোদিনও আমায় সত্যিকারের ভালোবেসে থাকিস তাহলে তুই আসবি আজ, আমাদের ভালোবাসার দিব্যি রইলো। রাখলাম, অপেক্ষা করছি।”


ফোনটা কাটলাম। আমি জানি ও আসবে। ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলটা জরুরি ছিল। আমার সময়টাই খারাপ যাচ্ছে। ল্যাপটপটা তো খারাপ হয়েছিল তারপর সেদিন ওর ফোন পাওয়ার পর শকে হাত থেকে ফোনটা পড়ে সেটাও গেল। তাই আলমারির কোনে হাজার হাবিজাবি জিনিসের মধ্যে পড়ে থাকা নোকিয়া এগারোশো এতদিন পর আবার তার কাজ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটটা না থাকায় বহির্জগতের সঙ্গে সংযোগ সম্পূর্ণ ছিন্ন... উফফ বিরক্তিকর।


  প্রত্যেকটা মুহূর্ত উৎকণ্ঠায় কাটছে। মা আর বিকু গল্পে মত্ত, আমার দিকে নজর নেই কারুর। কখন আসবে ইলোরা! ওকে দেখিয়ে দেব ওর নিজের মা আর তাঁর প্রিয় শাস্ত্রীজীর আসল রূপ। 


ডিং ডং…


“কে এলো এসময়!”


“মা তুমি বসো, আমি দেখছি।”


একলাফে পৌঁছে গেলাম দরজার সামনে। বুকটা ঢিপঢিপ করছে, আজ হয় এসপার নয় ওসপার কিছু একটা হবে। কিন্তু দরজা খুলে দেখলাম একি! ইলোরা কোথায়! এতো পিয়ন কাকু। 


“কি বাবু ভেতরে ডাকবে না? আজ কিন্তু মিষ্টি না খেয়ে যাবোনা।”


পিয়ন কাকু পান চেবানো দাঁতেই ক্লোজ আপ হাসি দিলেন আর আমিও এজ ইউজুয়াল ভেবলু হয়ে গেলাম কিছুই বলতে পারলাম না। আমার ভ্যাবলাকান্ত দশা দেখে বোধহয় পিয়ন কাকুর মায়া হলো। হাতে একটা সাদা খাম ধরিয়ে বললেন খুলে দেখো। মা এসে পিয়ন কাকুকে চেয়ারে বসতে দিলেন। আর এদিকে আমি খামটা ছিঁড়ে চিঠিটা পড়তে শুরু করলাম। 


   হঠাৎ দরজায় প্রচন্ড একটা ধাক্কা। চমকে উঠে তাকিয়ে দেখি ইলোরা। দরজাটা খোলাই ছিল কিন্তু তাড়াহুড়ো করে আসতে গিয়ে বেচারী ধাক্কা খেয়ে গেছে। এদিকে ইলোরাকে দেখে বিকুর মুখের অবস্থা তো আর বলার নয়। ইলোরারও এবার নজর পড়েছে বিকুর দিকে। অবাক হয়ে বলে উঠলো, “শাস্ত্রীজী…”


আমি এগিয়ে গেলাম ওর কাছে, ওর হাত টা ধরে বিকুর সামনে নিয়ে এলাম। ওরা দুজনেই হতভম্ভ।

ইলোরার দিকে তাকিয়ে বললাম, “মিট মাই বিকু। আমার বিকু কিন্তু সব জানেন, তাই তো আজ এডভান্স সেলিব্রেশনের প্যাক গিফট করেছেন আমাকে। এই দেখ এপয়নমেন্ট লেটার।  ব্যাংকের যে ইন্টারভিউটা দিয়ে এসেছিলাম পেয়ে গেছি সেটা। এখন ক্লারিক্যালেই ঢুকি না হয় তারপর প্রমোশন নিয়ে দেখবি অনেক বড় অফিসার হয়ে যাবো, একদম আন্টির মনের মতো, প্রমিস।”

ইলোরার চোখে জল। মা এসে জড়িয়ে ধরলো আমাকে।


  সবাই এখন মিষ্টি খেতে ব্যস্ত, সাথে বিকুর আনা ক্যাডবেরিজও আছে। মা আর ইলোরার মুখে হাসি, চোখে জল, অবশ্যই আনন্দের। নাহ ইলোরাকে সত্যিটা আর জানাইনি। ভেবে দেখলাম বিকু তো ঠিকই বলছিলো। আন্টি তো ওর ভালো চেয়েই সব কিছু করেছেন, কি করে পারতেন একটা বেকার ছেলের হাতে নিজের মেয়েকে তুলে দিতে। আমিও চাইনা ওদের মা মেয়ের সম্পর্কে কোনো বিভেদ আসুক। আরে ভাই আমি অতটাও খারাপ ছেলে নই যতটা আপনারা ভাবছেন। থ্যাংকস টু ভোগাদা আমার ইলোরা আমারই রইলো। এবার আমাদের চারহাত ঠিক এক হবে। সাথে আমার মা বাবাও খুশি। আর কি চাই!!


শেষ।

storymirror বাংলা ছোটবেলার প্রেম জ্যোতিষ

Rate the content


Originality
Flow
Language
Cover design

Comments

Post

Some text some message..