Indrani Samaddar

Abstract Comedy Others


4.3  

Indrani Samaddar

Abstract Comedy Others


লকডাউনের ডাইরি (সপ্তম পর্ব)

লকডাউনের ডাইরি (সপ্তম পর্ব)

3 mins 368 3 mins 368

 

আজ বেশ বেলায় ঘুম ভাঙ্গল। সকাল সকাল মনের ঘড়ির অ্যলার্ম বারবার বলছিল জানলার দিকে তাকাও। সূর্য্যকে দেখে শেখো। সেই ভোরবেলায় মুখে মাস্ক লাগিয়ে কাজে চলে এসেছে। লাগডাউন বলে সেতো আর কাজে ফাঁকি দেয়নি। শুধু মানুষ জনের সূর্য প্রণাম করা দেখলে একটু দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ঘুমের মধ্যেও সেকথা শুনে আমি খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে উঠলাম। হেসো না হেসো না। সবারি মনে ভয়। করোনার ভয়, তাই কেউ সূর্যর দিকে তাকিয়ে প্রণাম করলেই সঙ্গে সঙ্গে সূর্য তার তেজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তখন সেই মানুষের চোখ রোদের দিকে তাকালে ঝলসে ওঠে। তখন সেই মানুষ মনে মনে সূর্য দেবতাকে স্মরণ করে তাড়াতাড়ি বাড়ির পথে পা বাড়ায়।

আবার একটু ঘুম ঘুম ভাব। সবে আসছে, আসছে করছে কিন্তু এলোনা? এলো আমার আত্মজা- মা ঘুমোচ্ছ ? আমি বলি- না মনের রান্নঘরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে রান্না করছিলাম। মেয়েকে বলি ‘কখন উঠলে ঘুম থেকে ’। মেয়ে বলে ‘তুমি যখন ঘুমের মধ্যে হাসছিলে। তখনি ঘুম ভাঙ্গল। ব্রাশ করেই তোমার কাছে এলাম।’ আমি হেসে বলি বেশ করেছো। ঘুম থেকে উঠে পড়ি। ব্রাশ করতে করতে ভাবি এক্ষুনি যদি আমার জন্য এক কাপ ধুমায়িত চা নিয়ে কেউ আমার মুখের সামনে ধরে। ইউরেকা– আমি যা দেখছি ঠিক দেখছি? চোখ কচলে দেখি চায়ের কাপ ধপাস করে বিছানায় রেখে প্রাণনাথ দরজার দিকে হাঁটা দিচ্ছে। আমার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে রোকে রোকে। এবার চলমান মানুষ ঘুরে আমার দিকে কটমট করে তাকালো। আমার প্রাণনাথ রেগে গড়গড় করতে করতে বলে- ‘ আমি কী বাস? রোকে রোকে করছ কেন ?’ আমি বলি দাঁড়াও বলেই প্রাণনাথের হাতে একটা চিমটি কাটি। সে রেগে বলে চা নিয়ে আসার ফলে গৃহ নির্যাতনের স্বীকার হলাম। আমি বলি, আরে না বললেও কিছু বোঝ না । সেখানে না চাইতেই জল মানে গরম জল+ দুধ+ চিনি+ চাপাতা = চা। আর তোমার ভালোবাসা মিশ্রিত শ্রমকে বাদ দিলাম। চায়ে চুমুক দিতে দিতে বাবার ফোন –‘মামনি ভালো আছিস তো ? তোদের পেপার আর দুধের প্যাকেট নিয়ে এসেছি।’ আমি জানাই নিয়ে আসব পেপার ও দুধ । চা খাওয়ার পর মেয়ের জন্য ম্যাগি করলাম। টিভির ঘরে জোর আলোচনা বিষয়বস্তু ‘করোনা’।  আর্যপুত্র ও রাজমাতার মধ্যে এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা, পরিণতি মতভেদ। আমি আর্যপুত্র তথা প্রাণনাথকে বলি, সারাদিন করোনা করোনা নাম না জপে একটু কাজ করোনা। কড়াইটা ঘসে ঘসে মাজোনা। ক্যালরি ক্ষয় করতে চাইলে হাতে ঝ্যাঁটা নিয়ে ঘর ঝাড় দিয়ে দেখো দারুন ব্যায়াম। তারপর মপটা জলে ভিজিয়ে হাতে নিয়ে সারা বাড়ি ছোটো আর হাত দিয়ে চেপে চেপে মোছ। একটু জলজলে থাকবে সে থাক। আমি অত খুঁতখুঁতে নই। টু ইন ওয়ান। কাজ হবে আবার ক্যালারিও ঝরবে। দারুন ব্যাপার। কিন্তু দারুন ব্যাপার হোলোনা । সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ! ভালো কথাও কেউ ভালো ভাবে নেয় না। ফলত প্রাণনাথ মুখভার করে ঘরের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মাঝে মাঝে ফোনে জ্বালাময়ী বক্ততা দিচ্ছেন। নতুন ফতেয়া জারি হয়েছে কাল থেকে সে অন্য কোনও নারী নয় শুধু মায়ের হাতের খাবার খাবে। আপাতত রাজমাতার কপালে ভাঁজ।  



Rate this content
Log in