Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Suroshri Paul

Drama Romance


3.3  

Suroshri Paul

Drama Romance


ফিরে দেখা

ফিরে দেখা

4 mins 2.9K 4 mins 2.9K

পর্ব-১

১লা জুন, ২০৩৪

প্রিয় তুতু,

কেমন আছিস রে? দেখ, এবারেও কিন্তু ঠিক দিনে চিঠিটা পৌঁছে গেলো তোর কাছে। তুই তো আর কোনোদিন স্বীকার করবিনা, তাই তোর কাছে চিঠি পৌছানোর দিনটাই লিখেছি ওপরে। জানি তুই বড়ো ব্যস্ত মানুষ, আবার বাংলায় এতটা লেখা পড়তে ভীষণ বিরক্তও হোস, তাই এবারেও হয়তো আমার আর চিঠির উত্তর পাওয়া হবেনা। সে ঠিক আছে, উত্তর না হয় নাই দিলি, তবে কষ্ট করে হলেও পড়িস শেষ অব্দি ধৈর্য ধরে। প্রত্যেকবারের মতো এবারেও একটা গল্প লিখে পাঠালাম। তবে কি জানিস তো, এবারের গল্পটা আমার একটু বেশিই পছন্দের, খুব কাছের। যদিও এই কাহিনী আর কাউকে কখনো শোনাইনি, লিখিনি কোনো পত্রিকায়, লিখবও না ভবিষ্যতে। শুধু তোকে উপহার দিলাম এটা, যত্ন করে রাখিস যেন।

~ "কি! রুহি, তুই রোদ ভয় পাস? সূর্যের আলো যে ভীষণ পবিত্র রে পাগলী, আর তুই কিনা তাকেই..."

"হ্যা অনিমেষ, ভয় পাই, খুব খুব ভয় পাই। কখনো গ্রীষ্মের রোদ চোখে পড়লে মনে হয় সারা শরীর ঝলসে যাচ্ছে, সূর্যের তীক্ষ্ণ আলোর তীব্র তেজে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে.... আমি যে পারিনা অনিমেষ...." আরো অনেক কথাই বলতে যাচ্ছিল রুহি, কিন্তু থামতে হল ওকে। অনিমেষ ওর কাছে বসে থাকলেও, তার চোখ যে ক্যান্টিনের দোকানটায় দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা চুল, টানা-টানা চোখ, এক কথায় বলতে গেলে অদ্ভুত সুন্দর, রূপসী ওই মেয়েটির দিকে তা ভালই টের পাচ্ছিল রুহি।তাই আলতো করে ওর হাতে একটু খোঁচা দিল, খেয়াল হলে অনিমেষ একটু হেসেই বলে,"ধুর বোকা, ওসব কিছুনা। তুই আমার এতদিনের ভালো বন্ধু, আমাদের মনের কত মিল, তবুও দেখ আমাদের চরিত্রের কত তফাৎ। তুইও একটু আলো ভালোবেসে দেখ, কি ভালোই না লাগবে!"

"আমিও তো তাই চাই। কিন্তু, কি করে পারবো আমি? গত কয়েক বছরে অনেক লোকেই এসব কথা আমাকে বলেছে, কিন্তু কেউ যে আমার পাশে থাকেনা, সবাই চলে যায়। আমিও আলো ভালোবাসতে চাই অনিমেষ, অন্ধকারকে দূরে আমিও রাখতে চাই.... তুই... তুই কি আমার পাশে থাকবি?", মনে মনে বলতে থাকে রুহি। চিরকালই রুহির ঠোঁটের চেয়ে ওর চোখ কথা বলে বেশি। সেদিন যদি অনিমেষ ওর দুটি অসহায়, ক্লান্ত করুণ চোখের দিকে তাকাতো, হয়তো ওর মনের কথা ঠিক বুঝতে পারতো। কিন্তু সেই সময় অনিমেষের ছিল কই, ও যে তখনও ভীষণ ব্যস্ত। দুজনের কথা শেষ হবার আগেই অনিমেষ উঠে পড়ে, রুহিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বুঝিয়ে দেয় ও এনাক্ষীর কাছে যাচ্ছে, ওই যে সেই "রূপসী" মেয়ে। রুহি চিরকালই একটু ধীর-স্থির ধরণের মেয়ে, এক জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। সবার সাথে বেশি কথাও বলতে পারেনা, বিশেষ কিছু মানুষজন ছাড়া। তাই যখনই কারোর সঙ্গ প্রয়োজন হয় ওর, তাকে ডাকতে বেশ ইতস্তত বোধ করে, বেশির ভাগ সময়ই আর ডেকে ওঠা হয়না। কিন্তু অনিমেষের সাথে তার সম্পর্কটা এক্কেবারেই আলাদা। দুবছরের গভীর বন্ধুত্ব; একে অপরের সমস্ত ভালো-মন্দের ভাগীদার তারা, শুধু একটি অনুভূতিই আজ পর্যন্ত রুহি অনিমেষের সাথে ভাগ করে উঠতে পারেনি। অনিমেষের সাথে প্রথম প্রথম স্কুলে ভয়ঙ্কর রকমের ঝগড়া বেঁধে যেত রুহির, তবে পরে এমন একটা সময় আসে, যখন রুহি অনিমেষের বাজে-ভালো সব কিছুই এক স্বচ্ছ আয়নার মধ্যে পড়া প্রতিচ্ছবির মতো দেখতে পেত; সেইদিন থেকেই বোধহয় সে আরো অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে অনিমেষের জন্য। তাই তাকে বারবার ডাকতেও রুহির বেশ ভালোই লাগতো। এবারেও একবার ডাকলো "অনিমেষ, শোন..."। কিন্তু অনিমেষ সাড়া দিলনা। দেবেই বা কিকরে, সে এখন বেশ কিছুদিন ধরে এক অন্য মায়ার মোহে মোহগ্রস্ত।

রুহি দূর থেকে হলেও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, অনিমেষ এনাক্ষীর কাছে গিয়ে যখনই কথা বলতে শুরু করল, সে কিছুটা হলেও বিরক্ত বোধ করে; নাঃ মুখে সে কোন খারাপ কথা বলেনি, তবে তার চোখের চাহনিতে সমস্তটাই স্পষ্ট। অন্যদিকে অনিমেষ একগাল হাসি নিয়ে বোকার মতো এদিক-ওদিকের কথা বলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের কথাবার্তা শুনতে না পেলেও রুহি বেশ ভালোই বুঝতে পারছিল সব, এনাক্ষী তার অঙ্ক বইখাতা অনিমেষের হাতে ধরিয়ে, মিষ্টি হেসে কয়েকটা কথা বলে চলে গেল ক্লাসরুমে। এদিকে অনিমেষ সেই বইখাতা নিয়ে হাসতে হাসতে আবার রুহির উল্টোদিকের চেয়ারটা টেনে বসে পড়ল। গল্পের পাঠ তো চুকেই গেল, তার ওপর আবার জীবনে প্রথমবার রুহি অনিমেষকে ক্যান্টিনের টেবিলে বসে ইন্টিগ্রেশনের অঙ্ক করতেও দেখে নিলো। বেশ কিছুটা অভিমানী সুরেই অনিমেষকে বলল, "বাবাঃ, আর তো কদিন পরেই বারো ক্লাসের টেস্ট পরীক্ষা শুরু হবে, ওর বইখাতা নিয়ে তুই অঙ্ক করছিস যে!" অনিমেষ কিছুটা হেসে উত্তর দেয়,"আর বলিসনা, ওই যে আমাদের ক্লাসের নিখিল আছে না, ওর সাথে আজ বিকেলে সিনেমা দেখতে যাবে বললো ইনু, আর এই অঙ্কগুলো করতে ওর একটু অসুবিধাই হয়, আমায় বললো সাহায্য করতে। তাই আর কি, হেহে...."

"এই তো কদিনের আলাপ, এখন থেকেই ইনু মিনু! কই আমার প্রতি তো এত প্রেম দেখিনা!" চোখদুটো অন্যদিকে ঘুরিয়ে বলে রুহি। অনিমেষ এবার ওর হাতের পেনটা রুহির গালে হালকা করে বুলিয়ে বলে,"ওমা! আমার বান্ধবীটা রাগ করলো নাকি? তুমি তো বাবু এমনিতেই আমাদের টপার, সাহায্য তো তুমি আমাকে করবে গো!" রুহি হেসে ফেলে। মুখ ভেঙিয়ে বলে,"তোকে না আমি একদিন মেরেই দেবো দেখিস" ; "তা ম্যাডাম, কিকরে মারবেন একটু শুনি?" ; "কেন তুই জানিসনা, আমি তো কালজাদু জানি, রাত্রিবেলা বাঘের বেশে তোর ঘরে ঢুকবো পা টিপে টিপে, তারপরই ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে.... হালুউউউম্ম!!!"....এভাবেই রোজ সারা ক্যান্টিন দুটি একাত্ম সত্তার প্রাণখোলা হাসির ধ্বনিতে ভরে উঠতো। সেদিন রুহি রাগ দেখালেও অনিমেষের এই ছোট খাটো খামখেয়ালী বোকামী দেখে মনে মনে তার জন্য প্রেমটা আরো অনেকটা গভীরতর হয়েছিল।

সেদিন বাড়ি গিয়ে অনেক চেষ্টা করেও রাতে ঘুমাতে পারেনি রুহি। মাথায় শুধু অনিমেষের বলা সেই কথা ঘুরছে, "...তুইও একটু আলো ভালোবেসে দেখ, কি ভালোই না লাগবে"....

☺️গল্প চলছে, গল্প চলবে😊.... গল্পের দ্বিতীয় এবং শেষ পর্ব আসবে শীঘ্রই। ততক্ষণ, সবাই সঙ্গে থেকো..


Rate this content
Log in

More bengali story from Suroshri Paul

Similar bengali story from Drama