STORYMIRROR

Mahfuz Abir

Thriller

3  

Mahfuz Abir

Thriller

মার্ডার

মার্ডার

4 mins
10

মা বাবার একমাত্র সন্তান। নাম তার আয়াত। আয়াতের বয়স ১৬ বছর। আয়াত একদিন স্কুলে যাওয়ার সময় অচেনা একটা বাড়ি থেকে একটা মেয়ের চিৎকার কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পায়। মেয়েটা বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করতেছে এরকম আওয়াজ শুনতে পায় আয়াত। আয়াত তখন দৌড়ে গিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। আর দেখে যে একটা ছেলে ঘর থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ছেলেটার জামা কাপড়ে রক্তের দাগ।আয়াত তখন ঘরের ভেতর প্রবেশ করা মাত্রই দেখতে পায় একটা মেয়ের লাশ। মেয়েটার বয়স ১৫ থেকে ১৬ হবে। আয়াত এই দৃশ্যটা দেখে অনেক ভয় পায়। এবং আয়াত নিশ্চিত হয়ে গেছে যে মার্ডারটা করেছে নাঈম। তাহলে নাঈম কে? ঘর থেকে দৌড়ে যে ছেলেটা পালিয়ে গেছে তার নামই নাঈম।আয়াত নাঈমকে আগে থেকেই চিনতো। নাঈম আর আয়াত সমবয়সী। আয়াত নাইমের সাথে পাড়ায় অনেক ক্রিকেট খেলেছে। আয়াতের মাথায় তখন একটা প্রশ্ন ঘুরপাক করছে। নাঈম এর সাথে এই মেয়েটার কি সম্পর্ক? আর পাশের বাড়িগুলো থেকে মেয়েটার চিৎকার শোনার কারণে অনেক মানুষ চলে আসে। আর দেখতে পাই যে একটা মেয়ের লাশ এবং তার সামনে বসে আছে আয়াত। সবাই ভেবে নেই এই মার্ডারটা করেছে আয়াত। কারণ নাঈম মেয়েটাকে জঘন্যভাবে মার্ডার করেছে। নাঈম মেয়েটার মাথায় একটা চুরি এবং বুকে একটা চুরি গুঁজে দিয়ে মেয়েটাকে মার্ডার করেছে। আর আয়াত যখন এই চুরিগুলো মেয়েটার মাথা এবং বুক থেকে সরাতে যাবে তখনই মানুষজন চলে আসে আর ভেবে নেয় যে খুনটা আয়াতি করেছে। সবাই আয়াতকে খুনি হিসেবে দোষারোপ করছে। আয়াত চিৎকার করে বলতেছে আমি এই খুনটা করিনি এই খুনটা করেছে নাঈম। কিন্তু কেউই তার কথা পাত্তা দিচ্ছে না। সবাই তাকে দোষারোপ করছে। সঙ্গে সঙ্গে লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। আয়াত তখন ভাবতে থাকে এখান থেকে বাঁচতে হলে তাকে পালাতে হবে। আয়াত পুলিশের গাড়ির আওয়াজ শোনা মাত্রই,সবার হাত থেকে বেরিয়ে ভাঙ্গা জানালার ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়। আয়াত ২ বছর পালিয়ে পালিয়ে থাকে। আর এই দুই বছর আয়াত প্রতিশোধেরস্পৃহা নিয়ে পালিয়ে থাকে। পরবর্তীতে দুই বছর পর আয়াত তাদের পাড়ায় ছদ্দবেশে ফিরে আসে। ফিরে এসে আয়াত আয়াতের বাড়িতে যায়। দেখতে পাই যে, বাড়ির দরজায় তালা ঝুলানো। আয়াত পাড়ার একজন লোককে জিজ্ঞেস করে, এ বাড়ির মালিকরা কোথায়? তখন ঐ লোকটা বলে, মালিকদের ছেলে আয়াত একটা মার্ডার করেছে। তাই খুনি আয়াতকে না পাওয়াতে পুলিশে আয়াতের মা বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। আয়াত বলে, তারা এখন কোথায়? লোকটা বলে, তারা এখন কারাগারে। আয়াত তখন ভাবতে থাকে আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হলে এবং আমার মা বাবাকে ফিরে পেতে হলে আমাকে সব কাজ ঠান্ডা মাথায় করতে হবে। আয়াত তখন ছদ্মবেশে নাঈমের বাড়িতে একজন দারোয়ান হিসেবে চাকরি করে। এভাবে নাঈমদের বাড়িতে চাকরি জীবনটা অনেক দিন পার হয়ে যায়। কিন্তু নাঈমের থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য কোন সুযোগ পাচ্ছে না আয়াত। একদিন নাঈমের পরিবারের সবাই বেড়াতে য়ায় কিন্তু নাঈম যায় না। আয়াত তখন ভাবতেছে ঠিক এই সুযোগটা আয়াত এতদিন ধরে খুজতেছে। আয়াত নাঈমের ঘরে প্রবেশ করে। তখন নাঈম বলে কি ব্যাপার! তুমি এখানে কি করছো? আয়াত বলতে থাকে প্রমাণ সংগ্রহ করতে এসেছি। নাইম তখন হতভম্ব হয়ে যায় আর বলতে থাকে কিসের প্রমাণ। আয়াত তখন ছদ্মবেশ খুলে পেলে। তখন নাঈম আয়াতকে দেখে আতকে উঠে।আয়াত সঙ্গে সঙ্গে তার পকেট থেকে বন্দুক বের করে নাঈমকে ভয় দেখিয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকে কেন মেয়েটাকে মার্ডার করছিস? নাঈম ভয়ে বলতে থাকে যে, নাঈম মেয়েটাকে অনেক পছন্দ করতো কিন্তু মেয়েটা নাঈম কে পছন্দ করত না। নাঈম মেয়েটাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিল কিন্তু মেয়েটা কিছুতে রাজি হয়নি। তাই নাঈম মেয়েটাকে মার্ডার করে। আয়াত তখন বলতে থাকে আর এইজন্য তুই একটা মেয়েকে খুন করে ফেলবি। আজ তোর জন্যই এ মার্ডার কেসের দোষটা আমার গায়ে এসে পড়েছে। আর আমার মা বাবা এই দুই বছর কারাগারে থেকে জীবন কাটাচ্ছে। এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারবো না নাঈম। এতক্ষণে নাঈম যা যা বলছিল আয়াত সব রেকর্ড করে ফেলেছিল। আয়াত সংগ্রহ করা প্রমাণ,নাঈমের রেকর্ড পুলিশকে শোনায়। আর সঙ্গে সঙ্গে আয়াত নির্দোষ প্রমাণিত হয়। সেই দিনই পুলিশ আয়াতের মা-বাবাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে দেয় এবং আয়াত আয়াতের মা-বাবাকে ফিরে পায়। আয়তের মা বাবা তখন আয়াতকে জড়িয়ে ধরে অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকে আয়াতও কাঁদতে থাকে। আয়তের মা বাবা বলে, আমরা জানতাম বাবা আয়াত তুই এই কাজটা করতে পারিস না তুই ঠিকই একদিন আমাদেরকে নিতে আসবি আমরা জানতাম। পরবর্তীতে পুলিশ নাঈমের বাড়িতে যায়। আর দেখতে পায় যে ঘরের ভেতর পড়ে রয়েছে নাঈমের লাশ। নাঈমকে কেউ একজন মার্ডার করেছে কিন্তু সেটা কে? কেউ জানে না। নাঈম যেদিন খুন হয় সেদিন নাঈমের বাড়ির দারোয়ান ও নিখোঁজ হয়ে যায়। নাঈমের পরিবার ভেবে নেই যে তাদের বাড়ির দারোয়ানীই নাঈমকে খুন করেছে। কিন্তু দারোয়ান তো ছিল আয়াত আর সেটা ছিল ছদ্মবেশে তার জন্য কেউই আয়াতকে চিনতে পারেনি।

একটা দীর্ঘশ্বাস পেলে জানালার পাশে বসে ভাবতেছে আয়াত, পৃথিবীটা বড় অদ্ভুত রকমের। পৃথিবীতে প্রতিশোধেরস্পৃহাগুলোও হয় বড় অদ্ভুত রকমের। অদ্ভুত রকমের ভয়ানক। 


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Thriller