Quotes New

Audio

Forum

Read

Contests


Write

Sign in
Wohoo!,
Dear user,
নীলচে ঝিনুক
নীলচে ঝিনুক
★★★★★

© Banabithi Patra

Drama Romance

4 Minutes   808    14


Content Ranking

প্রত্যেকবার অষ্টমীর দিন শাড়ি পরে সেজেগুজে পাড়ার মন্ডপেই অঞ্জলি দেয় ঝিনুক, এবার সকাল থেকে বিছানা ছাড়ার নাম-ই করলো না । চুপ করে মটকা মেরে শুয়ে শুয়ে মায়ের বকুনিগুলো হজম করলো । পুজোর কতদিন আগে থেকে ভেবেছিল মায়ের তুঁতে জামদানিটা পড়বে , সব প্ল্যান বাতিল করে দিল নিমেষে । কিছুতেই যাবে না আজ মন্ডপে । গতকাল রাতের মনখারাপের বাসী কষটা ভাবটা এখনো রয়ে গেছে মনের মধ্যে । কিছু ভাল্লাগছে না , পুজোটাই ফালতু হয়ে গেল । মা পুজোর ডালা নিয়ে বেরিয়ে গেছে একটুক্ষণ আগে । পুজো শুরু হয়ে গেছে , মাঝে মাঝে ঢাক-কাঁসরের আওয়াজ আসছে । সবাই সেজেগুজে এতক্ষণে চলে এসেছে নিশ্চয়ই । পুজো তো কতো দেখছে সব , জমজমাট আড্ডা চলছে । যত হুড়োহুড়ি তো অঞ্জলি দেওয়ার সময় ।

কাল রাতে রাগ করে কিছু খায়ওনি ঝিনুক , পেটের মধ্যেটায় ক্ষিদে-ক্ষিদে লাগতে শুরু করেছে । মা অঞ্জলি দিয়ে ফিরবে তারপর তো লুচি হবে । ঘুম থেকে না ওঠায় সকালের চা টাও ফসকেছে । চায়ের সাথে দু-চারটে বিস্কুট খেলেও ক্ষিদেটা একটু বসে আসবে । এই এক বদ-অভ্যাস ঝিনুকের , একটুও ক্ষিদে সহ্য করতে পারে না । টিভির আওয়াজ আসছে , বাবা খবর দেখছে তারমানে । বিছানা ছেড়ে রান্নাঘরে ঢুকে টুক করে দুকাপ চা বানিয়ে ফেললো । অসময়ে মেয়ের হাতের চা পেয়ে বাবা তো আহ্লাদে আত্মহারা । এই মুক্তা খালি নালিশ করে , মেয়ে বড়ো হচ্ছে অথচ সংসারের কোন কুটোটি নেড়ে দুটো করে না । এই তো কি সুন্দর চা বানিয়েছে !!!!


দুপুরে মায়ের সাথে লুচি বানালো ঝিনুক । যদিও লুচিগুলো মায়ের মতো গোল হচ্ছিল না , তবু বেশ মজাই হচ্ছিল মায়ের হাতে হাতে কাজ করতে । যে মেয়ে কোনদিন রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায় না , তাকে নিজের ইচ্ছায় রান্নায় হাত লাগাতে দেখে মা কিছুটা অবাক , সাথে খুশিও । মা দুর্গা মেয়েটাকে বোধহয় সুমতি দিলেন ।

       বন্ধুদের সাথে সন্ধ্যেবেলা ঘোরার প্ল্যানটাও বাতিল করে দেয় । মা-বাবার সাথে ঘুরতে বেরবে আজ । ফোন করে পিয়ালীকে জানিয়ে দিয়েছে সেকথা । ও একটু রাগ করছিল , সবাই মিলে কতো আনন্দ করবে ভেবেছিল , ঝিনুক না গেলে নাকি ওদের ভালো লাগবে না ।

কতো আনন্দ করবে তো ঝিনুকও ভেবেছিল , খারাপ তো ওর নিজেরও লাগছে , তবু যাবে না !!!!


ও না গেলে একজনের যে খুব ভালো লাগবে , সেটা সপ্তমীর সন্ধ্যারতীর সময়েই বুঝতে পেরেছে ঝিনুক । আর ঐ সবজে চোখের তিন্নিটাও খুশি হবে । সবে তিনমাস হলো এ পাড়ায় এসেছে , আর এমন হাবভাব করছে যেন এই পুজোর সর্বেসর্বা ও । আর প্রবালটাও তেমনি , চোখের আড়াল করতে পারছে না তিন্নিকে । সন্ধ্যারতির সময় পঞ্চপ্রদীপটা নিয়ে কতক্ষণে তিন্নির কাছে যাবে বলে ছটফট করছে একেবারে , ঝিনুক যে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল দেখতেই পেল না । আজ যে ও অঞ্জলি দিতে যায়নি হয়তো খেয়ালও করেনি । একটা এসএমএস করতেও মন হয়নি । 

বিকাল থেকে বৃষ্টি , সন্ধ্যেবেলা ঠাকুর দেখতে বেরনোটাই বোধহয় মাটি হলো । ঘরে শুয়েই সন্ধ্যেটা কাটিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল ঝিনুকের । কিন্তু পিঙ্কি-মিঠু-সুচি এতবার করে ফোন করছিল প্যান্ডেলে যাওয়ার জন্য আর সাথে মায়ের বকুনিতে মত পাল্টাতে হলো ঝিনুককে ।

নীল চুড়িদারটাই পড়বে আজ । একদিন কলেজ থেকে বন্ধুরা মিলে বিগবাজারে গিয়েছিল , ওখানেই কিনেছিল চুড়িদারটা । ওর পছন্দ ছিল এই নীলটা আর প্রবালের পছন্দ ছিল হলুদ , ওকে নাকি নীল রঙে মানায় না । ঝিনুকও হলুদটাই নিচ্ছিল , শেষ মুহুর্তে ওড়নাটায় ছেঁড়া বেরনোতে নীলটাই নিতে হয় ।

আজ ইচ্ছা করেই নীলটা পড়বে ঝিনুক । ওকে মানাক কি না মানাক , তাতে প্রবালের কি !!!! তিন্নিকে কিসে মানাবে এখন তো তাই দেখতে ব্যস্ত প্রবাল ।

বৃষ্টিতে কেউই ঘুরতে বেরতে পারেনি , পাড়ার প্যান্ডেল একেবারে জমজমাট । জমিয়ে আড্ডা হলো কিছুক্ষণ , দুবার চোখাচোখিও হলো প্রবালের সাথে । ইচ্ছা করে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে ঝিনুক , ওর সাথে কথা বলতে বয়েই গেছে !!!! তিন্নি আড্ডাতে থাকলেও , উকে একটুও পাত্তা দেয়নি ঝিনুক ।

সাড়ে ন'টা বাজছে , ওরা আরো কিছুক্ষণ থাকবে প্যান্ডেলে । একা একা বেশি রাত অবধি বাইরে থাকা পছন্দ করে না বাবা , ঝিনুক বাড়ি চলে যাবে এবার । 

    প্যান্ডেলের আলোতে আলো-আঁধারি ওদের বাড়ি আসার রাস্তাটা । আজ দারুণ মজা হলো সন্ধ্যেটা । তিন্নিটা ওদের আড্ডায় নতুন , ওদের সব কথা বুঝতে না পেরে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছিল আর মাঝে মাঝে বোকার মতো হাসছিল । ওর না বুঝে হাসি দেখে সবাই মুখ টিপে হাসাহাসি করছিল । আজ না এলে সত্যি এটা একেবারে মিস করে যেতো ঝিনুক ।

-- কি রে সকালে এলি না যে অঞ্জলি দিতে ?


পিছন থেকে কথা বলায় চমকে ওঠে ঝিনুক । প্রবাল যে ওর পিছুপিছু এসেছে খেয়াল-ই করেনি ।

--- ইচ্ছা হয়নি তাই আসি নি ? 

--- বাহ ইচ্ছা হলো না আর এলি না , তোর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে অঞ্জলি শেষ হয়ে গেল । আমার আর অঞ্জলিটাই দেওয়া হলো না ।

--- আমার জন্য অপেক্ষা করার কি হয়েছিল ?

--- কেন অপেক্ষা করছিলাম তুই জানিস না ? ভুলে গেলি তুই ? দুবছর আগে আমরা কি ঠিক করেছিলাম ? সারা জীবন আমরা অষ্টমীর অঞ্জলিটা একসাথে দেব !!!!

তিন্নির কথাটা বলতে গিয়েও বলতে পারে না ঝিনুক । প্রবালের সরল মুখটার দিকে তাকিয়ে মনটা কেমন খারাপ হয়ে যায় । রাগ করে সকালে অঞ্জলিটা দিতে না আসা ওর ভুল-ই হয়েছে !!!!

ঝিনুকের দুঃখ-দুঃখ মুখটা প্রবালেরও খারাপ লাগে । সকালে একটা এসএমএস করলেই হতো ঝিনুককে ।

--- আর কোনবার অষ্টমীতে এই ভুল করবি না কিন্তু ।

--- উহুঁ আর এমনটা হবে না ।

প্রবাল ফিরে যাচ্ছে । ঝিনুক কলিংবেলটা বাজাতে যাবে , ফিরে আসে প্রবাল ।

---- হলুদ রঙের থেকে নীল রঙটাতেই তোকে বেশি মানায় ।

তোকে আজ দারুণ লাগছে , যেন নীলচে ঝিনুক ।

অষ্টমীটা আজ যেন অন্যভাবে সুন্দর ।

নবমীর সকালটাতে প্রবালের পছন্দের নীল শাড়িতেই নিজেকে সাজাবে ঝিনুক........

storymirror story drama romance bengali durga pooja

Rate the content


Originality
Flow
Language
Cover design

Comments

Post

Some text some message..