Quotes New

Audio

Forum

Read

Contests


Write

Sign in
Wohoo!,
Dear user,
ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট
ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট
★★★★★

© Jeet Patitundi

Abstract Comedy Tragedy

6 Minutes   1.9K    60


Content Ranking

গত তিনদিন বিশ্বকর্মার রাত্রের ঘুম হচ্ছে না কিছুতেই, কত ঘুমের ওষুধ, জরিবটি খেয়েও কিছু হচ্ছে না। তানসেনকে ডেকে ঘুমপাড়ানি গান অবধি গাওয়ানো হয়েছে, তাও কিছু লাভ নেই। অবশ্য ঘুম হবেই বা কিকরে, গত মাসের গোটা লটটা নাকচ করে দিলো কোয়ালিটি অসুয়ারেন্স টিম। ৫০% এর বেশি ডিফেক্ট বেরিয়েছে। উফফ এই নতুন টিমটাকে নিয়েই মহা গেরোয় পড়া গেল, সবেতে এদের খুত বের করা স্বভাব। আবার ফ্রেশ করে তৈরি করতে হবে, যত্ত ঝামেলা।


এসবের উৎপত্তি সেই গেল বারের বোর্ড মিটিং থেকে। সব দেবতারা মিলে সে কি গালাগালিটাই না করলে, ওয়ারকফোর্সের বয়স বেড়ে গেছে, চোখে দেখতে পায় না, হাত চলে না, কোনো টেস্টিং টিম নেই, যা খুশি হচ্ছে, ভুলের মাশুল দিতে মর্তে গুচ্ছখানেক আত্মহত্যা, এভাবে চলবে না। বিশ্বকর্মা মাথা হেট করে শুনতে শুনতেই ভেবে নিয়েছিল এবার একটা হেস্তনেস্ত করা দরকার। বোর্ড মিটিং শেষে ফ্যাক্টরির জি.এম. , চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ওয়ার্কার্স উনিয়ন লিডার আর ট্রেজারার কুবের কে নিয়ে জরুরি সভা বসলো।

জি.এম-র বয়স প্রায় ৭০ ছুঁই ছুঁই, তারসাথে আছে এক অদ্ভুত আফিমের নেশা, সারাদিন খুক খুক করে কাশে নাহলে ঝিময়। হাথে একগাদা খেরোর খাতা নিয়ে, যখন ঘরে ঢুকলো, ওর ওই কাশি শুনেই গা-পিত্তি জ্বলে গেল

বিশ্বকর্মার।

- কি ব্যাপার বিমল? এতক্ষনে আসার সময় হলো?

- আজ্ঞে কত্তা, দুপুরের ভাতটা খেয়ে খুব অম্বল হয়ে গেছিল, তাই একটু কবরেজের কাছে গেছিলাম কিনা....

- উফফ। যত সব ঝামেলা আমারই কপালে জোটে। এর অম্বল, ওর সর্দি, তার বাতের ব্যাথা... যাক গে, বিমল লট নম্বর ১৪১৬৩১৫৩৬০-র প্রচুর কমপ্লেন এসেছে, সব উল্টোপাল্টা হয়েছে। প্রতিটা মন্দিরের কমপ্লাইন্ট বক্স ভরে গেছে, একগাদা আত্মহত্যার চিঠি, সবেতে ভুলের জবাব চেয়েছে, কি হচ্ছেটা কি?

- আজ্ঞে , আমি তো...মানে... দেখেছিলাম...মানে সব তো ঠিকই....

- চোপ!! দেখেছিলাম, মাই ফুট। একেরপর এক কমপ্লেইন, বোৰ্ডমিটিং-এ মাথা হেট হয়ে গেল আমার। এরম ভাবে চললে কিন্তু গোটা প্রসেসটা প্রাইভেটাইস করে দেবে বলেছেন ইন্দ্রদা।

অনেকক্ষন মাথা গুঁজে বসেছিল চিফ ইঞ্জিনিয়ার রায়, কাল রাত্রের গাজার নেশাটা এখনো ঠিক করে নামেনি তার। স্বর্গে স্মোকিং নিয়ে এত কড়াকড়ি, যে স্কোর করেই ফুঁকে দিতে হয়। ধরা পড়লেই মহাদেবের দরবারে বসে ১মাস শুধু ক্রাশ করতে হবে। বিশ্বকর্মার চিৎকার শুনে ঘোরটা কেটেই গেল। হঠাৎ বলে বসলো,

- একটা কিউ.এ. টিম রাখলে হয় না?

বিশ্বকর্মা প্রথমটায় রায়কে দেখতেই পায়নি, কথাটা শুনে ঘুরে বসলো,

- হ্যা? সে আবার কি? গত বিশজন্মে তো শুনিনি।

- স্যার, কিউ.এ মানে কোয়ালিটি আসুয়ারেন্স টিম। ম্যানুফ্যাকচারিং-র পর প্রতিটা প্রোডাক্ট চেক করে সার্টিফাই করে, তারপর ফাইনাল রিলিজ হয়। ওদের রাখলে ক্লায়েন্টের কাছে যাওয়ার আগেই ভুলগুলো বেরিয়ে পরবে, তাহলে বোঝাও যাবে যে কোন ডিপার্টমেন্টর গলদ।

- বাবাহ, এরম টিম হয়? বেশ ভালো তো...তবে খরচাপাতি? তাছাড়া রিসোর্স কোথাথেকে পাবো?

- সেটা তো আপনাদের ব্যাপার, আমি একটা সলিউশন দিলাম, বললে একটা এস্টিমেট শিট-ও তৈরি করে দিচ্ছি।

- উমম.... ঠিক আছে তুমি মেল করো আমায়, মেল আইডি জানোতো?

- হ্যা, ওই তো, biswa.karma@swagro.com ?

- হ্যা ওতেই পাঠাও, ঠিক ১৫ মিনিট সময় দিলাম। কুবেরবাবু রায়ের সাথে বসে পুরো ব্যাপারটা ডিল করুন।

এতদূর বলে, বিশ্বকর্মা বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। মনে মনে ভাবল, না একটু উর্বশির কাছ থেকে ঘুরে আসি, মাথা কাজ করছে না একদম।

রায় আর কুবের মিলে কোনোরকমে একটা খসড়া তৈরি করে মেল করল। কালরাত্রের বেঁচে যাওয়া একটা কলি সবে ক্রাশ করতে যাবে, এমন সময় আর্জেন্ট মিটিং রিকোয়েস্ট এলো বিশ্বকর্মার থেকে। হাথের কাজ থামিয়ে, গিয়ে হাজিরা দিলো ইন্দ্রের দরবারে। বিশ্বকর্মা ওখানে এক নাগারে পায়চারি করে বেড়াচ্ছে, আর মাঝে মাঝে থেমে কি যেন হিসেব করছে। রায় এসে ভয় ভয় ডাকলো,

- স্যার, ডেকেছেন?

ডাক শুনে, বিশ্বকর্মা থামলো, ঘুরে দাঁড়িয়ে রায় কে দেখেই চোয়াল কঠিন হয়ে উঠলো, চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

- নেশার ঘোর কাটিয়ে তবে কাজ করতে আসবে, এরম অদ্ভুত মশকরা করার যায়গা পাওনি, না?

- মশকরা ? কি বলছেন স্যার? আমি তো সব দিক ভেবেই....

- তাই বুঝি, সবদিক ভেবেছো তুমি? তা এই সবদিকে ভাবার মধ্যে, বলো তো ৫০ জন এক্সপিরিয়েন্সড কিউ.এ. কথা থেকে পাবো? আর তাদেরই পেলেও তারা যে কাজ করতে পারবে, তার কি গ্যারেন্টি আছে?

- Sir, taking into consideration the huge amount of production load, atleast 50 people are required to properly test and certify before release, else there is no use, because if they are understaffed, they will be under pressure, errors will occur and ultimately the productivity will be hampered.

একনাগারে, এতটা বলে একটা ঢোক গিললো রায়। অতখানি ইংরেজি একসাথে শুনে, বিশ্বকর্মও চুপ করে রইলো কিছুক্ষণ। এর মধ্যে যমরাজ দেশলাই কাঠি দিয়ে দাঁতের ফাঁকের মাংস কুচি খোঁচাতে খোঁচাতে বললো,

- সবই তো বুঝলুম হে খোকা, তা ৫০টা লোক পাব কেমনে? এ তো ছেলের হাথের মোয়া নয়, যে দোকান থেকে কিনে আনলাম। একসাথে ৫০জন লোক মারলে আবার মরতে কিরম বাওয়াল হবে বুঝতে পারছ?

ইন্দ্রদেব একনাগারে মোবাইলে কি একটা ভিডিও দেখছিল, হঠাৎ মাথা তুলে বলল,

- আরেহ একটা বাস একসিডেন্ট গোছের করলেই তো হয়। মর্তের যা রাস্তার অবস্থা, কাল রাত্রে শোভাবাজারের কাছে ঐরাবত তো হুমরি খেয়ে পরেই যাচ্ছিল প্রায়।

অনেক্ষন ধরে বেশ বোর হচ্ছিল নারদ, ইন্দ্রের শোভাবাজার যাত্রার খবর শুনে হঠাৎ বলে বসলো,

- নারায়ণ , নারায়ণ .... তা ইন্দ্রদেব আপনি হঠাৎ শোভাবাজার কেন? কাছেই তো ওই.... নারায়ণ , নারায়ণ।

ইন্দ্রদেব বেশ অপ্রস্তুত হয়ে, খানিকটা রেগেই বলল,

- না মানে....এমনি ঘুরতে গিয়েছিলাম... অবশ্য তাতে তোমার কি হে? কাজের কথা থাকে তো বলো, নাহলে চুপ করে বসে থাকো।

বিশ্বকর্মা এরম অবান্তর কোথায় বিরক্ত হয়ে বলল,

- আহ, কি হচ্ছেটা কি? আসল কথাটাই হারিয়ে যাচ্ছে এই সবের মধ্যে।

আচ্ছা, যাই হোক, ইন্দ্রদা কথাটা খারাপ বলেননি, কি বলো যমরাজদা ?

- আমি তো বললেমই, হুকুম করলে আমি করেই দেব, বাকি ঝামেলা হলে আমি নেই। তাছাড়া আমারও কিন্তু খানিকটা জমি লাগবে, হাজতে জায়গা প্রায় শেষ, নতুন লোকেদের এনে রাখবো কোথায়?

- সে আমি বানিয়ে দেব, ওসব নিয়ে ভেবো না, তুমি এই কাজে আগে মন দাও। তা ইন্দ্রদা সেটাই ফাইনাল তবে?

ইন্দ্রদেব খানিকটা ঝিমিয়ে গেছিলেন, ডাক শুনে বললেন,

- সে তোমরা যা ভালো বোঝো, কুবেরবাবুর কাছ থেকে হিসেবটা বুঝে নিয়ে কাজে লেগে পরো।

কুবের তখন ফোনে বসে Ozora-র রেট দেখছে Zomato-তে। মুখ তুলে বলল,

- সে হিসেব আমার করা প্রভু, সব ঠিকঠাকই আছে।

বিশ্বকর্মা খানিকটা গলা ভারী করে বলল,

- রায়, এই পুরো ব্যাপারটা তুমি দেখবে, টপ টু বটম তোমার দায়িত্ব। যমরাজদা আপনি কাজে লেগে পরুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার এই প্রজেক্টটা শুরু করতেই হবে। রায়কে নিয়ে একটা লিস্ট করে নিয়ে কাজ শুরু করুন। অবান্তর লোক মারবেন না, এখন যাদের ডেট তাদের মাসখানেক পিছিয়ে দিন, আর বিমলবাবু এখন প্রোডাকসান হালকা করে দিন, আগে এইটা ইমপ্লেমেন্ট হোক, তারপর নরমালিজ করবেন।

"উফ! আমাদের ম্যানেজারের হলো কি বলতো? হঠাৎ সবাইকে নিয়ে পিকনিক? তাও আবার বাস ভাড়া করে?", লাস্ট টেস্টকেসটা রান করিয়ে বলল সুনেহা।

প্রিয়া উত্তর দিলো, "প্রচুর ব্ল্যাকমানি বুঝলি তো, তাই এইসব করে ওহাইট করছে।"

- তাই হবে, নাহলে ওই কঞ্জুসের হাত থেকে টাকা বেরোয়? যাক গে কাল রুবিতে এসে কল করিস।

- হ্যা, ওকে। বেরোলাম রে, টাটা।

"আজ সকালে ৮টায়, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে এক যাত্রীবোঝাই বাসের সাথে এক ট্রেলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ, মৃত প্রায় ৩০, গুরুতর অবস্থায় স্হানীয় হাসপাতালে ভর্তি আরো ২০। সূত্রের খবর অনুযায়ী এই ৫০জন এক বহুজাতিক সফটওয়ার কোম্পানিতে চাকরি করতেন, আজ সকালে তারা বেরিয়েছিলেন পিকনিক-এ। আরো বিশদে জানতে চোখ রাখুন নিউজ এখন-এ"

সকালবেলা এরম মর্মান্তিক খবর, উফফ, সারাদিনটা কেমম যাবে কে জানে। মনে মনে এসব ভাবতে ভাবতে নেহা ডাক পারলো,

"জয়.....এই জয়, ওঠ ৯টা বেজে গেল ।"

অনেক্ষন সারা না পেয়ে, দরজাটা ঠেলে খুলল নেহা। খুলেই পরিত্রাহি চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেল সে। চিৎকার শুনে বিরাজ দৌড়ে এসে দেখলো, পাখার থেকে জয়ের নিথর দেহ ঝুলছে,নীচে টেবিলের ওপর একটা কাগজ,

" আমি আর পারলাম না মা, এই ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট নিয়ে বাঁচতে, পরের জন্মে হয়তো শরীর আর মনের সঠিক মিলন হয়েই আসবো এই পৃথিবীতে। ভগবানের এই উপহাসের সাথে লড়তে লড়তে আমি ক্লান্ত ।"

-----------------------------সমাপ্ত----------------------------

bengali story storymirror tragedy picnic suicide

Rate the content


Originality
Flow
Language
Cover design

Comments

Post

Some text some message..