Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Amitav Ganguly

Drama


5.0  

Amitav Ganguly

Drama


বিশ্বাস করা যায় না

বিশ্বাস করা যায় না

8 mins 1.8K 8 mins 1.8K

বিশ্বাস করা যায় না


জীবনের অন্য দিক থেকে এসে মেয়েটি ন্যায় পেল কি ? প্রেমিক সাথে ছিল ? কি এই প্রহেলিকা?



রোহিত কিন্তু এই ব্যাপারে একদম উৎসাহিত হচ্ছিলো না । planchette এ ও বিশ্বাস করতো না। প্রেতাত্মাকে আহ্বান করে, তার সাথে যোগাযোগ করা যায়, সেটা ওর একেবারে আজগুবি মনে হতো।


এবং সেই কথাটাই বন্ধু রূপম কে বললো। বন্ধু কিন্তু, এটার ঘোর বিশ্বাসী।


"তোমার অসুবিধে কি হচ্ছে, রোহিত ? ভয়ে পাচ্ছ ? কিছু হবে না । বরং এটা তোমার দারুন experience হবে।"


রোহিত মাথা নাড়লো, "তা নয়, পুরো জিনিসটাই আমি ভুয়ো মনে করি। "


রূপম উত্তর দিলো:-

" কেন ? যুগে যুগে সারা পৃথিবী তে অনেকে এটা বিশ্বাস করেন । আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর planchette করতেন ; তাছাড়া তুমি এটা নিশ্চই জানো, এটা বহু গন্যমান্য মানুষের বিভিন্ন ভাবে সহায়ক ছিল। সে সব কি মিথ্যা ?

তোমায় জানাই - planchette, অনেক প্রকারে করা যায়। একটা পদ্ধতি হচ্ছে, Ouija বোর্ড দিয়ে । বিভিন্ন বর্ণমালার অক্ষর, সংখ্যা, প্রতীক এবং গ্রাফিক্স সহ "হ্যাঁ", "না", শব্দগুলির সাথে চিহ্নিত এটা একটি সমতল বোর্ড। এর উপর থাকে একটি প্লাস্টিকের হৃদয় আকৃতির টুকরা, তার নিচে দুটো ছোট চাকা ও একটি তৃতীয় পায়া, যেটা পেন্সিল অথবা আরেকটা চাকা। এই পুরো জিনিষটা Ouija বোর্ড এর উপর রাখা থাকে।অংশগ্রহণকারীরা তাদের আঙ্গুল planchette এর উপর রাখেন, এবং সেটা স্থানান্তর হয়ে, কিংবা পেন্সিলের দাগে, প্রেতাত্মার কথা বোঝা যায়।"


এরপর রোহিতের অপ্রত্যয়ী চেহারা দেখে রূপম বললো, "তুমি এটা বিশ্বাস করো কিংবা না করো, আমার মনে হয়ে planchette করলে কোনো ক্ষতি হবে না বরং কিছু জানা যাবে।"

এতসব শুনে রোহিত একটু ভাবলো, " কিন্তু এটা আমি বুঝতে পারছি না , তুমি planchette কেন করতে চাও ? এতে কি বোঝা যাবে যেটা আমরা অন্য কোনো উপায়ে জানতে পারবো না?"


রূপম একটু চুপ থাকবার পর বললো, "তুমি কি সুস্মিতা কে ভুলে গেলে ? এটা নিশ্চই মনে আছে- পাঁচ মাস আগে - জানুয়ারী 4th - সকাল ৮.০ নাগাদ ওর মৃত্যু হয়েছিল; নিজের বাড়ির সিঁড়ি থেকে গড়িয়ে পড়ে spinal cord ভেঙে যায়। ও তখন কলেজ যাবার জন্যে বেরোচ্ছিল। সে সময়ে আমরা সকলে ভেবেছিলাম, তাছাড়া পুলিশ অবধি তদন্ত করে জানিয়েছিল, এটা একটা দূর্ঘটনা।"


একটু থামার পর চিন্তিত ভাবে রূপম শুরু করলো, "হয়তো পুলিশ কেস close করেছিল, কিন্তু এ কদিন আমার মনে একটা সন্দেহ হচ্ছে । এটা মনে হয়ে একটা cold blooded murder !


রোহিত ভুরু কুঁচকে রূপমের দিকে তাকালো । ও কি করে ভুলতে পারে সুস্মিতার মৃত্যু ?


"এরকম মনে হবার কি কারণ হতে পারে ?"


রূপম আবার বলতে শুরু করলো:-


"যে দিন এই মৃত্যু হয়ে সেই দিন সুস্মিতার বাড়িতে কেউ ছিল না, তার উপর ভিত্তি করে পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, মৃত্যূ একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কাহারও হাত ছিল না.... কিন্তু তোমার মনে পড়ে, যখন আমরা দুজন বাড়ির সামনে পান দোকানের মালিক কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন বলেছিলো সে একটা অচেনা লোক কে দেখেছিলো বাড়িতে ঢুকতে ? বাইরে আসতে অবশ্য দেখেনি। ঘটনার সময়ে, দোকানের মালিক সুস্মিতার মৃত্যুর আর্তনাদ শুনে পুলিশ ডেকেছিল; তারপর দরজা ভেঙে বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাহলে লোকটা কে ছিল ? দোকানের মালিক বলতে পারেনি! সেই কি খুনী ছিল ? উদ্দেশ কি? অনেক খোঁজ করবার পরও পুলিশ এই রহস্য উদ্ধার করতে পারলো না।"


রোহিত বললো , "এ ছাড়া আর কি জানো ?"


রূপম উত্তর দিলো, "পুলিশের থেকে খোঁজ নিয়ে বুঝতে পারছিলাম, সেই বাড়ির একটা পেছনের দরজা ছিল- যেটা সেলফ লকিং, ভেতর থেকে খুলে বাইরে বেরিয়ে টেনে দিলে বন্দ হয়ে যায় । তাহলে সেই লোক যদি সুস্মিতা কে খুন করে সেই দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়, কেউ বুঝতে পারবে না। মনে হবে মৃত্যুর সময়ে বাড়িতে কেউ ছিল না!"


"এটা তো বুঝতে পারলাম, কিন্তু… " রোহিত জিজ্ঞেস করলো , "… তুমি তাহলে এই খুনের কিনার করতে চাইছো ?"


"ঠিক তাই ।" রূপম বললো। "Planchette করে আমরা সুস্মিতার আত্মা নামাবো ও জিজ্ঞেস করবো - ও কি খুন হয়েছিল আর তাই যদি হয়ে থাকে , তাহলে ওর খুনী কে? এতে কিন্তু তোমার সাহায্য দরকার ।"


এই সব শুনে, আস্তে আস্তে, রোহিতের মন, মর্মাহত হচ্ছে । গত কয়েক মাসে সুস্মিতার মৃত্যুর ব্যাপারটা একটু সামলে নিয়ে ছিল, কিন্তু এখন সেই ঘা আবার তাজা হয়ে গেলো । নিজেকে সামলে বললো, " কি করতে হবে বলো ? আমি তোমার সাথে আছি।"


রূপম বললো, "আমরা planchette করবো, আজ রাতে । তুমি আর আমি তো থাকবোই। সাধন কে ডেকে নেবো । ও সুস্মিতা কে ভালোভাবে চিনতো । সব ব্যবস্থা আমার বাড়িতে হবে।"

--------------------------------------------------------------------------------------

সেই রাতে, ওরা তিন জন একত্রিত হয়েছে । বসবার ঘর আধা অন্ধকার। কার্পেটের মাঝে গোল টেবিল ঘিরে, তিনজনে বসে আছে। তার উপর Ouija বোর্ড রাখা আছে। এই সমতল বোর্ডের উপর হৃদয় আকৃতির প্লানচেটতে ও রাখা। তিন বন্ধু তাদের ডান হাতের তর্জনী প্লানচেটতে এর উপর রেখেছে এবং সবাই একাগ্র মনে সুস্মিতার কথা ভাবছে- সবার মনে চলছে দুটো প্রশ্ন - সে খুন হয়েছিল কি? তবে কে খুনী?


প্রায় পনেরো মিনিট কেটে গেছে , সবার চোখ বন্ধ ও শরীর নিশ্চল। পাশের ঘরের দেয়ালে টাঙানো ঘড়ির চলার আওয়াজ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। দূরে রাস্তায় যানবাহন চলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।


সাধন ধীরে বললো, "আর কত সময়ে লাগবে? ধৈয্য আর থাকছে না ...।"


রূপম মাথা নেড়ে ওকে থামাতে গেলো, ঠিক সেই সময়ে সবাই টের পেলো যে planchette চলতে শুরু করেছে ... খূবই অল্প ভাবে ... !


তারপর সেটা স্থানান্তর হতে লাগলো ... মনে হচ্ছে সুস্মিতার প্রেতাত্মা কথা বলছে ! সবাই এরমধ্যে চোখ খুলেছে ।


প্রথমে " হ্যাঁ" শব্দ এর উপর planchette থামলো । তার মানে সুস্মিতা মানছে - ওকে খুন করা হয়েছে! তারপরে ওটা চলছে ... পরের শব্দ "রো " ... তারপরের শব্দ "হি" । এই সময়ে বাড়ির কলিং bell বেজে উঠলো ও সঙ্গে সঙ্গে পুরো ব্যাপারটা থেমে গেলো । রূপম উঠে গেলো দরজা খুলতে !তারপর অনেকক্ষণ অপেক্ষা করবার পর ও কিছু হলো না , বোঝা গেলো বাধা পেয়ে , সুস্মিতা চলে গেছে ।


তাহলে খুনীর নাম তো স্পষ্ট হলো না ?


কিন্তু যেটা জানা গেলো সেটা হচ্ছে দুটো শব্দ - একসাথে- "রোহি"... তার মানে কি "রোহিত" বোঝাচ্ছে? "


সে কি তাহলে খুনী?


এটা তো পুরোপুরি অসম্ভব !!


এই ঘটনার পর, সাধন ও রূপম এর ধারণা, কোথাও বিরাট ভুল হচ্ছে !


রোহিতের মানসিক অবস্থা ও শোচনীয়! সে তো সুস্মিতা কে ভালোবাসতো! এটা সুস্মিতা নিজের জীবন কালে বুঝতো না ? সেই ভালোবাসার মানুষকে সে কি করে এরকম ভয়ানক অপরাধের দোষ লাগাতে পারে ?


সারা রাত রোহিত ঘুমোতে পারলো না; মন ছটপট করছিলো ।


ভোরের আলোতে মনটা যখন একটু শান্ত হলো তখন ঠান্ডা মাথায় ভাবতে শুরু করলো ।


কে এই খুন করতে পারে? যার নাম শুরু হচ্ছে "রোহি ..." দিয়ে ! নিশ্চই কেউ যাকে সুস্মিতা চিনতো। কোনো বন্ধু ?


চিন্তা করতে করতে রোহিতের মনে পড়লো একটি নাম । বেশ কয়েকবার সুস্মিতা এই নাম বলেছিলো; সেই লোকটা তাকে প্রেম ঘটিত বাসনা জানিয়ে অনেকবার বিরক্ত করেছে ! সুস্মিতা বলতো, লোকটা পাগল ! ওকে পাবার জন্যে বিপদে ফেলতে পারে। যেহেতু বাবার জানাশোনা ছিল, সুস্মিতা তাকে এড়াতে পারতো না; তবে ওকে কখনো বাড়িতে আসতে দেয়নি । হয়তো পুলিশ এ complaint করবার ইচ্ছে ছিল।


লোকটার নাম- "Rohington ."


রোহিতের নিঃস্বাস কয়েক মুহূর্তের জন্য আটকে গেলো ! সত্যি তো । ওই নাম শুরু হয়েছে, "রোহি..." দিয়ে !


সেই কি তবে খুনী ? যার নাম planchette দিয়ে সুস্মিতা বলতে চেয়েছে, কিন্তু বাধা পেয়ে পুরোপুরি বলতে পারেনি ?


-------------------------------------------------------------------------


তারপরের কয়েক দিন রোহিত ভীষণ ব্যস্ত রইলো। সাথে রূপম ছিল ।


রোহিতের কাজ ছিল- Rohington কে সন্ধান করা ।


----------------------------------------------------------------------------------

সেই মঙ্গলবার সকালে রোহিত সুস্মিতার বাড়ির সামনে পান দোকানের মালিক কে Rohington এর ছবি দেখালো ।


"এই কি সেই লোক যে খুনের দিন সকালে সুস্মিতার বাড়িতে ঢুকেছিলো ?"


যখন দোকানের মালিক ছবি চিনতে পারলো তখন রোহিত সোজা পুলিশ এর কাছে গেলো ও সব ঘটনা খুলে বললো ।


কিছু আলোচনার পর পুলিশ জানালো, এতে প্রমাণ হয়না, Rohington খুন করেছে , তবে এটা সত্যি, সুস্মিতা মারা যাবার পূর্বে সে বাড়িতে ছিল।


------------------------------------------------------------------------------------


পুলিশের তলব পেয়ে সেদিন দুপরে Rohington কোতোয়ালি থানায় এসে পৌঁছলো । রোহিত এবং রূপম, ওর জন্যে অপেক্ষা করছিলো।


ইন্সপেক্টর সামন্ত এর সামনে, তিনজনে বসে।


ইন্সপেক্টর Rohington কে বললেন, " I want to brief you about the death of Ms. Sushmita whom we understand you knew very well. I believe only you can help me to catch the murderer. ”


Rohington ভ্রুকুটি করে উত্তর দিলো, “I do not know why I should listen to your crap. I know nothing about the death of Ms. Sushmita. I hardly knew her.”


“Any way you have to listen to me whether you like it or not .” ইন্সপেক্টরের আওয়াজ গম্ভীর।


তারপরে তিনি সব ঘটনা বললেন, planchette এর ঘটনা বাদ দিয়ে ।


সব শুনে Rohington এর মেজাজ আরও খারাপ - উঁচু স্বরে বলল, "This proves nothing, Inspector! So, what if some “paanwala” had seen me enter the house, identified me! That does not mean that I had killed her. I had gone to her to speak about some personal matters after which I left from the back door. That’s not illegal. So, don’t waste my time, Inspector. I am going ...”


ইন্সপেক্টর এবার একটা চাতুরী করলেন, "Don’t run way Rohington, that house had a CCTV camera which had recorded all your criminal activities." ইন্সপেক্টর বোধহয় চেয়েছিলেন Rohington, ঘাবড়ে, সত্যি কথা বলবে ।

কিন্তু মনে হলো Rohington শুনেও শোনেনি। উঠে দাঁড়ালো, তারপর একটা বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টি রোহিতের দিকে ছুঁড়ে, বেরিয়ে যাচ্ছিলো, হটাৎ:-

একটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো !

Rohington থেমে গেলো, দূরে জানলার দিকে একদৃষ্টি তে তাকাতে, মুখের উপর একটা ভয়ানক আতঙ্কের ছায়া নেমে এলো - কোনোরকমে ফিরে এসে চেয়ার এ বসে মুখ ঢেকে নিলো !


কিছূক্ষণ পর কাঁপা গলায় শুরু করলো:-

" I am a murderer ! I killed Sushmita! I wanted her, I wanted to make love to her, but she had refused me that day! She slapped me, threatened to go to the police about rape! I lost my mind and pushed her down the stairs. God knows, I didn’t want her dead! So, help me, God!"

এরপর চেয়ার থেকে নেমে,হাঁটু গেড়ে বসে, ইন্সপেক্টর এর দিকে হাতজোড় করে ফোঁফাতে শুরু করলো !

রোহিত আশ্চর্য ভাবে তাকিয়ে আছে- এটা একটা আজব ঘটনা ! Rohington সুস্মিতার খুনের অপরাধ এতো সহজ ভাবে স্বীকার করছে !! এটা কি করে সম্ভব? এটা কি ইন্সপেক্টরের " CCTV ক্যামেরার" চাল, না আরো কোনো ভৌতিক ব্যাপার! এটা কি সুস্মিতা করালো? বিশ্বাস করা মুশকিল !


তবে এবার সুস্মিতার ন্যায়বিচার হবে !

END

অমিতাভ গাঙ্গুলী

27th মার্চ 2019


Rate this content
Log in

More bengali story from Amitav Ganguly

Similar bengali story from Drama